অবিলম্বে ঢাকাসহ শহরাঞ্চলে প্রধান শিক্ষক বদলিনীতি সংশোধন দাবি

60

যুগবার্তা ডেস্কঃ প্রাথমিক শিক্ষক অধিকার সুরক্ষা ফোরাম আজ ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির মিলনায়তনে এক সংবাদ সম্মেলনে অবিলম্বে ঢাকাসহ শহরাঞ্চলে প্রধান শিক্ষক বদলিনীতি সংশোধন বন্ধসহ ৬ দফা মেনে নেয়ার দাবি জানিয়েছেন। নেতৃবৃন্দ বলেন, দীর্ঘ সাত বছর ধরে প্রধান শিক্ষকদের পদোন্নতি বন্ধ অনেককেই পদোন্নতিবিহীন অবসরে যেতে হয়েছে। কর্তৃপক্ষ বারবার অঈজ নিয়ে সময়ক্ষেপণ করে আসছে। চলতি বছরে এপ্রিল মাসের প্রথম সপ্তাহ থেকে ঢাকা সহ শহরাঞ্চলে উপজেলা থেকে প্রধান শিক্ষক বদলি করে আনা হচ্ছে এর ফলে শহরাঞ্চলে সহকারি শিক্ষকদের পদোন্নতির অধিকার থেকে বঞ্চিত করা হচ্ছে। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন ঢাকা মহানগীরর আহ্বায়ক জয়নাল আবেদীন। সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন আহ্বায়ক মো. সিদ্দিকুর রহমান। উপস্থিত ছিলেন যুগ্ম আহ্বায়ক মো. গোলাম মোস্তফা, আ ফ ম তোহা পাটোয়ারী, মো. ইব্রাহিম খলিল, এম এ ছিদ্দিক মিয়া, তসলিমা আক্তার জাহান, মো. শাহীন, কানিজ ফাতেমা, তাহমিনা খাতুন ও মো. আনিসুর রহমান প্রমুখ।
নেতৃবৃন্দ বলেন দীর্ঘ ২০ থেকে ৩৫ বছরের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন সহকারি শিক্ষকদের ঠেলে দেয়া হচ্ছে এক মানসিক যন্ত্রণার মুখে। অভিজ্ঞতাবিহীন, সন্তান সমতুল্য কর্মকর্তাদের মেনে চলতে হয়। তাদের অভিজ্ঞতা ছাড়া শিক্ষকদের “শিক্ষক” হওয়া প্রাথমিক শিক্ষাকে উল্টো পথে নিয়ে যাচ্ছে।
সংবাদ সম্মেলনে নেতৃবৃন্দ আরো বলেন, ‘ঢাকাসহ সারাদেশে সহকারি শিক্ষকদের পদোন্নতির অধিকার কেড়ে নেয়ার বা বন্ধ রাখায় আমরা আপনাদের মাধ্যমে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সুদৃষ্টি কামনা করছি।
নেতৃবৃন্দ আজকাল প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা পেশায় বেশিরভাগ স্নাতক বা মাস্টার্স ডিগ্রীধারী। বিশ্বের প্রায় সকল দেশেই শিক্ষকরা “ফাস্ট ক্লাস” মর্যাদায় আসীন। অথচ বাংলাদেশে শিক্ষকদের মর্যাদা “থার্ড ক্লাস”। দীর্ঘ দুই বছর পূর্বে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী প্রধান শিক্ষকদের ২য় শ্রেণির গেজেটেড মর্যাদা দিলেও প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ে ‘আপাততঃ’ শব্দযোগ করে তাও কেড়ে নিয়েছে।
নেতৃবৃন্দ বলেন, বৈষম্য নিরসনের লক্ষ্যে স্বাধীন বাংলাদেশের জন্ম। কিন্তু প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্টরা ক্রমাগত শিক্ষকদের অধিকার হরণ ও বৈষম্য বৃদ্ধি করে চলেছে। স্বাধীনতার পর প্রধান শিক্ষক ও সহকারি শিক্ষকেরা একই বেতন স্কেলে বেতন পেলেও আজ সহকারি শিক্ষকদের বেতন স্কেল প্রধান শিক্ষকদের গ্রেডের দুই গ্রেড নিচে। মাত্রাতিরিক্ত চরম বৈষম্যের শিকার সহকারি শিক্ষকরা নিজ পেশায় মনোযোগী হতে পারছেন না ও ক্ষোভে অন্তর্জ্বালায় জ্বলছে।
নেতৃবৃন্দ সরকারকে অবিলম্বে ৬ দফা দাবি মেনে নেয়ার জন্য জোর দাবি জানিয়েছেন।