ঐতিহাসিক বাকেরখানী রুটি

6

আজিজুর রহমানঃ ভাটি অঞ্চলের জমিদার ছিলেন আগা বাকের খাঁ। বৃহত্তর ঢাকা, বরিশাল, ফরিদপুর জেলার বিস্তীর্ণ অঞ্চল জুড়ে ছিল তার জমিদারী এলাকা। জনহিতৈষী, প্রভাবশালী ও বহু রাজনৈতিক উত্থান পতনের নায়ক ছিলেন তিনি। তারই নামানুসারে নামকরণ করা হয়েছিল বাখেরগঞ্জ জেলা (অধুনা বরিশাল জেলা ) এবং ঢাকা মহানগরীর আাগারগাঁও। তবে বাখেরগঞ্জ বা আগারগাঁওয়ের চাইতেও তার নাম ইতিহাসে অমর করে রেখেছে যে বস্তুটি সেটা একটা মজাদার খাদ্য। নাম তার বাকেরখানী রুটি। ইতিহাস বলে, এক সময় রেওয়াজ ছিল উপঢৌকন হিসেবে বাকেরখানী রুটি পাঠাবার। আঠারো শতকের মাঝামাঝি সময়ে আগা বাকের খাঁ’র হাত ধরেই জন্ম হয় এই বাকেরখানী রুটির এবং কালের বিবর্তনে এটা পরিনত হয় ঢাকা নগরীর ইতিহাসের সবিশেষ একটি অংশে। সেকালের বনেদি পরিবারগুলোর দৈনন্দিন খাদ্য তালিকায় এবং অতিথি আপ্যায়নে এই বাকেরখানী রুটির স্থান ছিল সর্বাগ্রে।

পূর্ব কথা
জমিদার আগা বাকের খাঁ কিন্তু এই দেশের সন্তান ছিলেন না। তুর্কি দেশ হতে ভাগ্যের সন্ধানে ক্রীতদাসরূপে এ দেশে এসে সুনজরে পড়েন তদানীন্তন বাংলার সুবেদার মুর্শিদকুলি খানের। সুবেদার বালক আগা বাকের খাঁকে পুত্রস্নেহে লালন পালন করেন। তরুণ বয়সে বাকের খাঁ প্রেমে পড়েন রাজধানী মুর্শিদাবাদের নর্তকী খনি বেগমের। অন্যদিকে খনি বেগমের প্রেমপ্রার্থী ছিলেন নগর কোতোয়াল জয়নাল খাঁ। জয়নালের চক্রান্তে সুবেদার মুর্শিদকুলি খান আগা বাকের খাঁকে মৃত্যুদন্ড দিলেন বাঘের খাঁচায় নিক্ষেপ করে। প্রিয়তমা খনিকে পাওয়ার প্রবল আকাংখায় আগা বাকের খাঁ বাঘের সাথে লড়াই করে প্রাণে বেঁচে গেলেও খনিকে অপহরণ করে জয়নাল খাঁ। প্রেমিকাকে উদ্ধারের লক্ষ্যে বাকের খাঁ রণসাজে উপস্থিত হলে জয়নাল হত্যা করে খনি বেগমকে আর নিজে হয় আত্মঘাতী।

আগা বাকের খাঁ আর তার প্রেয়সী খনির মিলিত নামে নামকরণ করা হয় মজাদার, মনোরম, সুস্বাদু বাকেরখানী রুটির। যা ঢাকা নগরীর ইতিহাসের একটি বর্ণাঢ্য অধ্যায়।-লেখকঃ একজন রাজনীতিবিদ।