অবশেষে দীর্ঘ ১৩ বছর পর সম্পূর্ণ সরকারি ব্যবস্থাপনাতেই চালু হতে যাচ্ছে ঐতিহ্যবাহী রাজশাহী ও ঠাকুরগাঁও রেশম কারখানা

70

সোমবার বিকেল ৩টায় সংসদ ভবনে বস্ত্র ও পাট মন্ত্রনালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির এক বৈঠকে এ ব্যাপারে নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
সংসদীয় স্থায়ী কমিটির ওই বৈঠকে অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকা রাজশাহী সদর আসনের সংসদ সদস্য ফজলে হোসেন বাদশা সন্ধ্যায় বাংলানিউজকে কারখানা চালুর এই তথ্য নিশ্চিত করেন।
বৈঠকে বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি সাবের হোসেন চৌধুরীর সভাপতিত্বে কমিটির সদস্য বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী মির্জা আজম এমপিসহ অন্য সদস্যবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। ওই বৈঠকে বন্ধ থাকা রাজশাহী ও ঠাকুরগাঁও রেশম কারখানা আবারও চালু করার বিষয়ে সমস্যা ও সম্ভাবনা নিয়ে ব্যাপক আলোচনা করা হয়। এ সময় রাজশাহী সদর আসনের সংসদ সদস্য ফজলে হোসেন বাদশা কারখানা দুইটি চালুর ব্যাপারে বিভিন্ন তথ্য ও যুক্তি উপস্থাপন করেন।
বক্তব্য পর্যালোচনা করে বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সদস্যবৃন্দ বন্ধ থাকা রাজশাহী ও ঠাকুরগাঁও রেশম কারখানা আবারও চালুর ব্যাপারে সর্বসম্মত হন। এ সময় কারখানা দুইটি চালুর করার জন্য প্রযুক্তিগত উন্নয়ন এবং প্রকল্প গ্রহণের জন্য মন্ত্রণালয়কে নির্দেশ দেয় স্থায়ী কমিটি।
এক প্রশ্নের জবাবে রাজশাহী সদর আসনের সংসদ সদস্য ফজলে হোসেন বাদশা বলেন, রেশম কারখানা চালুর ব্যাপারে তিনি এর আগেও সংসদে সুনির্দিষ্টভাবে দাবি উত্থাপন করেছেন। এটি রাজশাহীবাসীর দীর্ঘ দিনের প্রাণের দাবি। কারখানা চালু হলে রেশম শিল্প তার হারানো ঐতিহ্য ফিরে পাবে। তা লাভজনক প্রতিষ্ঠানে রূপান্তর করে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনেও সক্ষম হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
প্রসঙ্গত, ২০০২ সালের ৩০ নভেম্বর লোকসানের বোঝা কাঁধে নিয়ে রাজশাহী ও ঠাকুরগাঁও রেশম কারখানা দুইটি বন্ধ হয়ে যায়। এরপর রেশম বোর্ড বেসরকারি খাতে দুইটি কারখানা চালানোর উদ্যোগ নেয়। পরবর্তীতে ২০০৭ সালে প্রাইভেটাইজেশন কমিশনের হাতে ছেড়ে দেওয়া হয় দুই কারখানা। তবে সে বছর দরপত্র আহবান করা হলেও তা বাতিল হয়ে যায়। এরপর থেকে আর কোনো উদ্যোগ না থাকলেও এবছর আবারও কারখানা দুইটি সরকারিভাবে চালুর সিদ্ধান্ত হলো।