অর্থবছরের শুরুতেই রেমিট্যান্সে মন্দাঃ জুলাইয়ে কমেছে সাড়ে ২৭ শতাংশ

যুগবার্তা ডেস্কঃ চলতি ২০১৬-১৭ অর্থবছরের শুরুতেই রেমিট্যান্স প্রবাহে মন্দাভাব দেখা গেছে। অর্থবছরের প্রথম মাস জুলাইয়ে ১০০ কোটি ৫৪ লাখ ডলার রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন বিদেশে কর্মরত বাংলাদেশিরা। গত অর্থবছরের প্রথম মাসে ১৩৮ কোটি ৯৫ লাখ ডলারের রেমিট্যান্স এসেছিল। অর্থাত্ আগের বছরের একই মাসের তুলনায় ৩৮ কোটি ডলার বা ২৭ দশমিক ৫৩ শতাংশ রেমিট্যান্স কমেছে। আর পূর্ববর্তী জুন মাসের তুলনায় জুলাইয়ে রেমিট্যান্স প্রবাহ কমেছে সাড়ে ৩১ শতাংশ।

রেমিট্যান্স কমে যাওয়ার কারণ হিসাবে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বিশ্বব্যাপী তেলের দাম কমে যাওয়া, জনশক্তি রফতানিতে ভাটা ও বিভিন্ন দেশ থেকে প্রবাসীদের ফেরত আসা এবং ডলারের বিপরীতে টাকার মান শক্তিশালী হওয়ায় ব্যাংকিং চ্যানেলের বাইরে হুন্ডির মাধ্যমে টাকা আসা।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক শুভঙ্কর সাহা বলেন, বিভিন্ন দেশের মুদ্রার বিনিময় হার ডলারের বিপরীতে কমে গেছে। আমাদের টাকার বিনিময় হার স্থিতিশীল রয়েছে। এ কারণে মুদ্রা বিনিময় করতে গিয়ে আয় কমে গেছে। বিশ্ববাজারে তেলের দাম কম থাকায় প্রবাসী শ্রমিকদের আয় কমে গেছে। সার্বিকভাবে আমাদের রেমিট্যান্স কমেছে।

গত ২০১৫-১৬ অর্থবছরে রেমিট্যান্স আয় আগের বছরের তুলনায় আড়াই শতাংশ কমেছে। গত বছরে সর্বমোট রেমিট্যান্স আসে এক হাজার ৪৯৩ কোটি ডলার। আগের অর্থবছরে যা ছিল এক হাজার ৫৩১ কোটি ডলার।

রেমিট্যান্স প্রবাহে গত অর্থবছরের শুরুতেই মন্দাভাব ছিল। গত অর্থবছরের জুলাইয়ে তার আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় রেমিট্যান্স প্রবাহ ১০ কোটি ডলার কমেছিল। পুরো অর্থবছর জুড়ে অধিকাংশ মাসেই রেমিট্যান্স প্রবাহ কম ছিল। রেমিট্যান্স প্রবাহের নেতিবাচক অবস্থান দিয়েই গত অর্থবছর শেষ হয়।

আলোচ্য মাসে সবচেয়ে বেশি ২৫ কোটি ১০ লাখ ডলার রেমিট্যান্স এসেছে ইসলামী ব্যাংকের মাধ্যমে। অগ্রণী ব্যাংকের মাধ্যমে এসেছে ১২ কোটি ২০ লাখ ডলার, সোনালী ব্যাংকের মাধ্যমে আট কোটি ৯০ লাখ ডলার, জনতা ব্যাংকের মাধ্যমে আট কোটি ৩৯ লাখ ডলার, ন্যাশনাল ব্যাংকের মাধ্যমে চার কোটি ৩৪ লাখ ডলার, ডাচবাংলা ব্যাংকের মাধ্যমে চার কোটি ২৯ লাখ ডলার, পূবালী ব্যাংকের মাধ্যমে তিন কোটি ৫৪ লাখ ডলার, ব্যাংক এশিয়ার মাধ্যমে তিন কোটি ৪৯ লাখ ডলার ও উত্তরা ব্যাংকের মাধ্যমে তিন কোটি ২৩ লাখ ডলার রেমিট্যান্স এসেছে।ইত্তেফাক