অধ্যক্ষর বিরুদ্ধে যৌণ নিপিড়নের ঘটনায় তদন্ত কমিটি

বরিশাল অফিসঃ “অধ্যক্ষর অপসারণ দাবিতে ক্লাশ বর্জন” শিরোনামে গত ১ আগস্ট বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের পর টনগ নড়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের। প্রকাশিত সংবাদের পর ওইদিন বিকেলে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন কলেজ গভর্নিং বডির সভাপতি ও উপজেলা উপজেলা নির্বাহী অফিসার শতরূপা তালুকদার এবং থানার ওসি মনিরুল ইসলাম। ঘটনাটি জেলার আগৈলঝাড়া উপজেলার রত্নপুর ইউনিয়নের মোহনকাঠী আদর্শ মাধ্যমিক বিদ্যালয় এ্যান্ড কলেজের।
শতরূপা তালুকদার জানান, তিনি অভিযোগের প্রাথমিক তদন্তসহ ভূক্তভোগীর কাছ থেকে লিখিত জবানবন্দি গ্রহণ করেছেন। সোমবার সন্ধ্যায় তার কার্যালয়ে গবর্নিং বডির জরুরী সভায় অধিকতর তদন্তের জন্য উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা নজরুল ইসলামকে দ্বায়িত্ব দেয়া হয়েছে। তদন্ত রিপোর্ট পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। ইউএনও’র নির্দেশ পেয়ে শিক্ষা কর্মকর্তা নজরুল ইসলাম মঙ্গলবার সকালে সংশ্লিষ্ঠ প্রতিষ্ঠানে গিয়ে তদন্ত করলেও রিপোর্ট দাখিলের আগে তিনি কোন মন্তব্য করতে রাজি হননি। একই ঘটনায় থানার ওসি মনিরুল ইসলামও পৃথকভাবে তদন্ত করছেন।
ভূক্তভোগী ওই কলেজের চতুর্থ শ্রেনীর কর্মচারী মৃত সুরেশ চন্দ্র মিস্ত্রীর স্ত্রী শান্তি রানী মিস্ত্রীর লিখিত অভিযোগে জানা গেছে, অধ্যক্ষ ফকরুল ইসলাম দীর্ঘদিন থেকে তাকে যৌণ হয়রানীসহ রাত্রি যাপনের প্রস্তাব দিয়ে আসছিলেন। অন্যথায় তাকে চাকুরিচ্যুত করার হুমকি দেয়া হয়। এরইমধ্যে গত ৩১ জুলাই সকালে নয়টার দিকে কলেজের রুম পরিস্কারের সময় অধ্যক্ষ ফকরুল ইসলাম তাকে (শান্তি রানী) শ্লীলতাহানী করে ধর্ষণের চেষ্ঠা চালায়। এসময় শান্তি রানীর ডাকচিৎকারে কলেজের অন্যান্য কর্মচারীরা তাৎক্ষনিক ঘটনাস্থলে পৌঁছে অধ্যক্ষর হাত থেকে শান্তি রানীকে উদ্ধার করেন। এ ঘটনার প্রতিবাদে ওইদিন স্কুল এ্যান্ড কলেজের শিক্ষার্থীরা ক্লাশ বর্জন করে অধ্যক্ষর অপসারনের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল করেন। শান্তি রানীর এ লিখিত অভিযোগের অনুলিপি স্থানীয় সংসদ সদস্য, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব, শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ও বরিশাল শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যানকে প্রেরণ করা হয়েছে। ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত অধ্যক্ষ ফকরুল ইসলাম পলাতক রয়েছেন।