ক্যাসিনো-দুর্নীতির রাজনৈতিক ঝুঁকি

4

ড. জিয়া রহমানঃ সমাজবিজ্ঞানের একজন গবেষক ও অপরাধ বিজ্ঞানের শিক্ষক হিসেবে দেশের বিদ্যমান পরিস্থিতি মূল্যায়নক্রমে প্রথমেই বলছি- সম্প্রতি ক্যাসিনো বন্ধের যে অভিযান চলছে তা খুবই সময়োপযোগী। দীর্ঘদিন ধরে আমাদের দেশে যেসব অপরাধ হচ্ছে তার একটি দুর্নীতি। আর স্বজনপ্রীতি দুর্নীতির সঙ্গে অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িত। আমাদের দেশে সমাজ কাঠামোর মধ্যে এমন কিছু রীতিনীতি আছে, যেগুলো দুর্নীতির সহায়ক। এর মধ্যে আঞ্চলিকতা, স্বজনপ্রীতি, জ্ঞাতি সম্পর্ক ও রাজনৈতিক সম্পর্ক অন্যতম। উন্নত বিশ্বের সঙ্গে অনুন্নত বিশ্বের পার্থক্য হচ্ছে, উন্নত বিশ্বে এক ধরনের প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো তৈরি হয়েছে। সেখানকার প্রতিষ্ঠানগুলো জবাবদিহির মধ্যে থেকে স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারে। ফলে অবৈধভাবে হস্তক্ষেপ করার সুযোগ থাকে না। আমাদের দেশের প্রতিষ্ঠানগুলো সেভাবে গড়ে ওঠেনি। ফলে ঐতিহাসিকভাবে প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের কাজের ক্ষেত্রে আঞ্চলিকতা, জ্ঞাতি সম্পর্ক বা রাজনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে প্রভাবিত হয়ে আসছে। উদাহরণ হিসেবে আমরা ক্যাসিনোর কথা বলতে পারি, যা বর্তমান সময়ে খুবই ধোঁয়াচ্ছন্ন অবস্থা তৈরি করেছে। জুয়া নিয়ন্ত্রণে ১৮৬৭ সালে যে আইন প্রণীত হয়েছে, তা আজও বলবৎ। যারা জুয়া নিয়ন্ত্রণ করবে অর্থাৎ পুলিশ বাহিনী, তারাও চলছে ১৮৬১ সালে প্রণীত আইন মোতাবেক। একবিংশ শতাব্দীতে এসেও আমরা দেখতে পাচ্ছি যারা ভক্ষক কার্যত তাদের কোনো নিয়ন্ত্রক নেই। তারা আইনের ফাঁক দিয়ে যে কোনো কিছু করতে পারছে। আর যারা রক্ষক তারা সেই পুরনো আইনে চলছে, যা ব্রিটিশরা প্রণয়ন করেছিল নিজেদের স্বার্থে, যেখানে জবাবদিহির লেশমাত্র নেই। ফলে ক্ষমতার সঙ্গে পুলিশের অশুভ আঁতাত বিদ্যমান। দীর্ঘদিন থেকে আমরা জুয়ার নামে ক্যাসিনো চলতে দেখছি। সেগুলো কেউ চিহ্নিত করেনি। অশুভ আঁতাতের মাধ্যমে একজন আরেকজনকে সাহায্য করেছে, উপঢৌকন বিনিময় চলেছে। এই হচ্ছে সত্যিকারের চিত্র। যেহেতু বিষয়টি বড় আকার ধারণ করেছে এবং এর সঙ্গে আরও ভয়াবহ অপরাধ যুক্ত হয়েছে, তাই একটি সামাজিক দাবির পরিপ্রেক্ষিতে প্রধানমন্ত্রী এই শুদ্ধি অভিযান শুরু করেছেন। বস্তুত এটা শুধু ক্যাসিনোকেন্দ্রিক অভিযান নয় বরং অন্যান্য অপরাধ যেমন চাঁদাবাজি, মাদক বা দেহব্যবসার মতো অপরাধগুলো একত্রিত হওয়ায় প্রধানমন্ত্রী তার দল থেকে অভিযান শুরু করেছেন। প্রথমে ছাত্রলীগের দুই নেতাকে ধরেছেন, তারপর যুবলীগসহ অন্য সংগঠনেও অভিযান পরিচালনার নির্দেশ দিয়েছেন, যা চলমান। প্রধানমন্ত্রীর এ উদ্যোগকে সাধুবাদ জানাই। দেশে এত সমস্যার মধ্যে অভিযান শুরু করা আর তা নিজ দলের মধ্য থেকে হওয়ায় এর গ্রহণযোগ্যতাও অনেক বেশি।

আশির দশকে দেখেছি, ব্রাদার্স ইউনিয়ন, মোহামেডানসহ অন্য ক্লাবগুলো হাউজি খেলার মাধ্যমে যে সামান্য আয় করত, তা ক্লাবের স্বার্থে ব্যয় করত। এতে এক ধরনের বিনোদনও ছিল। কিন্তু বর্তমানে যে অবস্থা দেখছি তাতে মনে হচ্ছে, ক্লাবগুলোর প্রধান কাজ ক্যাসিনো পরিচালনা করা। আর তাতে অন্য বড় অপরাধও যুক্ত হয়ে গেছে। কাজেই ক্রীড়াঙ্গনের, বিশেষত ফুটবলের যে অধঃপতিত অবস্থা তার কারণ সহজেই অনুমান করতে পারি। আমরা মনে করতে পারি, যে গুটিকয়েক লোককে ধরা হয়েছে তাদের সঙ্গে অনেক রাজনৈতিক নেতাই ওতপ্রোতভাবে জড়িত। আমাদের সমাজে অসমতা বিদ্যমান। হ্যানিমাল ফার্মেস জরওয়েলের সেই বিখ্যাত উক্তি- ‘অল আর ইকুয়েল, আর মোর ইকুয়েল দ্যান আদারস্‌।’ ঠিক একইভাবে আমরা দেখছি, কিছু মানুষের নাম এর সঙ্গে উঠে এসেছে আর অনেকেই ধরাছোঁয়ার বাইরে রয়েছে। প্রশ্ন হচ্ছে, গণমাধ্যমে যাদের নাম এসেছে তারাই কি শুধু ক্যাসিনোর উপকারভোগী, নাকি এর সঙ্গে আরও উপকারভোগী রয়েছে। যেহেতু আমাদের সমাজব্যবস্থা সনাতনী এবং এখানে অশুভ আঁতাত বিদ্যমান সে কারণে আমাদের বড় বড় রাজনৈতিক নেতা, পুলিশের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা, আমলা, সুশীল সমাজের কোনো সদস্য বা গ্রুপ এর সঙ্গে সম্পৃক্ত কি-না, সেটিও একটি বড় প্রশ্ন। এ ধরনের অপরাধের মধ্য দিয়ে এক দেশের মাফিয়াদের সঙ্গে অন্য দেশের মাফিয়াদের যোগসূত্র তৈরি হয়, অর্থ পাচার হয়। সম্প্রতি আমরা নেপালি ও চায়নিজদের ক্ষেত্রে তা-ই দেখলাম। গৃহযুদ্ধের পর শ্রীলংকা মাফিয়াদের দখলে চলে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে। আমরাও আন্তর্জাতিক মাফিয়া চক্রে পড়ে যাওয়ার আশঙ্কায় আছি। এ বিষয়ে তীক্ষষ্ট দৃষ্টি রাখা উচিত। আমরা একটি ক্লাবের চেয়ারম্যানকে দেখলাম, যিনি অত্যন্ত প্রথিতযশা একজন রাজনীতিবিদ। তিনি বলেছেন, ‘তিনি একদিন ক্লাবে গিয়েছিলেন।’ আমরা ব্যক্তি হিসেবে তাকে দায় দিচ্ছি না; কিন্তু ক্লাবের চেয়ারম্যান হিসেবে তার জানা দরকার ছিল, সেখানে কী হচ্ছে? তিনি বলেছেন, ‘যেখানে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কিছু জানতে পারেনি, সেখানে তিনি কীভাবে জানবেন।’ এটি দায়সারা মন্তব্য। সমাজে এ রকম বহু মানুষ আছেন, যারা ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে যান অপরাধ করেও এভাবেই। এই ক্যাসিনো থেকে উদ্ভূত অন্যায়, বিশেষ করে দুর্নীতির ক্ষেত্রে আমাদের দীর্ঘদিনের শিথিলতা রয়েছে। আমলাতন্ত্রে লালফিতার দৌরাত্ম্য আমরা দেখতে পাচ্ছি। আমরা উন্নয়নশীল দেশের কাতারে যাচ্ছি। বিংশ শতাব্দীর চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা ও প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বাড়াতে, বিশেষ করে পুলিশের দক্ষতা বৃদ্ধি ও রাজনৈতিক স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে এই অভিযানকে শেষ বিন্দু পর্যন্ত নিয়ে যাওয়া দরকার। তা না হলে আমরা বিগত সময়ে যে আইওয়াশ দেখেছি, তারই পুনরাবৃত্তি ঘটবে। আর তা হলে এ ধরনের অভিযান মূল্যহীন হবে।

আমরা দেখেছি, ক্যাসিনো ইস্যুতে যাদের আটক করা হয়েছে, তারা কোনো না কোনোভাবে আওয়ামী লীগে অনুপ্রবেশকারী। এটা সহজেই অনুমেয় যে, অনুপ্রবেশকারীদের কোনো আদর্শ থাকে না, তারা নিজের স্বার্থে দলকে ব্যবহার করে। তারা বেপরোয়াভাবে এ কাজগুলো করেছে। প্রকৃত অর্থে আওয়ামী লীগের একজন একনিষ্ঠ কর্মী এ ধরনের কাজ করতে পারে না। অনেকেই এমনটি বিশ্বাস করেন। আওয়ামী লীগ একটি অত্যন্ত জনপ্রিয় দল এবং এর গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাস রয়েছে। সাধারণ কর্মীরাই দলটির মূল শক্তি। আওয়ামী লীগের মধ্যেও অনেক ভুল-ত্রুটি রয়েছে, এটা স্বাভাবিক। এটি একটি লিবারেল রাজনৈতিক দল। উগ্র বা ক্যাডারভিত্তিক রাজনৈতিক দল নয়; কিন্তু আওয়ামী লীগকে যে বিষয়টি সতেজ করে রেখেছে তা হচ্ছে, এর কর্মীদের ত্যাগ। আজ অনুপ্রবেশকারীরা কোনো না কোনোভাবে আওয়ামী লীগকে গ্রাস করে ফেলেছে। এটি খুবই দুঃখজনক। এই অভিযানের পাশাপাশি আওয়ামী লীগের দলীয় শুদ্ধি অভিযান জরুরি। কে নেতা আর কে অনুপ্রবেশকারী, তা জানা দরকার। অর্থাৎ দৃষ্টি দিতে হবে উৎসে। বিষয়টি আওয়ামী লীগের পলিসির মধ্যে নিয়ে আসতে হবে। এটা ঠিক যে, একবিংশ শতাব্দী বা বিশ্বায়নের এই যুগে শুধু অন্য দল থেকে এসেছে, এই কথা বলে আওয়ামী লীগ জনগণের কাছে ব্যাখ্যা পরিস্কার করতে পারবে না। কারণ দলটির নেতারাই অনুপ্রবেশকারীদের স্থান দিয়েছেন এবং তারাও লাভবান হয়েছেন। এটি রাজনৈতিক অশুভ আঁতাত। আমরা জানি, ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টের পর এ দেশে লুটপাটের নেতৃত্ব বিস্তৃত হয়েছে। বিএনপি ও জাতীয় পার্টির মতো দলগুলোর মূল লক্ষ্যই লুটপাট। তারা মূলধারার রাজনীতিকে কলুষিত করেছে। আমরা জানি, বিভিন্ন পেশাজীবী এবং আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গ সংগঠনে যারা অনুপ্রবেশ করেছে, তারা খুবই সক্রিয়ভাবে নেতিবাচক কাজগুলো করছে। এটি আওয়ামী লীগের ভবিষ্যৎ রাজনীতিতে দুঃখজনক পরিণতি বয়ে আনতে পারে। কারণ দলের একনিষ্ঠ লোকজন যদি সম্মান না পায়, তাহলে তারা দলের জন্য ত্যাগ স্বীকার করার মনোবল হারিয়ে ফেলবে। উল্লেখ্য, লোকমান ভূঁইয়াকে আমরা দূর থেকে দেখেছি। এ রকম একজন মানুষ কীভাবে বিসিবির মতো জায়গায় দায়িত্ব পালন করেন? সাংবাদিকরা তাকে খালেদা জিয়ার নিরাপত্তা কর্মী বা বিএনপির নেতা হিসেবে চিহ্নিত করছেন। কিন্তু আমরা যারা সে সময় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করেছি, তারা তাকে ছাত্রদলের মিছিলে দেখেছি। কিন্তু এ বিষয়টি কেউ বলছেন না। কাজেই এভাবে চলতে থাকলে আওয়ামী লীগ অন্যান্য দলের সঙ্গে মিশে যাবে।

এখন প্রয়োজন হলো, কয়েকটি দৃষ্টিকোণ থেকে এই শুদ্ধি অভিযান পরিচালনা করা। প্রথমত, এ সংক্রান্ত আইনের সংস্কার জরুরি। ক্রিমিনাল জাস্টিস সিস্টেমে যদি যুগোপযোগী ব্যবস্থা না থাকে, তাহলে কোনো দেশেই আইনের শাসন প্রতিষ্ঠিত হতে পারে না। আর আইনের শাসন না থাকলে ব্যক্তির অধিকার সংরক্ষণ করা যায় না। দ্বিতীয়ত, আমরা যেহেতু পশ্চিমা সমাজের আদলে একটি সমাজ বিনির্মাণ করছি, সেই জায়গায় আমরা পুঁজিবাদী সমাজব্যবস্থার একটি ছোট সংস্করণে আছি। আমাদের বড় বাধা হলো, একদিকে আমাদের সমাজে রক্ষণশীলতা বিদ্যমান, অন্যদিকে আমরা উন্নত বিশ্বের বহু রীতিনীতি গ্রহণ করেছি। স্বভাবতই আমাদের এখন এসব বিষয় নিয়ে গভীরভাবে পর্যালোচনা করতে হবে। মালয়েশিয়া-ইন্দোনেশিয়ার মতো ইসলামিক রাষ্ট্রে আমরা ক্যাসিনোর ব্যবহার দেখতে পাই। আবার আমেরিকায় রয়েছে ক্যাসিনোর ২৫০ বিলিয়ন ডলারের ইন্ডাস্ট্রি, যেখান থেকে সরকারের বার্ষিক আয় ৯ বিলিয়ন ডলার। তারা সেই আয় শিক্ষা ও জনকল্যাণে ব্যয় করছে। যে উদ্দেশ্য নিয়ে আমরা আমাদের সমাজ গড়ে তুলেছি, সেখান থেকে বিকল্প ভাবার অবকাশ নেই। আমরা যদি সমাজতান্ত্রিক ব্যবস্থায় থাকতাম, তাহলে এই সংস্কারের বিরোধিতা করতে পারতাম। কেননা পুঁজিবাদী সমাজের মূল বিষয় হচ্ছে, জীবনধারায় পরিবর্তন আসবে, কিছু মানুষের হাতে অর্থ আসবে। তাদের জন্য বিনোদনের ব্যবস্থা না করা গেলে পুঁজিবাদী সমাজে প্রবেশ থেকে ছিটকে পড়তে হবে। কারণ এটাই হচ্ছে রুলস অব দ্য গেইম।

আধুনিক সমাজব্যবস্থার নিয়ামকগুলোর ব্যাপারে আমাদের চিন্তা করতে হবে। শুনতে একেবারেই অপ্রাসঙ্গিক। ঢাকা শহরের ক্লাবগুলো যথা- ঢাকা ক্লাব, গুলশান ক্লাব বা বনানী ক্লাবে যা হয়, তা কি আইনের মধ্যে হয়? সেখানে আইনের ব্যত্যয় ঘটছে। তাই এসব বিষয় নিয়ে ভাবতে হবে। একটা বিষয় সবার চিন্তায় আসছে- তা হলো, পশ্চিমা বিশ্বে ভিকটিমের অধিকার সংরক্ষণে অনেক ধরনের জাস্টিস সিস্টেম দেখা যায়, যার একটি হচ্ছে রেসটিটিউশন। এর একটি প্রকরণ হচ্ছে নটোরিয়াস ক্রাইমের মাধ্যমে যারা অর্থ সঞ্চয় করেছে, তা আইনের মাধ্যমে তাদের কাছ থেকে নিয়ে ভিকটিমের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া। আর যদি ভিকটিম না থাকে তাহলে সেই অর্থ সাধারণ মানুষের কল্যাণে ব্যয় করা যায় কি-না, সে লক্ষ্যে নতুন নতুন আইন তৈরি করা খুব জরুরি। অভিযানে আমরা কোটি কোটি টাকা অব্যবহূত পড়ে থাকতে দেখেছি। সেই টাকা ভালো কাজে ব্যবহার হওয়া উচিত। এই টাকার অধিকার রাষ্ট্রের জনগণের। কারণ এই টাকা রাষ্ট্রীয় সব রীতিনীতিকে অমান্য করে সঞ্চিত হয়েছে। রাষ্ট্রের স্বার্থেই এমন আইন হওয়া উচিত। আর যদি তা না হয়, তাহলে সেই নতুন বোতলে পুরনো মদের মতো বিষয়টি দাঁড়াবে। দু’দিন পর তারা আবার বীরদর্পে সামনে চলে আসবে। এর মধ্য দিয়ে প্রধানমন্ত্রীর উদ্যোগটি মুখ থুবড়ে পড়বে। কাজেই উৎসে দৃষ্টি দিতেই হবে।-সমাজবিজ্ঞানী ও অধ্যাপক, অপরাধ বিজ্ঞানবিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।-(সূত্র : সমকাল)