অর্থ খোয়ার বিষয়টি ধামাচাপা দিতে চেয়েছিল বাংলাদেশ ব্যাংক

164

যুগবার্তা ডেস্কঃ বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ থেকে ৮০০ কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার ঘটনার বিষয়ে অবহিত নয় সরকার। বিষয়টি ধামাচাপা দিতে ব্যাংকের দুটি পর্ষদ সভায় বিষয়টি উপস্থাপন করেনি বাংলাদেশ ব্যাংক। বাংলাদেশ ব্যাংকের এ রকম আচরণে নাখোশ অর্থ মন্ত্রণালয়। অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত বলেছেন, অর্থ চুরির বিষয়টি তাকেসহ অন্যদের না জানিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক ‘ধৃষ্টতা’ দেখিয়েছে। এ জন্য কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে বলেও হুঁশিয়ারি দেন তিনি।
তিনি জানান, অর্থ চুরির বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে। তবে কী ব্যবস্থা নেয়া হবে- এমন প্রশ্নের জবাবে মুহিত বলেন, তিনি প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করবেন। এরপর কী ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে তা সাংবাদিকদের জানানো হবে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অর্থ চুরির বিষয়টি দীর্ঘদিন অর্থমন্ত্রীকে না জানানোর বিষয়টি তিনি কীভাবে দেখছেন?- এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘অর্থ চুরির পর দুই মাস অতিবাহিত হলেও আমাকে জানানো হয়নি। বাংলাদেশ ব্যাংক সত্যিই ধৃষ্টতা দেখিয়েছে।’
এদিকে, রোববার দুপুরে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব ড. এম আসলামুল আলম বলেন, রিজার্ভের অর্থ খোয়া যাওয়ার বিষয়টি জানতে এসেছি। এর আগে বাংলাদেশ ব্যাংকের দুটি বোর্ড সভায় (২৮ ফেব্রুয়ারি ও ১ মার্চ) বিষয়টি উপস্থাপনই করেনি অডিট কমিটি। কেন এমনটি করা হয়েছে তা খতিয়ে দেখা হবে। আমি বিষয়গুলো অর্থমন্ত্রীর কাছে উপস্থাপন করব। গভর্নর ফিরলে পরশু (মঙ্গলবার) বিষয়টি জরুরি বোর্ড সভা বসতে বাংলাদেশ ব্যাংককে অনুরোধ করেছি।
আসলাম আলম বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো তদন্ত কমিটি করা হয়নি। ব্যাংকের ফিন্যান্সিয়াল সেক্টর সাপোর্ট প্রোগ্রামের আওতায় বিষয়টির ওপর কাজ চলছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষ থেকে ইতোমধ্যে ফরেন্সিক এক্সপার্ট নিয়োগ করেছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সব কম্পিউটারসহ পুরো সিস্টেম পরীক্ষা-নিরীক্ষা করছে তারা। এ কাজের রিপোর্ট পেতে বেশ সময় লাগবে।
এম আসলাম বলেন, প্রাথমিক তদন্তে বাংলাদেশ ব্যাংকের আইটির দুর্বলতার বিষয়টি উঠে এসেছে। এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রযুক্তিগত নিরাপত্তা ব্যবস্থার ঘাটতি থাকার কারণেই এমনটি হয়েছে। এ ক্ষেত্রে পুরো সিস্টেমে দুর্বলতাসহ দক্ষ জনবলের অভাব ছিল। যারা আছে তাদেরকে সেভাবে প্রশিক্ষিত করা হয়নি।
তিনি বলেন, হ্যাকিংয়ের মাধ্যমে মোট ৯৫১ মিলিয়ন ডলার চুরি চেষ্টা হয়েছিল। প্রকৃত চুরির পরিমাণ ৮১ মিলিয়ন ডলার। এর মধ্যে ৬৮ হাজার ডলার ফেরত পাওয়া গেছে। ফেরত পাওয়া অর্থ ইতোমধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভে বাংলাদেশ ব্যাংকের অ্যাকাউন্টে জমা হয়েছে। বাকি অর্থ প্রসেস হয়ে ব্যাংকিং সিস্টেমের বাইরে চলে গেছে।
গত বুধবার ফিলিপাইনের পত্রিকা ইনকোয়ারারের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, নিউইয়র্কের ফেডারেল রিজার্ভে গচ্ছিত বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ থেকে প্রায় ১ বিলিয়ন মার্কিন ডলার হাতিয়ে নিতে চেয়েছিল হ্যাকাররা। এ প্রচেষ্টায় দুই ধাপে প্রায় ১০১ মিলিয়ন ডলার লোপাট করলেও ৮৭০ মিলিয়ন ডলার পাচারে ব্যর্থ হয় তারা।