রাতারাতি উধাও পীস স্কুলের সাইনবোর্ড!

285

মাহী ইলাহি, রাজশাহীঃ শিক্ষার্থীদের পরিচয়পত্র, ও সড়কের পাশে দেয়া সাইনবোর্ড ঠিক থাকলেও রাতারাতি তুলে ফেলা হয়েছে রাজশাহী মহানগরীতে অবস্থিত পীস স্কুল এন্ড কলেজের সাইনবোর্ড। শুধু তাই নয়, শিক্ষার্থীদের বহন করা ভ্যান গাড়িতে লেখা ওই স্কুল এন্ড কলেজের নামও মুছে দেয়া হয়েছে। এতে অভিভাবকরা তাদের সন্তানদের নিয়ে বিড়ম্বনায় পড়েছেন।
বিতর্কিত বক্তা জাকির নায়েকের পীস টিভির সম্প্রচার বন্ধের পর দেশের পীস স্কুল সমুহের বিষয়ে সরকারের নজরদারির পর এ কা- ঘটানো হয়েছে বলে মনে করছেন অভিভাবকরা।
শনিবার সরেজমিনে নগরীর তেরখাদিয়া এলাকায় গাজী ভবনে গিয়ে দেখা যায় মুল ভবনের পীস স্কুল অ্যান্ড কলেজের যে বড় সাইনবোর্ডটি ছিলো তা নামিয়ে ফেলা হয়েছে। পাশাপাশি মহানগরীর বিভিন্ন জায়গায় তাদের যেসব সাইনবোর্ড লাগানো ছিলো সেগুলো উঠিয়ে ফেলা হয়েছে। তাদের শিক্ষার্থী বহনের যে ভ্যান গাড়িগুলো ছিলো সেগুলো থেকেও পীস স্কুল অ্যান্ড কলেজের নাম মুছে ফেলা হয়েছে। তবে এখনো স্কুলের লোকেশন বোর্ড ও শিক্ষার্থীদের পরিচয়পত্র আগের মতোই রয়েছে।
সকাল ১০টার দিকে গাজী ভবনের সামনে গিয়ে দেখা যায়, ভবনে পীস স্কুল অ্যান্ড কলেজের যে সাইন বোর্ড ছিলো তা নেই। ভবনটিতে শুধু গ্যালাক্সি মেডিকেল এ্যসিস্ট্যান্ট ট্রেনিং স্কুলের সাইনবোর্ড ঝুলছে। তবে, ভবন থেকে সাইনবোর্ড সরানো হলেও শিশু শির্ক্ষার্থীদের দেখা গেছে। ওইসব শিশু শিক্ষার্থীদের পরিচয়পত্র, ব্যাগ ও ড্রেসে পীস স্কুল অ্যান্ড কলেজের ব্যাচ লাগানো ছিলো।
এদিকে হঠাৎ করে সাইনবোর্ড উঠে যাওয়ায় অনেক অভিভাবক ভাবনায় পড়ে গেছেন। তাদের মনে নানান প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন অভিভাবক জানান, সকালে সন্তানকে রাখতে এসে সাইনবোর্ড না থাকার বিষয়টি তারা লক্ষ্য করেছেন। এ নিয়ে তারা সন্তানদের লেখাপড়া নিয়ে রীতিমতো দুশ্চিšন্তায় পড়েছেন বলে জানান। স্কুলটি আদৌ থাকবে কি না তা নিয়েও ভাবনায় পড়েছেন অভিভাবকরা।
অভিভাবকদের অনেকেই জানিয়েছেন, নাম মুছে ফেলার বিষয়টি জানার পরে তারা পীস স্কুল অ্যান্ড কলেজ কর্তৃপক্ষের কাছে বিষয়টি জানতে চেয়েছেন। তবে, তারা কোনো সঠিক উত্তর দিতে পারেন নি।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক স্থানীয় ব্যক্তি জানান, রাতারাতি তারা এ নাম পরিবর্তন করেছেন। তবে, কি জন্য তারা নাম মুছে ফেলেছে সে বিষয়ে তারা কিছুই বলতে পারবেন না।
জামায়াতে ইসলামীর আর্থিক পৃষ্ঠপোষকতা ও রাজনৈতিক আদর্শে পরিচালিত হচ্ছে এমন অভিযোগ ওঠায় দেশের ছয় জেলায় পরিচালিত ২৭টি পীস ইন্টারন্যাশনাল স্কুল অ্যান্ড কলেজ নজরদারিতে আনা হচ্ছে। গত ৭ই এপ্রিল এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিয়েছে আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি। এসব স্কুলের পরিচালনা পর্ষদে সরকারি দলের কারা কারা আছেন তাদের বিষয়েও খোঁজখবর নিতে বলা হয়েছে। এসব কারণেই কর্তৃপক্ষ নিজেদের বাঁচাতে এমন নাম মুছে ফেলেছে বলে ধারনা করছে অভিভাবকরা।

উল্লেখ ৭ এপ্রিল মন্ত্রিসভা কমিটির আলোচনায় বলা হয়, ‘পীস’ শব্দটি ব্যবহার করে ভিন্ন ভিন্ন নামে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে এ ধরনের শতাধিক স্কুল পরিচালিত হচ্ছে। অভিযোগ রয়েছে, জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের অনুমোদনের বাইরে জামায়াতের দলীয় আদর্শের অনুকূল পাঠ্যবই পড়ানো হয় এসব স্কুলে। এসব স্কুলের পরিচালনা পর্ষদে রয়েছেন জামায়াত-শিবিরের নেতাকর্মী ও সমর্থকরা।
আবার কোনো কোনো স্কুল পরিচালনা পর্ষদে চেয়ারম্যানসহ বিভিন্ন পদে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির নেতাকর্মী ও সমর্থকরাও রয়েছেন। মন্ত্রিসভা কমিটির আলোচনার পর পীস স্কুলের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট জামায়াত-শিবিরের নেতা ও জড়িত সরকারি কর্মকর্তাদের ওপর নজরদারি বাড়ানোর সিদ্ধান্ত হয়। এ ছাড়া, স্কুলের আয়ের উৎস ও ব্যয় খতিয়ে দেখতেও বলা হয়েছে। স্থানীয় জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপার এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে। এর আগে গত ১৩ই মার্চ পীস স্কুল সম্পর্কে একটি বিশেষ প্রতিবেদন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছিল প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়। ওই প্রতিবেদন নিয়ে আলোচনার সময় এসব সিদ্ধান্ত হয়।