মেডিকেল কলেজ শিক্ষার্থীদের ইন্টার্ণশীপ খসড়া নীতিমালা শিক্ষার্থীরা ক্ষুব্ধ

7

যুগবার্তা ডেস্কঃ মেডিকেল কলেজ শিক্ষার্থীদের ইন্টার্নশীপের মেয়াদসংক্রান্ত প্রণীতখসড়া নীতিমালা নিয়ে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে মেডিকেল কলেজ শিক্ষার্থীদের মধ্যে। খসড়া নীতিমালায় দুই বছরের ইন্টারর্নশীপের কথা বলা হয়েছে। এর মধ্যে এক বছর নিজের মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে, বাকি এক বছর দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে। স্বাস্থ মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে খসড়াটি প্রকাশ করা হয়। কিন্তু তা নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টি হলে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ওয়েবসাইট থেকে খসড়া নীতিমালাটি সরিয়ে ফেলা হয়। ঢাকা ও এর বাইরের বিভন্ন শহরে এই খসড়ার বিরুদ্ধে প্রতিবাদে মাঠে নামে মেডিকেল কলেজ শিক্ষার্থীরা

সরকারি ও বেসরকারি মেডিকেল কলেজের একাধিক শিক্ষার্থী জানান, এই খসড়া নীতিমালা বাস্তবায়ন করা হলে তারা বিপাকে পড়বেন। এর কারণ হিসেবে বলেন, ইন্টার্নশীপ মানে হলো প্রাকটিক্যালি শেখা। গ্রামে গেলে যা তারা শেখতে পারবেন না। কয়েকজন চিকিৎসকও এর সাথে সম্মতি প্রকাশ করে বলেন, উপজেলা পর‌্যায়ে একজন ছাত্রের আসলে শেখার সুযোগ নাই। কেননা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোতে আধুনিক মেডিকেল যন্ত্রপাতির অভার রয়েছে। এছাড়া অভিজ্ঞ চিকিৎসকের সংখ্যাও খুব কম। বিপরীতে মেডিকেল কলেজ হাসপাতালগুলোতে এই সুবিধাগুলো রয়েছে। এছাড়া অনেকে আবাসিক ও যাতায়ত সমস্যার কথাও বলেছেন।

খসড়া নীতিমালায় স্টেকহোল্ডারদের সাথে আলোচনা করছে বলে কথা বলা হলেও এর পক্ষে নন তারা। বাংলাদেশ প্রাইভেট মেডিকেল কলেজ এসোসিয়েশন (বিপিএমসিএ) এর সভাপতি এম এ মুবিন খান বলেন, ‘স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের আলোচনা সভায় আমরা বলেছিলাম, বিষয়টি অত্যন্ত স্পর্শকাতর। এ বিষয়ে তড়িঘড়ি করে সিদ্ধান্ত না নিয়ে ভেবে চিন্তে সকল স্টেকহোল্ডারদের সাথে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত। অন্যথায় শিক্ষারর্থীদের মথ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হবে।

এর বাইরে নিরাপত্তার প্রসঙ্গও এনেছেন মেডিকেল কলেজ সংশ্লিষ্টরা। বিশেষ করে বিদেশী শিক্ষার্থীদের প্রসঙ্গ তুলে ধরেছেন। প্রত্যন্ত অঞ্চলে তাদের নিরাপত্তা দেবে কে? তারা জানান, বেসরকারি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালগুলো থেকে প্রতি শিক্ষা বর্ষে এক হাজারের বেশি বিদেশী শিক্ষার্থী বেরুচ্ছেন।

খসড়া নীতিমালায় আরও বলা হয়, দুই বছরের ইন্টার্নশীপের প্রথম বছরে শিক্ষারর্থীদের খরচ বহন করবে মেডিকেল কলেজগুলো। অপর বছর গ্রামে গেলে সরকার তাদের খরচ দেবে। কিন্তু মেডিকেল কলেজ শিক্ষার্থীদের ইন্টার্নশীপের খরচ বহন করার ব্যাপারে অর্থ মন্ত্রণালয়ে এ ধরণের কোনো বাজেট পাশ হয়নি এখনও। এটিকে অপরিপক্ক সিদ্ধান্ত হিসেবে দেখছেন মেডিকেল সেক্টরের বিশেষজ্ঞরা। আর তাতে সাধরণ শিক্ষার্থীরা ভবিষ্যতে মাঠে নামলে সরকার বিব্রত হতে পারে। তাই স্টেকহোল্ডাররা চান সকলের সাথে আলোচনা না করে এ ধরণের সিদ্ধান্ত যেন স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় চাপিয়ে না দেয়।