আইলানের ছবি তুলে বিশ্ববাসীকে নাড়িয়ে দেন আলোকচিত্রী নিলুফা

1152

যুগবার্তা ডেস্কঃ তুরস্কের বদ্রাম এলাকায় বুধবার সমুদ্রতীর ধরে হাঁটছিলেন আলোকচিত্রী নিলুফার ডেমির। হঠাৎই তিনি সমুদ্রতটে পড়ে থাকতে দেখেন লাল টি-শার্ট, নীল প্যান্ট ও কালো জুতা পরা নিথর শিশুটির দেহ, যার ওপর দফায় দফায় আছড়ে পড়ছে সাগরের ঢেউ। বালুতে মুখ গুঁজে থাকা শিশুটিকে দেখে আতঙ্কে প্রায় জমে যান তিনি। তবে যখন নিশ্চিত হলেন শিশুটির জন্য কিছুই করার নেই, তখনই সঙ্গে থাকা ক্যামেরায় তুলতে শুরু করেন শিশুটির একের পর এক ছবি; যে ছবি নিয়ে এখন বিশ্বজুড়ে চলছে তোলপাড়। বলা হচ্ছে- তুরস্কের সমুদ্রতটে বালুতে মুখ গুঁজে পড়ে থাকা তিন বছরের শিশু আইলান কুর্দিও সেই ছবির কথাই।
সেই মুহূর্তটি প্রসঙ্গে তুরস্কের দোগান সংবাদ সংস্থার আলোকচিত্রী নিলুফার ডেমির সিএনএনকে বলেন, ‘শিশুটির জন্য কিছুই করার ছিল না। তার জীবন ফিরিয়ে দিতে করণীয় কিছুই অবশিষ্ট ছিল না।’ তিনি বলেন, “যখন বুঝলাম তার ছবি তোলা ছাড়া আর কিছুই করার নেই তখন আমি সেই কাজটিই করেছি। আমার মনে হয়েছিল, একমাত্র এভাবেই আমি শিশুটির ‘নিথর দেহের আর্তনাদ’ বিশ্বের কাছে তুলে ধরতে পারবো।”
সিএনএনের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২৯ বছর বয়সী ডেমির টিনএজ বয়স থেকেই দোগান সংবাদ সংস্থার হয়ে কাজ করছেন। গত কয়েকমাস ধরে তিনি শরণার্থী সংকট নিয়ে কর্মরত। এর আগেও বেশ কয়েকজন মৃত অভিবাসীর ছবি তুলেছেন তিনি। ছবিটি প্রসঙ্গে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শিশু আইলান কুর্দিও ভাগ্যে যা ঘটেছে তা আর পরিবর্তন করা সম্ভব নয়, তবে তার নিথর দেহের ছবি তুলে আলোকচিত্রী ডেমির আমাদের দেখিয়েছেন, যুদ্ধ নিরীহ মানুষকে যে ট্রাজেডির মুখোমুখি করছে তা শুধুই ‘পরোক্ষ ক্ষতি’ নয়।
প্রসঙ্গত, যুদ্ধবিধ্বস্ত সিরিয়ার নাগরিক আব্দুল্লাহ কুর্দি তার স্ত্রী এবং দুই সন্তান পাঁচ বছর বয়সী গালিব কুর্দি ও তিন বছর বয়সী আইলান কুর্দিকে নিয়ে পালিয়ে তুরস্কে চলে যান। গত বুধবার তুরস্কের বদ্রাম উপদ্বীপ থেকে নৌকায় করে সমুদ্রপথে গ্রীসে যাওয়ার সময় নৌকাটি ডুবে গেলে সমুদ্রে তলিয়ে যায় আব্দুল্লাহর স্ত্রী ও সন্তানরা। পরে সমুদ্রে ভাসতে ভাসতে শিশু আইলানের মৃতদেহ তুরস্কের উপকূলে পৌঁছায়।