প্লানেট ৫০-৫০ অর্জনে নারীর ক্ষমতায়নের পূর্ণ বাস্তবায়ন অপরিহার্য–স্পীকার

1

যুগবার্তা ডেস্কঃ বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের স্পীকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী এমপি বলেছেন, “বৈশ্বিকভাবে লিঙ্গসমতা আনয়নের জন্য ‘প্লানেট ৫০-৫০’ অর্জনে নারীর ক্ষমতায়নের পূর্ণ বাস্তবায়ন অপরিহার্য”।

তিনি গতকাল সকালে জাতিসংঘ সদরদপ্তরে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতি মিজ্ মারিয়া ফার্নান্দে এসপিনোসা গার্সেজ এর সভাপতিত্বে ‘টেকসই বিশ্বের জন্য লিঙ্গসমতা ও নারী নেতৃত্ব’ শিরোনামে অনুষ্ঠিত লিঙ্গসমতা বিষয়ক বৈশ্বিক নেতাদের অনানুষ্ঠানিক সভায় ‘টেকসই উন্নয়নের জন্য লিঙ্গসমতা ও একীভূত সমাজ’ শীর্ষক প্যানেল আলোচনায় অংশ নিয়ে একথা বলেন।

স্পীকার লিঙ্গসমতা অর্জনে বিশ্বনেতাদের করণীয় সম্পর্কে আলোকপাত করেন। তিনি বলেন, “ক্ষমতা-কাঠামো পরিবর্তন করতে হবে। এজন্য প্রয়োজন সংসদ সদস্যগণের সক্রিয় ভূমিকা- – আর এখনই সেটা বাস্তবায়নের উপযুক্ত সময়। এ সময় তিনি সংসদ সদস্যদের লিঙ্গসমতা অর্জনে ক্ষমতা-কাঠামো পরিবর্তনে কার্যকর ভূমিকা রাখার আহবান জানান।

ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দূরদর্শী নেতৃত্বে বাংলাদেশে লিঙ্গসমতা অর্জন ও নারীর ক্ষমতায়নের জন্য জাতীয় নারী উন্নয়ন নীতি প্রণয়ন করা হয়েছে। এছাড়াও তিনি অতিদরিদ্র নারীদের জন্য সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী সৃষ্টি, বিধবা ভাতা, প্রসূতি নারীদের ভাতা, পেশা উন্নয়ন ও তথ্য-প্রযুক্তিগত প্রশিক্ষণ, নারীর প্রতি সহিংসতা রোধসহ যে সকল পদক্ষেপ বাস্তবায়ন করা হয়েছে তা উল্লেখ করেন। তিনি প্লানেট ৫০-৫০ অর্জন এখন সময়ের দাবী বলেও উল্লেখ করেন।

স্পীকার বলেন, “বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ নারী ক্ষমতায়নের প্রকৃষ্ট উদাহরণ। সংসদ নেতা ও বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী নারী, স্পীকার, সংসদ উপনেতা, বিরোধীদলীয় উপনেতা এবং বর্তমান মন্ত্রী পরিষদের অনেক গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে নারীরা রয়েছেন। নারীদের জন্য সংরক্ষিত আসন রয়েছে ৫০টি এবং বর্তমান সংসদে ২৩ জন নারী সংসদ সদস্য সরাসরি ভোটে নির্বাচিত হয়েছেন। সামরিক বাহিনী, প্রশাসন, পুলিশ, আইন ও বিচার বিভাগীয় প্রতিষ্ঠানসহ সকল ক্ষেত্রেই রয়েছে নারীর দৃশ্যমান উপস্থিতি। জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী মিশনে বাংলাদেশের নারীরা সুনামের সাথে কাজ করছেন। দেশে ৪০ লাখেরও বেশি নারী তৈরি পোশাক শিল্পে কাজ করছে যা লিঙ্গসমতার উজ্জ্বল উদাহরণ।

তিনি আরও বলেন, নারীরা এগিয়ে যাচ্ছে। প্রথাগত ধারণা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে- – আর তাহলেই লিঙ্গসমতা অর্জন সম্ভব। নারীর প্রতি সহিংসতা রোধে এবং নারী ক্ষমতায়নের ক্ষেত্রে বৈশ্বিক পদক্ষেপসমূহকে আরও শক্তিশালী করার উপর গুরুত্বারোপ করেন স্পীকার।

সভায় উদ্বোধনী বক্তব্য রাখেন জাতিসংঘের ৭৩তম সাধারণ পরিষদের সভাপতি মিজ্ মারিয়া ফার্নান্দে এসপিনোসা গার্সেজ।

পরে স্পীকার জাতিসংঘ সদরদপ্তরে এইচএলপিএফ এর পার্লামেন্টারি ফোরাম আয়োজিত ‘গ্রোয়িং ইনিকোয়ালিটিস এন্ড ডিসট্রাস্ট ইন গভর্ণমেন্ট: ব্রেকিং দ্য সাইকেল’ শীর্ষক প্যানেল আলোচনা অনুষ্ঠানে যোগ দেন। প্যানেল আলোচক হিসেবে তিনি বলেন, “অসমতার দুষ্টচক্র ভেঙ্গে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যসমূহ অর্জন করতে হবে। অসমতা দূর করার ক্ষেত্রে সংসদ সদস্যদের দায়বদ্ধতা রয়েছে”। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের প্রান্তিক এলাকাসমূহের মানুষের যে সকল অসমতা রয়েছে তা দূর করার উপর জোর দেন স্পীকার।

তিনি বলেন, বিগত এক দশকে বাংলাদেশে দারিদ্র্যের হার ৪০ শতাংশ থেকে ২১ শতাংশে এবং অতিদারিদ্র্যের হার ২৫ ভাগ থেকে ১১ভাগে নেমে এসেছে। তিনি বিশ্বব্যাপী অসমতা দূর করতে শিক্ষা ও প্রযুক্তিগত জ্ঞান অর্জনের উপর জোর দেন। এসকল ক্ষেত্রে নিজ নিজ এলাকার অসমতা চিহ্নিত করে তা দূর করতে সংসদ সদস্যদেরকে আরও কার্যকর ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান স্পীকার।

ইন্টার পার্লামেন্টারি ইউনিয়ন (আইপিইউ) এর সভাপতি মিজ্ গ্যাব্রিয়েলা কুইভাস ব্যারন এ সভায় উদ্বোধনী বক্তব্য রাখেন। দিনব্যাপী এই আলোচনা অনুষ্ঠানসমূহে অন্যান্যদের মাঝে উপস্থিত ছিলেন জাতিসংঘে নিযুক্ত বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি রাষ্ট্রদূত মাসুদ বিন মোমেন এবং জাতীয় সংসদের সিনিয়র সচিব ড. জাফর আহমেদ খান।