অভ্যন্তরীণ পর্যটনের উপর গুরুত্ব দিতে হবে : ফারুক খান

যুগবার্তা ডেস্কঃ পর্যটন বর্ষ ২০১৬ উপলক্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি সড়কদ্বীপে (স্বোপার্জিত স্বাধীনতা চত্বর) দুই দিনব্যাপী ‘নবান্ন ও লোকজ মেলা’ বুধবার সন্ধ্যায় শেষ হয়েছে। মঙ্গলবার সকালে বেলুন উড়িয়ে উৎসবের উদ্বোধন করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক। বাংলাদেশ ইয়ুথ এন্ড স্টুডেন্টস ফোরাম ফর ট্যুরিজম ডেভেলপমেন্ট এ উৎসবের আয়োজন করেছে।
বুধবার উৎসবের সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি ও সাবেক মন্ত্রী কর্নেল (অব.) মুহাম্মদ ফারুক খান এমপি। ‘লোকজ সংস্কৃতি ও বাংলাদেশের পর্যটন শিল্প’ শীর্ষক আজকের আলোচনা সভায় মূল আলোচক ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের অধ্যাপক রফিক উল্লাহ খান। সমাপনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আখতারুজ জামান খান কবির, বাংলাদেশ ইনবাউন্ড ট্যুর অপারেটরস এসোসিয়েশনের সভাপতি রেজাউল একরাম রাজু, এভিয়েশন এন্ড ট্যুরিজম জার্নালিস্ট ফোরাম অব বাংলাদেশ এর নির্বাহী সদস্য ও দৈনিক কালের কণ্ঠের বিজনেস এডিটর মাসুদ রুমি, ড. মাহবুবুর রহমান মোল্লা কলেজের বাংলা বিভাগের প্রভাষক মাসুদ মাযহার। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ ইয়ুথ এন্ড স্টুডেন্টস ফোরাম ফর ট্যুরিজম ডেভেলপমেন্ট এর চেয়ারম্যান মোস্তফা আলমগীর রতন। সঞ্চালনা করেন সংগঠনের সেক্রেটারি জেনারেল বাপ্পাদিত্য বসু।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে কর্নেল (অব.) মুহাম্মদ ফারুক খান এমপি অভ্যন্তরীণ পর্যটনের উপর গুরুত্বারোপের আহ্বান জানান। তিনি বলেন, আমরা যদি নিজেরাই নিজেদের দেশকে না দেখি, তাহলে বিদেশিরা দেখতে আসবেন এমন আশা করা ঠিক না। আগে নিজেদের দেশপ্রেম জাগ্রত করে নিজেদের দেশকে নিজেদের দেখতে হবে। বাংলাদেশের ১০টি প্রধান অঞ্চলের ১০টি জেলার ১০টি উপজেলাকে বেছে নিয়ে সেখানকার স্থানীয় লোকজ সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যকেন্দ্রিক ১০টি মেলার আয়োজন করতে হবে। সেই মেলাগুলোর ভিডিও ও স্থিরচিত্র নিয়ে ওয়েবসাইট বানিয়ে দেশে-বিদেশে প্রচারের ব্যবস্থা করতে হবে। তবেই তো বিদেশিরা আমাদের দেশের লোকসংস্কৃতি ও ঐতিহ্য দেখে আকৃষ্ট হবে। তখন বেশি করে বিদেশিরাও এদেশে আসবে।
পর্যটন খাতের বাজেট কম স্বীকার করে জনাব ফারুক খান বলেন, আগামী বাজেটে পর্যটন শিল্প বিকাশে এ খাতে বাজেট বাড়ানোর সুপারিশ করবে সংসদীয় কমিটি।
বাঙালির অতিথিপরায়নতাই আমাদের বড় সম্পদ উলেøখ করে ফারুক খান বলেন, বিদেশিরা যখন এদেশে আসে, তখন তারা নানা সংশয় নিয়ে আসে। কিন্তু এদেশের মানুষের অতিথিপরায়নতা ও আন্তরিকতায় মুগ্ধ হয়ে যাবার সময় কষ্ট পায়। বিদেশি রাষ্ট্রদূতরাও বাংলাদেশে তাদের দায়িত্ব পালনের মেয়াদ শেষ হবার পর আরো এক বছর মেয়াদ বাড়ানোর চেষ্টা করেন। এটা আমাদের গর্ব।
আলোচনা সভার মূল আলোচক অধ্যাপক রফিক উলøাহ খান বলেন, শিল্পের জন্য মানুষই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। সেই মানুষকে আকৃষ্ট করতে না পারলে পর্যটন শিল্পও বিকশিত হবে না। বাংলাদেশের আত্মপরিচয় হলো এদেশের লোকসংস্কৃতি। বিদেশিরা আমাদের শহর দেখতে আসে না, তারা আসে আমাদের গ্রামীণ দেশজ সংস্কৃতি, ঐতিহ্য দেখতে। লোকায়ত জীবনের মধ্যেই আমাদের মন পরিভ্রমণ করে। এ কারণে নবান্ন, পৌষ পার্বন, রাসমেলা, বর্ষবরণের মতো অনুষ্ঠানগুলোকে সরকারি পর্যায়েও পৃষ্ঠপোষকতা করতে হবে।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আখতারুজ জামান খান কবির বলেন, মায়ের হাতের রান্না, চমচম, রসগোল্লা, হাডুডু, নকশি কাঁথা, রেশম, মসলিন- এগুলোই আমাদের সম্পদ। এগুলোকে সংরক্ষণ করতে হবে। অভ্যন্তরীণ পর্যটন ও কৃষি পর্যটনের উপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন।
তিনি বলেন, পর্যটন নিয়ে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে সরকারের যে উদ্যোগ ও কর্ম পরিকল্পনা, ছাত্র-যুবদের এই আয়োজন ও এই সমাবেশ তার সফলতা প্রমাণ করে।
আলোচনা সভা শেষে অতিথিবৃন্দ মেলার স্টলগুলো ঘুরে দেখেন। মেলায় দেশীয় পিঠা, পায়েসসহ বিভিন্ন ধরনের খাবার ও হস্তশিল্পের পসরা নিয়ে বসেছেন ঢাকা ও ঢাকার বাইরের উদ্যোক্তারা। রাত পর্যন্ত এই মেলা চলে।
জাতীয় সঙ্গীতের মধ্যদিয়ে দিনের কর্মসূচি শুরু হয়। অনুষ্ঠানে শিল্পীরা বর্ণাঢ্য লোকজ গান ও নবান্নের গান পরিবেশন করেন। জয়দেব কর্মকারের পরিচালনা ও সঙ্গীতায়োজনে অনুষ্ঠানে গান পরিবেশন করেন ইত্যাদি খ্যাত শিল্পী আকবর, ক্লোজআপ ওয়ান তারকা সাজু, সুমি, নাবিল, বর্ণালী বিশ্বাস, শিশুশিল্পী জিনিয়া প্রমুখ।
দুই দিনের এই অনুষ্ঠানে পৃষ্ঠপোষকতা করছে বাংলাদেশ পর্যটন কর্পোরেশন এবং এক্সিম ব্যাংক। অনুষ্ঠানের মিডিয়া পার্টনার হিসেবে সহযোগিতা করছে ৭১ টিভি এবং দৈনিক কালের কণ্ঠ।