অপারেশন সান ডেভিলের মামলা ডিবিতে হস্তান্তর

26

রাজশাহী অফিসঃ রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলার বেনীপুরে ‘জঙ্গি বাড়িতে’ অপারেশন ‘সান ডেভিল’ চালানোর পর সন্ত্রাসবিরোধী আইনে দায়ের করা মামলাটি জেলা পুলিশের গোয়েন্দা শাখায় (ডিবি) হস্থান্তর করা হয়েছে। শুক্রবার বিকেলে জেলার পুলিশ সুপার (এসপি) মোয়াজ্জেম হোসেন ভূঁঞা মামলাটি ডিবিতে হস্থান্তরের জন্য আদেশ দেন।

শনিবার দুপুরে জেলা ডিবির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আতাউর রহমান মামলার আগের তদন্ত কর্মকর্তা গোদাগাড়ী থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আলতাফ হোসেনের কাছ থেকে কাগজপত্র বুঝে নেন। ওসি আতাউর রহমানই মামলাটি তদন্তের দায়িত্ব পেয়েছেন।

তিনি জানান, মামলার প্রথম তদন্ত কর্মকর্তার তদন্তে এবং জঙ্গি বাড়ি থেকে আত্মসমর্পণ করা নারী সুমাইয়া খাতুনের কাছ থেকে এরই মধ্যে বেশকিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে। পুরনো তথ্যের ওপর ভর করে তিনি নতুন করে মামলাটির তদন্ত কাজ শুরু করেছেন।

গত ১১ মে ভোররাতে বেনীপুর গ্রামের কাপড় ব্যবসায়ী সাজ্জাদ আলীর একতলা টিনসেড বাড়িটি ঘিরে ফেলে পুলিশ। এরপর ভেতরে থাকা সন্দেহভাজন জঙ্গিদের আত্মসমর্পণের আহ্বান জানানো হয়। কিন্তু তাতে সাড়া না মেলায় ফায়ার সার্ভিসের কর্মীদের ডেকে এনে বাড়ির একপাশের মাটির দেয়ালে পানি ছিটাতে শুরু করে পুলিশ।

পুলিশের ধারণা ছিল- পানিতে দেয়ালটি ধসে পড়লে বাড়ির ভেতরের জঙ্গিদের বাইরে থেকে দেখা যাবে। কিন্তু দেয়াল ধসে পড়ার আগেই সকালে বাড়ি থেকে জঙ্গিরা বের হয়ে এসে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের কর্মীদের ওপর হামলা চালায়। এতে ফায়ার সার্ভিসের এক কর্মী নিহত হন। আহত হন পুলিশের আরও চার সদস্য।

এ ঘটনার পরই সাজ্জাদ আলীর ছেলে আল-আমিন (২১) আত্মঘাতি বোমার বিস্ফোরণে নিহত হয়। এছাড়া গুলি ও বোমার স্প্রিন্টারের আঘাতে নিহত হয় সাজ্জাদ আলী (৫০), তার স্ত্রী বেনী আক্তার (৪৫), তাদের মেয়ে কারিমা খাতুন (১৭) এবং বহিরাগত জঙ্গি আশরাফুল ইসলাম (২৪)। তবে ওই সময় সাজ্জাদের বড় মেয়ে সুমাইয়া খাতুন (২৫) তার দুই শিশু সন্তানকে নিয়ে আত্মসমর্পণ করে।

পরদিন বাড়িটির ভেতরে অভিযান চালায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। অপারেশন ‘সান ডেভিল’ নামের ওই অভিযানে উদ্ধার হয় বোমা, বোমা তৈরির উপকরণ, জিহাদী বই, পিস্তল, গুলি ও ম্যাগজিন। এসব ঘটনায় ১৩ মে গোদাগাড়ী থানায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে একটি মামলা দায়ের করেন ওই থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) নাইমুল হক।

এ মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে পরদিন সুমাইয়াকে আদালতে তোলেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা আলতাফ হোসেন। ওই দিন তিনি সুমাইয়াকে ১০ দিনের রিমান্ডে নেন। এরপর ৬ সদস্যের পুলিশি বোর্ড গঠন করে সুমাইয়াকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছিল। এরই মধ্যে আলোচিত এই মামলাটি ডিবিতে হস্থান্তর করা হলো।

বিষয়টি নিয়ে জানতে চাইলে পুলিশি বোর্ডের প্রধান জেলা পুলিশের বিশেষ শাখার (ডিএসবি) অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সুমিত চৌধুরী বলেন, ‘আগের তদন্ত কর্মকর্তা বোর্ড থেকে বাদ। পদাধিকার বলে এখন বোর্ডের সদস্য নতুন তদন্ত কর্মকর্তা। তিনি তার প্রয়োজনমতো সুমাইয়াকে জিজ্ঞাসাবাদ করবেন।’