অনুপম চেটিয়াকে ফেরত

59

যুগবার্তা ডেস্কঃ বাংলাদেশের কারাগারে বন্দী উত্তর-পূর্ব ভারতের বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠন ইউনাইটেড লিবারেশন ফ্রন্ট অব অসম-উলফার শীর্ষ নেতা অনুপ চেটিয়াকে ভারতের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। গতকাল ভোররাতে গাজীপুরের কাশিমপুর কারাগার থেকে ভারতীয় কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তরের পর অনুপ চেটিয়াকে ভারতে নিয়ে যাওয়া হয়। তবে শুধু অনুপ নন, তার সঙ্গে বাংলাদেশে কারাবন্দী বাবুল শর্মা ও লক্ষীপ্রসাদকেও ভারতে পাঠানো হয়েছে। অনুপ চেটিয়াকে হস্তান্তরের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান। অন্যদিকে, রেলপথে সিলেটের তামাবিল সীমান্ত দিয়ে অনুপ চেটিয়াকে হস্তান্তরের পর তাকে আকাশপথে দিল্লিতে নিয়ে যাওয়া হয় বলে নিশ্চিত করেছে সূত্র। গতকাল সচিবালয়ে তার নিজ কার্যালয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, অনুপ চেটিয়ার সাজা ভোগ আগেই শেষ হয়েছে। তার যাওয়ার বিষয়টির সঙ্গে নিরাপত্তার প্রশ্ন জড়িত ছিল। তাই তাকে নিরাপদে ভারতে ফেরত পাঠানো হয়েছে। তিনি ভারতে যাওয়ার ই”ছা প্রকাশ করেছিলেন। আজ সকালে তিনি বাংলাদেশের সীমান্ত পার হয়েছেন।

অনুপ চেটিয়াকে ফেরত পাঠানোর সঙ্গে নারায়ণগঞ্জে সাত খুনের মামলার প্রধান আসামি নূর হোসেনকে ফিরিয়ে আনার কোনো সম্পর্ক আছে কিনা- জানতে চাইলে মন্ত্রী বলেন, নূর হোসেনকে ফিরিয়ে আনার সঙ্গে অনুপ চেটিয়াকে ফেরত দেওয়ার কোনো সম্পর্ক নেই। মামলা শেষে ভারত যখন নূর হোসেনকে ফেরত দেবে, তখন তাকে আনা হবে।

এর আগে গতকাল সকালে মিরপুর ১০ নম্বরে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স ট্রেনিং কমপ্লেক্সে ফায়ার সার্ভিস সপ্তাহ-২০১৫-এর উদ্বোধনের আগে অনুপ চেটিয়া প্রসঙ্গে জানতে চাওয়া হলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাংবাদিকদের বলেছিলেন, এ রকম কোনো খবর তার জানা নেই। ভারতীয় সংবাদমাধ্যমে এ-সংক্রান্ত খবর প্রকাশিত হয়েছে- এর জবাবে তিনি বলেছিলেন, হতে পারে। ১৯৯৭ সালের ২১ ডিসেম্বর ঢাকার মোহাম্মদপুরের একটি বাসা থেকে অনুপ চেটিয়াকে গ্রেফতার করে পুলিশ। এরপর তার বির“দ্ধে অবৈধভাবে বাংলাদেশে অব¯’ান এবং অবৈধভাবে বিদেশি মুদ্রা ও একটি স্যাটেলাইট ফোন রাখার অভিযোগে তিনটি মামলা হয়। পরে তিনটি মামলায় তাকে যথাক্রমে তিন, চার ও সাত বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেন আদালত। ২০০৭ সালের ২৫ ফেব্র“য়ারি তার সাজার মেয়াদ শেষ হয়। তবে বাংলাদেশে রাজনৈতিক আশ্রয় চেয়ে ২০০৩ সালের ২৩ আগস্ট হাইকোর্টে আবেদন করেন এই উলফা নেতা। কিš‘ সাজার মেয়াদ শেষ হওয়ার পরেও হাইকোর্ট রাজনৈতিক আশ্রয়ের বিষয়ে সিদ্ধান্ত না হওয়া পর্যন্ত তাকে সেফ কাস্টডিতে রাখার নির্দেশ দেন। এরই মধ্যে অনুপ চেটিয়াকে প্রত্যর্পণের ব্যাপারে বাংলাদেশের কাছে আর্জি জানায় ভারত। আইনি জটিলতার কারণেই এতদিন চেটিয়ার প্রত্যর্পণ প্রক্রিয়া থমকে ছিল। সর্বশেষ ২০১৩ সালের ২৯ জানুয়ারি ভারত-বাংলাদেশের মধ্যে বন্দী প্রত্যর্পণ চুক্তি স্বাক্ষরিত হওয়ার পরই বন্দী হস্তান্তরের পথ সুগম হয়। ওই বছরের ১৩ মে কারা কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে ভারতে ফিরে যাওয়ার আবেদন করেন অনুপ। অনুপ তার চিঠিতে লিখেছেন, বাংলাদেশের কারাগারে থাকা তার দুই সহচর লক্ষীপ্রসাদ গোস্বামী ও বাবুল শর্মাকে নিয়ে তিনি নিজ দেশে ফিরতে চান। আবেদন করার সময় অনুপ চেটিয়া রাজশাহী কেন্দ্রীয় কারাগারে নিরাপত্তা হেফাজতে ছিলেন। কারা মহাপরিদর্শক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সৈয়দ ইফতেখার উদ্দীন এ প্রতিবেদককে বলেন, গতকাল ভোরে ভারতীয় দূতাবাসের প্রতিনিধিদের কাছে অনুপ চেটিয়াকে হস্তান্তর করা হয়েছে। অনুপ ভারতীয় দূতাবাসের মাধ্যমেই তার নিজ দেশে ফিরতে চেয়েছেন। তার শারীরিক অবস্থা যথেষ্ট ভালো।

তামাবিল-ডাউকি সীমান্ত দিয়ে হস্তান্তর : সিলেটের তামাবিল এবং ভারতের মেঘালয়ের ডাউকি সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশ থেকে ভারতে নিয়ে যাওয়া হয়েছে অনুপ চেটিয়াকে। নাম না জানানোর শর্তে ভারতের প্রধানমন্ত্রীর সচিবালয়ের এক সিনিয়র কর্মকর্তা এ কথা জানিয়ে বলেন, গতকাল সকালের দিকে বাংলাদেশ ও ভারতের মেঘালয় রাজ্যের ডাউকি সীমান্ত দিয়ে অনুপ চেটিয়া ওরফে গোলাপ বড়–য়াকে বাংলাদেশ রাইফেলসের কর্মকর্তারা ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) হাতে তুলে দেন। সেখান থেকে তাকে দিল্লিতে উড়িয়ে আনা হয়। তিনি আরও জানান, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভালের আর্জি মেনেই বাংলাদেশ সরকারের তরফে চেটিয়াকে ভারতের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। ভারতের কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা সেন্ট্রাল ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (সিবি আই) চেটিয়াকে নিজেদের হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করবে। আসামসহ কয়েকটি রাজ্যে খুন, জোর করে চাঁদা আদায়, অপহরণসহ একাধিক মামলায় এ দেশে তাকে বিচারের মুখোমুখি হতে হবে।

অনুপ চেটিয়ার ই”ছায় তাকে ফেরত পাঠানো হয়েছে : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেছেন, উলফা নেতা অনুপ চেটিয়া দীর্ঘদিন বাংলাদেশে আটক ছিলেন। তার আটকাদেশ শেষ হয়েছে। তিনি ভারতে যাওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন। সাজা শেষ হয়ে যাওয়ায় আইন মেনেই অনুপ চেটিয়াকে ভারতে ফেরত পাঠানো হয়েছে। সকালে তিনি বাংলাদেশের সীমান্ত পার হয়েছেন। গতকাল সচিবালয়ে নিজ কার্যালয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এ কথা জানান। সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, তিনি সীমান্ত পার হয়েছেন। এটুকুই জানি। তবে তিনি বিজিবি-বিএসএফের মাধ্যমেই গেছেন। এটাকে যদি হস্তান্তর বলেন, তাহলে হস্তান্তর হয়েছে। আসাদুজ্জামান খান বলেন, উনি যাওয়ার সময় বলে গেছেন, তিনি সজ্ঞানে ও স্বেচ্ছায় গেছেন। আরেক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, যখন কোনো বিদেশি আটক থাকেন এবং আটকাদেশ শেষ হয়ে যায়, তখন বিষয়টি দূতাবাসকে জানানো হয়।বাংলােদশ প্রতিদিন