যুদ্ধের প্রস্তুতি নিচ্ছে কুয়েতের সেনাবাহিনী

4

যুদ্ধের জন্য নিজেদের প্রস্তুতির মাত্রা বাড়ানোর পাশাপাশি সামরিক মহড়া চালাচ্ছে কুয়েতের সেনাবাহিনী। সৌদি তেল স্থাপনায় হামলায় ইরানকে দায়ী করার পর উপসাগরীয় অঞ্চলে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনাকে সামনে রেখে বুধবার এমন দাবি করছে তারা।

এ ছাড়া শনিবার দেশটির আকাশসীমায় একটি ড্রোনের অনুপ্রবেশ ও রাজপ্রাসাদের ওপর দিয়ে উড়ে যাওয়ার যে খবর শোনা যাচ্ছে, সেটি নিয়েও তদন্তের ঘোষণা দিয়েছে কুয়েত সরকার। একই দিন সৌদি আরবে হামলায় দেশটির তেল উৎপাদন অর্ধেকের বেশি কমে গিয়েছিল।

টুইটারে পোস্ট করা একটি বিবৃতিতে কুয়েত সেনাবাহিনী বলছে, দেশের ভেতর উত্তেজনা বাড়ার প্রসঙ্গে সেনাপ্রধান বিভিন্ন ইউনিটের যুদ্ধ প্রস্তুতি বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন।

তারা জানায়, দেশের সুরক্ষা ও ভূমির নিরাপত্তা সংরক্ষণে যুদ্ধের দক্ষতা ও প্রস্তুতি সর্বোচ্চ মাত্রায় নিয়ে যেতে বলা হয়েছে।

শনিবারে সৌদি আরবের দুটি তেল স্থাপনায় হামলার দায় স্বীকার করেছে প্রতিবেশী ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীরা। কিন্তু হামলার জন্য ইরানকে দায়ী করছে যুক্তরাষ্ট্র। তাদের ধারণা, ইরাকের মাটি থেকে এ হামলা চালানো হয়েছে।

সৌদি প্রতিরক্ষামন্ত্রী বুধবার বলেছে, উত্তরাঞ্চল থেকে ড্রোন ও ক্রুজ মিসাইল হামলা চালানো হয়েছে। কাজেই হুতিদের দাবি নাকচ করে দিয়েছেন তিনি।

তবে হামলায় যে কোনো ধরনের সংশ্লিষ্টতার কথা অস্বীকার করেছে ইরাক। দেশটি বলছে, প্রতিবেশীদের ওপর হামলা চালাতে ইরাকের মাটি ব্যবহার প্রতিরোধে আমরা সাংবিধানিকভাবে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

ইরাক ও সৌদি আরবের সঙ্গে স্থল আর ইরানের সঙ্গে নৌ সীমান্ত রয়েছে কুয়েতের। কুয়েতের আলরাই পত্রিকা বলছে, শনিবার সন্ধ্যায় ছোট গাড়ির আকারের একটি মানববিহীন ড্রোন রাজপ্রাসাদের আড়াইশ মিটারের কাছে চলে আসে। এরপর বাতি জ্বালিয়ে উড়ে চলে যায়।

খবরে বলা হয়, কুয়েতের আমির শেখ সাবাহ আল-আহমাদ আল-সাবাহের সমুদ্র তীরবর্তী আবাসিক প্রাসাদের ওপর দিয়ে উড়ে চলে গেছে। শেখ সাবাহ বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে মেডিকেল পরীক্ষার ভেতর দিয়ে যাচ্ছেন।

কুয়েতের সরকার ইতিমধ্যে গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাকে ঘিরে নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা বাড়িয়েছে।-যুগান্তর