প্রাথমিকে বাদ, পিএসসি পরীক্ষা হবে অষ্টম শ্রেণিতে

49

যুগবার্তা ডেস্কঃনতুন জাতীয় শিক্ষানীতি আলোকে প্রাথমিক শিক্ষাকে অষ্টম শ্রেণিতে উন্নীত করার ঘোষণা দিয়েছে সরকার। আগামী বছর থেকেই এটি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। ২০১৭ সাল থেকে পঞ্চম শ্রেণিতে আর প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী (পিএসসি) পরীক্ষা থাকছে না। অষ্টম শ্রেণি শেষে যে জুনিয়র স্কুল সার্টিফিকেট (জেএসসি) পরীক্ষা নেয়া হয়, সেটি হয়ে যাবে পিএসসি পরীক্ষা। পঞ্চম শ্রেণি শেষে পিএসসি এবং অষ্টম শ্রেণি শেষে জেএসসি পরীক্ষা প্রবর্তন করা হয়েছি ২০০৯ সালে। চালু হওয়ার পর থেকেই পরীক্ষা দুটি নিয়ে সমালোচনা শুরু হয়। শিক্ষাবিদ ও অভিভাবকরা কোমলমতি শিশুদের পাবলিক পরীক্ষায় অবতীর্ণ করার বিরোধিতা করে আসছেন। এরই প্রেক্ষাপটে শিক্ষা মন্ত্রণালয় প্রাথমিক শিক্ষা নিয়ে নতুন পরিকল্পনার কাজ শুরু করে। পরে প্রাথমিক শিক্ষা মান উন্নয়নে এটি অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত করা সিদ্ধান্ত নেয় প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছরের শিক্ষাক্রম শুরু হয়ে যাওয়া এবং হাতে কম সময় থাকায় নতুন শিক্ষানীতি বাস্তবায়নের পদক্ষেপ গ্রহণ করা থেকে বিরত থাকছে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়। আগের বছরগুলোর মতোই এবারও পঞ্চম শ্রেণিতে পিএসসি এবং অষ্টম শ্রেণিতে জেএসসি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। আগামী বছর থেকে শুরু হচ্ছে নতুন ব্যবস্থা। এ বিষয়ে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা সচিব হুমায়ূন খালিদ গণমাধ্যমকে বলেন, জাতীয় শিক্ষানীতির আলোকে প্রাথমিক শিক্ষাকে অষ্টম শ্রেণি উন্নীত করায় স্বাভাবিক ভাবেই পঞ্চম শ্রেণির পরীক্ষাটি রাখা আর প্রয়োজন নেই। আগামী বছর থেকেঅষ্টম শ্রেণিতেই পিএসসি পরীক্ষা হবে। এ সিদ্ধান্তটি আনুষ্ঠানিকভাবে অনুমোদনের জন্য সরকারের কাছে পাঠানো হয়েছে। এদিকে শিক্ষাবিদ ও সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, প্রাথমিক শিক্ষাকে অষ্টম শ্রেণিতে উন্নীত করায় নানা চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হবে সরকারকে। এটি বাস্তবায়ন করতে প্রাথমিক, নিম্ন মাধ্যমিক, মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক এই চার স্তরের শিক্ষা ব্যবস্থায় সমন্বয় আনতে তৈরি হবে জটিলতা। সঠিকভাবে সমন্বয় করতে না পারলে প্রত্যেকটি স্তরের অধ্যয়নরত প্রায় অর্ধকোটির বেশি শিক্ষার্থী ভোগান্তিতে পড়বে। এর সঙ্গে কয়েক হাজার শিক্ষককে পোহাতে হবে বড় ধরনের ঝামেলা। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত প্রাথমিক শিক্ষা বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে একটি বড় বিষয় হচ্ছে পাঠক্রম প্রণয়ন। জাতীয় শিক্ষানীতির আলোকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত নতুন পাঠ্যবই প্রণয়নের কাজ এরই মধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। কিন্তু মাধ্যমিক পর্যায়ে হয়নি। দুই স্তরের পাঠ্যক্রমে সেতুবন্ধন রচনা করা হবে নাকি ষষ্ঠ, সপ্তম ও অষ্টম শ্রেণির পাঠ পরিবর্তন করা হবে, এই নিয়েও যথেষ্ট চিন্তাভাবনা করা প্রয়োজন। “হঠাৎ করে সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের পদক্ষেপ না নিয়ে যথেষ্ট সময় নিয়ে আগে পাঠক্রম তৈরি ও অবকাঠামো গঠন করা জরুরী।” এ প্রসঙ্গে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিউটের সাবেক পরিচালক অধ্যাপক সিদ্দিকুর রহমান বলেন, ২০১০ সালে শিক্ষানীতি বাস্তবায়নের সরকারের গত ৬ বছরে তেমন কোনো অগ্রগতি নেই। হঠাৎ করে এমন সিদ্ধান্তে কেন গেল তা আমার জানা নেই। তবে প্রস্তুতি ছাড়া বাস্তবায়ন করতে গিয়ে প্রথমেই সমন্বয়হীনতার বিষয়টি সামনে চলে আসবে। এরপর আসবে কারিকুলাম প্রণয়ন, অবকাঠামোগত সমস্যা, শিক্ষক প্রশিক্ষণ, জনবল, ব্যবস্থাপনার সমস্যা বড় করে সামনে আসবে। এই চ্যালেঞ্জগুলো সরকার কীভাবে মোকাবিলা করবে তা কিন্তু এখনও পরিষ্কার নয়। মানে সরকারও জানে না এটি কীভাবে বাস্তবায়ন হবে। প্রস্তুতি ছাড়া এটি বাস্তবায়ন করলে তিন স্তরের শিক্ষার বিশৃঙ্খলা তৈরি হবে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কলা অনুষদের ডিন অধ্যাপক আখতারুজ্জামান বলেন, প্রাথমিক শিক্ষাকে অষ্টম শ্রেণিতে উন্নীত করার কাজটি একটি বড় কর্মযজ্ঞ। এটি বাস্তবায়ন করতে বেশ কিছু চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হবে। এর মধ্যে ক্লাস পরিবর্তনের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে সিলেবাস প্রণয়ন, কর্মমুখী সিলেবাস করাসহ আরো কয়েকটি চ্যালেঞ্জ সামনে আনতে হবে। এজন্য প্রয়োজন যথেষ্ট গবেষণা ও পর্যাপ্ত সময়। আজকে নেওয়া সিদ্ধান্ত কালকেই বাস্তবায়ন করতে হবে এমন কোনো বাঁধাধরা নিয়ম নেই। শিশুশিক্ষার মতো সেনসেটিভ বিষয়ে যে কোনো সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের জন্য যথেষ্ট প্রস্তুতি ও অবকাঠামো প্রণয়ন জরুরী।