নতুন করে আরো ১০ জেলা বন্যায় প্লাবিত

8

যুগবার্তা ডেস্কঃ অতিবর্ষনে নুতন করে আরো ১০ জেলায় পানি প্লাবিত হয়েছে।এনিয়ে ২০ জেলায় সৃষ্টি হয়েছে বন্যা।কয়েক লক্ষ মানুষ গৃহবন্দি হয়ে পড়েছে। বিভিন্ন নদ-নদীর পানি বেড়েছে ৬৮ টি পয়েন্টে।

বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রে জানিয়েছে, ৯৩টি পানি সমতল স্টেশনের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, আজ সোমবার সকাল ৯টা পর্যন্ত সুরমা, কুশিয়ারা, মনু, ধলাই, খোয়াই, পুরাতন সুরমা, সোমেশ্বরী, কংস, ধরলা, তিস্তা, ঘাগট, ব্রহ্মপুত্র, যমুনা ও সাঙ্গু এই ১৪টি নদীর পানি ২৬টি পয়েন্টে বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। বিভিন্ন নদ-নদীর পানি ৬৮টি পয়েন্টে বৃদ্ধি ও ২২টি পয়েণ্টে হ্রাস পেয়েছে। রবিবার ১৪টি নদীর ২৫টি পয়েন্টে পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে।

বাংলাদেশ ও ভারতের আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চল, উত্তর-পূর্বাঞ্চল এবং তৎসংলগ্ন ভারতের আসাম ও মেঘালয় প্রদেশসমূহের বিস্তৃত এলাকায় আগামী ২৪ ঘণ্টায় মাঝারী থেকে ভারী এবং কোথাও কোথাও অতিভারী বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। এছাড়া দেশের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চল সংলগ্ন ভারতের বিহার এবং নেপালে ভারী বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে।

সুরমা ও কুশিয়ারা ছাড়া দেশের সকল প্রধান নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে। আগামী ৭২ ঘণ্টায় ব্রহ্মপুত্র, যমুনা, গঙ্গা ও পদ্মা নদীসমূহের পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকতে পারে এবং আগামী ২৪ ঘণ্টায় ধলেশ্বরী নদী এলাশিন পয়েন্টে বিপৎসীমা অতিক্রম করতে পারে

আগামী ২৪ ঘণ্টায় সিলেট ও রংপুর বিভাগের সুরমা, কুশিয়ারা, কংস, সোমেশ্বরী, ধরলাসহ প্রধান নদীসমূহের পানি দ্রুত বৃদ্ধি পেতে পারে। এ ছাড়া আগামী ২৪ ঘণ্টায় কুড়িগ্রাম, জামালপুর, গাইবান্ধা, বগুড়া ও সিরাজগঞ্জ জেলায় বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হতে পারে। অপরদিকে, নেত্রকোনা, সুনামগঞ্জ ও সিলেট জেলায় বন্যা পরিস্থিতি স্থিতিশীল থাকতে পারে।

সোমবার সকাল ৯টা থেকে গত ২৪ ঘণ্টায় দেওয়ানগঞ্জ স্টেশন এলাকায় ১৫০ মিলিমিটার, দুর্গাপুরে ১৩৫ মিলিমিটার, নাকুয়াগাঁওয়ে ১৩০ মিলিমিটার, ভৈরব বাজারে ১৩০ মিলিমিটার, নরসিংদীতে ১০৯ মিলিমিটার, কমলগঞ্জে ১০৩ মিলিমিটার, গাইবান্ধায় ৯৬ মিলিমিটার, জামালপুরে ৯২ মিলিমিটার এবং জাফলংয়ে ৯১ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।

সিলেট অফিস জানান, গতকাল রাত থেকে টানা বৃষ্টিতে সুরমা,কুসিয়ারা,বলাই নদীতে পানি বৃদ্ধি পেয়েছে।উজান থেকে পয়ড়াহী ঢল নেমেছে। ডল আসছে আসাম সীমান্ত থেকে। ৬ টি উপজেলার মানুষ আশ্রয় কেন্দ্রে উঠেছে।

সুনামগঞ্জ জেলার ৭০ টি ইউনিয়ন প্লাবিত হয়েছে।১ লাখ ৩০ হাজাব মানুষ আটকা পড়েছে।

রংপুর অফিস জানায়, কুড়িগ্রামে ভয়াবহ অবস্থার রুপ নিয়েছে। সবচেয়ে ফসলি জমি ক্ষতি হয়েছে। ৫৭৮ হেক্টর জমির বীজ তলা পানির নীচে। আশেপাশের জেলায় প্রতি নিয়ত নুতন এলাকা প্লাবিত হচ্ছে। বন্ধ রয়েছে শিক্ষা প্রতিথ্ঠানগুলো।

টাঙ্গাইল ও মানিকগঞ্জ প্রতিনিধিরা জানান, ৭৯টি পয়েন্টে পানি বেড়েছে। পানি আরও বাড়ার আশংকা করা হচ্ছে উত্তর, উত্তর-পূর্ব এলাকা।

ফরিদপুর অফিস জানিয়েছেন, ফরিদপুর, শরিয়তপুর ও রাজবাড়ি জেলায় পানির প্রবাহ বৃদ্ধি পাচ্ছে। প্রশাসন ও এলাকাবাসী বাধঁ নিয়ে সতর্ক অবস্থায় রয়েছে।

চট্টগ্রাম অফিস জানান, রাঙ্গামাটি, বান্দরবন ও খাগড়াছড়ি অতি বর্ষায় পাহাড়ী ধসের আরও আতংক করা হয়েছে। বিপদ জনক এলাকায় থেকে বাসিন্দাদের সরে যেতে বলা হয়েছে। যানচলাচল বযাহত হচ্ছে।

পূর্বাবাস কেন্দ্র সতর্ক করে জানিয়ছে, আরও নুতন ২৬ জেলা পানিতে প্লাবিত হওয়ার আশংকা করা হয়েছে।