অকৃতজ্ঞতা আর কু-সংস্কৃতি আওয়ামীলীগে ক্রমশঃ বিস্তৃত হচ্ছে

69

শরিফুজ্জামান শরীফঃ রাশেদ খান মেনন বা হাসানুল হক ইনু আওয়ামীলীগের সাথে যে ঐক্য করেছে তা আমি বা আমার মতো অনেকে সমর্থন করেন না।
কিন্তু যারা পেছনের কথা সহজে ভুলে যাননা তাদের মনে থাকবার কথা, যখন বিএনপি- জামাতের আগ্রাসী রাজনীতিতে আওয়ামীলীগ কোনঠাসা, তাদের নেতাদের বেছে বেছে হত্যা করা হচ্ছিল, আওয়ামীলীগ কর্মীরা বাড়িতে ঘুমাতে পারছিলেন না তখন জামাত বিএনপির সেই আগ্রাসী শাসনের বিরুদ্ধে রাশেদ খান মেনন বা হাসানুল হক ইনুর দল আওয়ামীলীগের সাথে ঐক্য করেছিলেন।
সেই ঐক্য কোনঠাসা আওয়ামীলীগকে রাজনীতির মাঠে স্পেস করে দিয়েছিল।
সেই ঐক্য রাজনীতিকে গুনগতভাবে সমৃদ্ধ না করতে পারলেও আওয়ামীলীগের রাজনীতির জন্য
ওই মুহুর্তে বেশ জরুরি ছিল।

অথচ খেয়াল করলে দেখবেন, গত তিন- চার বছরে হাসানুল হক ইনু বা রাশেদ খান মেনন বিএনপি- জামাত কর্মীদের যতো গালমন্দের শিকার হয়েছেন তার থেকে বেশি বিষোদগার এর শিকার হয়েছেন কিছু আওয়ামীলীগ কর্মী দ্বারা।

অকৃতজ্ঞতা আর কু-সংস্কৃতি
আওয়ামীলীগে
ক্রমশঃ বিস্তৃত হচ্ছে।

এবার তাদের ঘরের দিকে তাকান-

এদের দলের কয়জন সাধারন সম্পাদক সন্মান নিয়ে বিদায় নিতে পেরেছেন?
এদের দুঃসময়ের এক সাধারন সম্পাদক আঃ জলিল তাকে এরা স্মরন ও করেনা। আঃ জলিল তো আমৃত্যু আওয়ামীলীগে ছিলেন।
তার মৃত্যুবার্ষিকী কি তার দল পালন করে?
না।
বলবেন, জলিল সাহেব তার দলের প্রধানের বিরুদ্ধে সামরিক বাহিনীকে তথ্য দিয়েছিলো, ঠিক।
তো দেয় নি কে?
আজকের যারা বড় পদে আসীন
তাদের সবাইতো দিয়েছে।

যখন এদের চলমান কালচার দেখি তখন বহু পেছনের কথা, ইতিহাসের কথা মনে পড়ে।

হরতালে অফিসগামী সরকারী কর্মচারিকে দিগম্বর করার কথা মনে নেই?
ক্যাম্পাসে ১৪ ফেব্রয়ারি বিএনপির ডাকা হরতাল বিরোধী মিছিলে ছাত্রলীগের সেই স্লোগান,” বেরসিক খালেদা,- ভ্যালেন্টাইন্স বোঝেনা”!

এটা কি উন্নত সংস্কৃতির চর্চা ছিলো?

গনজাগরন মঞ্চের বিরুদ্ধে আওয়ামীলীগের রাগ পুরনো। তারা যে জামাতের সাথে গোপন সমঝোতায় এসেছিল, রাস্তায় জামাতের মিছিল থেকে পুলিশকে ফুল তুলে দেয়া,কাদের মোল্লার লঘু দন্ড- হাইকোর্টের সামনে সেই লঘু দন্ডের পরেও ছাত্রলীগোর আনন্দ মিছিল, বাচ্চু রাজাকার কে পালাতে সহায়তা সব তো আওয়ামীলীগ করেছে।
আর এসব তো জামাতের সাথে
বোঝাপড়ার অংশ ছিলো।

যদি সেই সমঝোতা টিকে থাকতো তাহলে তো বিএনপিকে এতো ভয় পেতে হয়না।
রাজনীতির হিসাব মেলাতে আওয়ামীলীগকে এতো ঘর্মাক্ত হতে হয় না।

গনজাগরন মঞ্চ তো সব উল্টে দিয়েছে।

আরো অস্থির হবে,
কামড়াতে তেড়ে আসবে
মামলা হয়তো আরো হবে।

আওয়ামীলীগ রাজনীতির অবশিষ্ট
সংস্কৃতি টুকুও মুছে দেবে।
দলটির ভেতরে এখন মুরগি আর
কাউয়াদের বাড়বাড়ন্ত অবস্থা।

জিয়াউর রহমান বলে দিয়েছিলেন , ” আমি রাজনীতিবিদদের জন্য রাজনীতি কঠিন করে দেবো”!

আওয়ামীলীগ ও দেখিয়ে দিচ্ছে,
এদেশে কেবল তাদের স্তাবক থাকবে,
বাকিদের জন্য সব কিছুই কঠিন করে দেয়া হবে!!-লেখক: সাবেক সভাপতি, বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন