অগ্রণী ব্যাংকে অস্থিরতা

38

যুগবার্তা ডেস্কঃ রাষ্ট্রায়ত্ত অগ্রণী ব্যাংকে ঋণ বিতরণে অনিয়মের অভিযোগে ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালককে অপসারণ করা হয়েছে। এই পদে দায়িত্ব দেয়া ডিএমডিকেও গ্রেপ্তার করেছে দুদক। এ ঘটনায় ব্যাংকটিতে কিছু দিন থেকে চলা অস্থিরতা আরো বেড়েছে। ঋণে অনিয়মের অভিযোগে গতকাল ব্যবস্থাপনা পরিচালক সৈয়দ আবদুল হামিদকে অপসারণের পর গ্রেপ্তার করা হয় উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক মিজানুর রহমান খানকে। এমডি হামিদকে অপসারণের পর ডিএমডি মিজানকে ভারপ্রাপ্ত এমডির দায়িত্ব দেয়া হয়েছিল।
৭৯২ কোটি টাকা ঋণ বিতরণে অনিয়ম পাওয়ায় এমডি হামিদকে অপসারণের নির্দেশ পাঠান কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর ফজলে কবির। এই অনিয়মের মধ্যে মুন গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজকে দেয়া প্রায় ৩০০ কোটি টাকা ঋণ রয়েছে, যার অনুসন্ধান চালাচ্ছিল দুদক। ওই ঋণ তুলে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে মতিঝিল থানায় একটি মামলা করে দুদক। ওই মামলায়ই মতিঝিল থেকে মিজানকে গ্রেপ্তার করা হয় বলে দুদকের মুখপাত্র প্রণব কুমার ভট্টাচার্য্য জানান। মুন গ্রুপের ঋণ কেলেঙ্কারি নিয়ে গত জানুয়ারিতে মিজানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে অগ্রণী ব্যাংককে চিঠি দিয়েছিল বাংলাদেশ ব্যাংক। তখন তাকে ব্যাংকের নিয়মিত কাজের দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেয়াও হয়েছিল।
এ ব্যাপারে প্রণব কুমার বলেন, বিকালে মতিঝিল থেকে ডিএমডি মিজানুর রহমানের সঙ্গে ব্যাংকটির ডিজিএম মো. আখতারুল আলম এবং এজিএম মো. শফিউল্লাহকেও গ্রেপ্তার করা হয়। ক্ষমতার অপব্যবহারের মাধ্যমে কল্যাণপুর বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন এলাকার একটি জমিতে ভবন নির্মাণের নামে আয়-ব্যয়ের ভুয়া হিসাব দেখিয়ে ব্যাংক থেকে ১০৮ কোটি টাকা উত্তোলন করে আত্মসাতের অভিযোগে এই তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মুন গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজের চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান ওই জমিটির (মিজান টাওয়ার) মালিকানা দাবি করে ব্যাংক থেকে ঋণ নিলেও তার মালিকানা স্বত্বের বৈধতা নিয়ে আদালতে মামলা চলছে।
দুদকের মামলার এজাহারে বলা হয়, আসামিরা পরস্পর যোগসাজশে নিজেরা লাভবান হয়ে এবং অন্যদের লাভবান করে প্রতারণা, ক্ষমতার অপব্যবহার ও অপরাধজনক বিশ্বাসভঙ্গের মাধ্যমে ওই জমির গ্রাহক মিজানুর রহমানকে ১০৮ কোটি টাকা ঋণ মঞ্জুর করে পর্যায়ক্রমে ৯৪.৮ কোটি টাকা উত্তোলন ও গ্রহণ করে ব্যাংকের তথা রাষ্ট্রের সম্পদের ক্ষতিসাধন ও আত্মসাৎ করেছেন। এদিকে গতকাল সকালে এমডি হামিদকে অপসারণের নির্দেশনা আসার পর ডিএমডি মিজানকে ভারপ্রাপ্ত এমডির দায়িত্ব দেয়া হয়েছিল বলে জানান অগ্রণী ব্যাংকের চেয়ারম্যান জায়েদ বখত। তিনি বলেন, এমডি অপসারণের পর অর্থ মন্ত্রণালয় এক চিঠি দিয়ে সিনিয়র ডিএমডিকে ভারপ্রাপ্ত এমডি করতে বলেছিল। সে মোতাবেক মিজানুর রহমান খানকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছিল। জায়েদ বখত বলেন, মিজানুর রহমানকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য দুদকে নেয়া হয়েছে। যদি তাকে গ্রেপ্তার করা হয়, তাহলে অর্থ মন্ত্রণালয় যে ব্যবস্থা নিতে বলে আমরা সে ব্যবস্থাই নেব।মানবজমিন