উজিরপুরে এল জি ইডি’র তিন কোটি পচাত্তর লক্ষ টাকার প্রকল্প এখন পানীতে

28

কল্যাণ কুমার চন্দঃ দুর্নিতী আর লুটপাটে জন্ম নেয়া এল জি ইডি’র অর্থায়নে নির্মিত ধামুড়া-সাতলা সড়কের নির্মান কাজ শেষ হতে না হতেই রামের কাঠি অংশে বেস কয়েক জায়গায় ভেঙ্গে গেছে নতুন এই সড়ক। আবার কোথাও কোথাও সড়কের মাঝখানে উঠে যাচ্ছে কার্পেটিং। এই সড়কে প্রতিদিন চলাচল কারী শিক্ষক পিটু মজুমদার, ওটরা এলাকার বাসিন্দা প্রধান শিক্ষক মোঃ দেলোয়ার হোসেন, ব্যাবসায়ী মোঃ কবির হোসেন হাওলাদার ক্ষোভ প্রকাশ করে জানিয়েছেন এই সড়কটি নির্মানে ক্ষমতার অপব্যাবহার করে চরম দুর্নিতীর মাধ্যমে ঘুশ বানিজ্য করে সব থেকে বেশি লাভবান হয়েছেন উজিরপুরের উপজেলা প্রকৌশলী মোঃ ইউনুস আলী৷
তিনি এতই প্রভাবশালী ও ক্ষমতাবান যে, নতুন সড়কটি হঠাৎ করে বিভিন্ন জায়গায় ভেঙ্গে যাওয়া ও সড়কের মাঝখান থেকে কার্পেটিং উঠে যাওয়ায় সপ্নের এই সড়কটি যে আবারও জানবাহন চলাচল ও জনগনের জন্য বড় ধরনের ঝুকি হয়ে দারিয়েছে এবং সরকারী প্রায় তিন কোটি পচাত্তর লক্ষ টাকা গচ্ছা যেতে বসেছে , সে ব্যাপারে উপজেলা প্রকৌশলীর যেনো কোন চেতনাই নেই । সড়ক সম্পর্কিত বিষয় জানার জন্য গত ১৮ আগষ্ট থেকে ২৩ আগষ্ট পর্যন্ত তার ব্যাবহৃত 01711475705 নাম্বারে মোট ৫১ বার ফোন করলেও তিনি তা রিসিপ করেন নি।  ইউনুস আলীর সাথে কথা বলার জন্য এই প্রতিনিধি আর কোনো উপায় না পেয়ে গত ২১ আগষ্ট উপজেলা পরিষদে তার অফিসে দেখা করতে গিয়ে তাকে না পেয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মাসুমা আক্তারকে ওই সড়ক সংক্রান্তে এবং উপজেলা প্রকৌশলীর ফোন রিসিপ না করার বিষয়টি বলে আসেন। ঘটনা শুনে নির্বাহী অফিসার এই প্রতিনিধিকে ইঞ্জিনিয়ার ফোন করবেন বলে আস্বস্ত করেন। তার কিছু সময় পরেই ইঞ্জিনিয়ার ইউনুস আলী প্রতিনিধিকে ফোন কল ব্যাক করেন এবং তিনি জরুরি একটা মিটিংয়ে আছেন, রাতে বিস্তারিত কথা হবে, এটুকু বলেই কোন তথ্য না দিয়ে ফোনটি কেটে দেন, এর পর থেকে তিনি আর কোনো ফোন কল রিসিপ করেন নি। 
বরিশালের উজিরপুর উপজেলার ধামুড়া সাতলা সড়কের ধামুড়া কলেজ থেকে চেরাগ আলী মার্কেট পর্যন্ত প্রায় পাঁচ কিলোমিটারের এ সড়কটি কমপক্ষে চার বছর সকল প্রকার যানবাহন চলাচলের অনুপযোগী ছিলো। সাতলা বরিশাল লাইনের গন পরিবহন (বাস) সহ ছোট ছোট যাত্রী বোঝাই বিভিন্ন জানবাহন এই সড়কে বহুবার ভয়ংকর দুর্ঘটনার কবলে পতিত হয়েছে এবং বহু মানুষ ওই সব দুর্ঘটনায় পঙ্গুত্ব বরন করেছে৷ এ কারনে নতুন ভাবে নির্মিত এই সড়কটি ধামুড়া থেকে সাতলা বাসীদের কাছে সপ্নের সড়ক হিসাবে চিহ্নিত হয়েছে৷
সহকারী উপজেলা প্রকৌশলী এস, এম জিয়াউল হক জানিয়েছেন ২০১৮ -১৯ অর্থ বছরে এল জি ইডি’র ফ্লাট ড্যমেইজ রিপেয়ারিং প্রকল্প ( এফ,ডি,আর) থেকে তিন কৌটি পচাত্তর লাখ টাকার উর্দ্ধে বরাদ্দ দেওয়া হয় সড়কটি পূনঃ নির্মান করার জন্য৷ সেই মোতাবেক বরিশালের খ্যাতনামা কনষ্ট্রাকশন প্রতিষ্ঠান আমির ইঞ্জিনিয়ারিং কোম্পানী এই সড়কটি নির্মান কাজের দ্বায়িত্ব পায়৷
২০১৮ সালে সড়কটির নির্মান কাজ শুরু করে ২০১৯ সালের ৩০ জুন কাজ শেষ করে নির্মানকারী প্রতিষ্ঠান৷ কাজটি শুরু থেকেই নিম্ন মানের ইট খোয়া বালু ব্যাবহারের অভিযোগ ছিলো সড়ক ব্যাবহারকারী জানবাহন গুলোর শ্রমিক ও স্থানীয় জনসাধারনের। তারা বার বার অভিযোগ করার ফলে গত এপ্রিল মাষে সংশ্লিষ্ট উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষ পচা গলা ইটের খোয়া দিয়ে রোলার চাপা দেওয়ার সময় হাতে নাতে তা ধরা পরে এবং তাৎক্ষনিক সড়কের সকল কাজ তারা বন্ধ করে দেয়৷এর কিছুদিন পরেই মে মাষে উপজেলা প্রকৌশলী মোঃ ইউনুস আলীর যোগ সাজসে রাতারাতি সেই নিম্ন মানের ইট খোয়া ব্যাবহার করে পুনরায় সড়কের কাজ শুরু করে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান,ওই সময় ওই সড়কে চলাচলকারীদের মধ্যে অনেকেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ওই নিম্ন মানের পচা গলা ইটের ছবি সহ কাজ মান সম্মত হচ্চে না বলে প্রচার প্রচারনা করে এই কাজের প্রতিবাদ করেছিলেন ।কিন্তু কর্তৃপক্ষ তাতে কোন ব্যাবস্থা না নিয়ে খুব দ্রুত কাজ শেষ করে জুন মাষেই চলাচলের জন্য সড়ক উন্মুক্ত করে দেয়, এবং আগষ্ট মাষের ১২ তারিখে প্রথম রামেরকাঠির অংশে সড়কের মাঝখান থেকে কার্পেটিং উঠে যেতে থাকে এবং ১৫ আগষ্ট একই এলাকায় দুই /তিন জায়গায় বড় বড় চাক ধরে সড়ক ভেঙ্গে যেতে থাকে ।  এ বিষয় কথা বলার জন্য ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের মালিক আমির হোসেনের সাথে ২৩ আগষ্ট যোগাযোগ করলে তিনি বলেন ওই সড়ক নির্মানের জন্য অনেক উচু করে ডিজাইন করা হয়েছে,কিন্তু প্রস্তাবিত দরপত্রে সড়ক সংরক্ষনের জন্য কোন প্রকার প্রটেকশন ওয়ার্ক (বাজেট)ধরা ছিলো না ,ফলে সড়কের দুই পাশে যদি কোন নদী পুকুর বা ডোবা থাকে তবে সেখান থেকে সড়ক ভেঙ্গে যেতে পারে ।সড়কের মাঝখান থেকে কার্পেটিং উঠে যাওয়ার প্রশ্নে তিনি বলেন এরকম হওয়ার কথা নয়,তবে যদি এরকম হয়ে থাকে সেক্ষেত্রে আগামি এক বছরের মধ্যে সড়কের যাবতীয় ক্ষয়ক্ষতি হলে তা আমাকে মেরামত করে দিতে হবে এবং ভেঙ্গে যাওয়া অংশগুলো ইতিমধ্যে আমরা মেরামতের কাজ শুরু করে দিয়েছি। এ অবস্থায় ধামুড়া সাতলা সড়কে চলাচলকারী যানবাহনের শ্রমিক সহ সড়ক ব্যাবহারকারী জনগন আতংক আর উৎকণ্ঠায় তাদের জীবন অতিবাহিত করছেন বলে অভিমত ব্যাক্ত করেছেন এবং সেই সাথে তারা উপজেলা প্রকৌশলী সহ সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যাবস্থাও প্রত্যাশা করেছেন।