জাতীয় দলে জায়গা পেতে চুল কেটে ছেলেদের সঙ্গে অনুশীলন

1

জাতীয় দলে খেলার জন্য অনুশীলনের সুযোগ পাচ্ছেন না। তাই ভিন্ন পথ অবলম্বন করলেন। চুল কেটে যোগ দিলেন ছেলেদের দলে। আর সেখানে ছেলে সেজে অনুলীলন করে জাতীয় দলে জায়গা করে নিলেন তিনি। বলছি ভারতের নারী দলের শেফালি ভার্মার কথা। যিনি দক্ষিণ আফ্রিকার নারী দলের বিরুদ্ধে ভারতীয় দলের হয়ে মাঠে নেমেছিলেন।

১৫ বছর বয়সী এই ক্রিকেটার প্রোটিয়াদের বিরুদ্ধে ৩৩ বলে ৪৬ রান করে সাড়া ফেলে দিয়েছেন। এই ম্যাচে প্রোটিয়াকে ৫১ রানে হারায় ভারতীয় দল।

অথচ ক্রিকেট শুরুর সময়টা বেশ চমকপ্রদ ছিলো তার জন্য। একজন মেয়ে হয়ে ছেলেদের ক্রিকেট খেলার আগ্রহ প্রকাশ করায় কখনোই সমর্থন পাননি বাইরের কারোর। তবে বাবা সঞ্জয় ভার্মার সমান আগ্রহ থাকার কারণেই এতদূর আসতে পেরেছেন শেফালি।

এ যাত্রায় ছেলেদের সঙ্গে অনুশীলন করার জন্য শৈশবেই নিজের বড় চুলগুলো কেটে ছোট করে ফেলতে হয়েছে শেফালিকে। যার ফলে কেউ বুঝতে পারেননি শেফালি ছেলে নাকি মেয়ে এবং খেলতে দিয়েছে তাদের সঙ্গে। এ গল্প জানা গিয়েছে শেফালির বাবা সঞ্জয়ের মুখ থেকেই।

তিনি বলেন, ‘যখন ওর বয়স ৮-৯ হবেম তখন আমি প্রতি রোববার ওকে পাড়ার মাঠে খেলতে নিয়ে যেতাম। কিন্তু বেশিরভাগই শেফালিকে নিতে চাইতো না। ওরা বলতো যে শেফালি ব্যথা পাবে। অথচ আমি ওর বাবা হয়েও বলতাম যে ব্যথা পেলে পাক, খেলায় নাও। তবু কাজ হতো না। এরপর ওর চুল কেটে বয়কাট দেয়া হলো। তখন কেউই বুঝতো শেফালি ছেলে নাকি মেয়ে। এরপর থেকেই প্রতি সপ্তাহে খেলতে পারতো সে।’

তিনি আরো বলেন, ‘শহরের বেশিরভাগ ক্লাবেই মেয়েদের নিতো না। অনেক খুঁজে আমি একটা ক্লাব পাই, যেখানে ছেলে-মেয়েরা একসঙ্গে খেলতো। সেটা আমাদের বাড়ি থেকে প্রায় ৮ কিমি দূরে ছিলো। প্রতিদিন নিজে সাইকেল চালিয়ে অনুশীলনে যেতো সে।’-আমাদের সময়.কম