গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে সংসদে আলোচনা না হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছে ওয়ার্কার্স পার্টি

3

বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির পলিটব্যুরো গ্যাসের মূল্য বৃদ্ধি নিয়ে সংসদে আলোচনা না হওয়ায় গভীর হতাশা ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। আজ ওয়ার্কার্স পার্টির পলিটব্যুরোর এক বিবৃতিতে বলা হয়, এর ফলে গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধি সম্পর্কে সংসদে দেওয়া তথ্য উপাত্তের সঠিকথা-বেঠিকথা নিয়ে কোন বিতর্ক হতে পারল না। জনগণকে কেবল একপক্ষের যুক্তি শুনতে হয়েছে। গ্যাস ক্ষেত্রে যে চরম দুর্নীতি রয়েছে সেটাও সংসদে আলোচনা হতে পারে নি।

ওয়ার্কার্স পার্টির বিবৃতিতে বলা হয়, গ্যাস ক্ষেত্রে এই দুর্নীতির অর্থ দিয়েই গ্যাসের দাম পরিশোধের ক্ষেত্রে যে ঘাটতি রয়েছে তা সমন্বয় করা যেত। বিইআরসি গ্যাস শুনানিতে এ বিষয়সহ অন্যান্য যুক্তি তুলে ধরা হলেও তা তারা আমলে নেয় নি। সবচেয়ে দুর্ভাগ্যজনক হলো সংসদে বাজেট অনুমোদনের চার ঘন্টার মধ্যেই বিইআরসি গ্যাসের মূল্য বৃদ্ধির ঘোষণা দেয়। এতে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠে যে সংসদকে সামান্যতম অবহিত না করে বাজেটের পরপরই গ্যাসের মূল্য বৃদ্ধি করা সংসদকে হেয় করা হয় কিনা। অন্যদিকে সংসদে আলোচনার সুযোগ না দেওয়ায় এইটাই প্রতিভাত হলো সংসদও কোন বিরদ্ধ ও বিপরীত যুক্তি দেওয়ার বা শোনার অবকাশও সীমিত হয়ে যাচ্ছে। এটা সংসদীয় গণতন্ত্রের জন্য বিশেষ উদ্বেগজনক।

ওয়ার্কার্স পার্টির পলিটব্যুরোর বিবৃতিতে বলা হয়, পার্টি উন্নয়নকে অগ্রাধিকার দিয়েই নির্বাচনে অংশ নিয়েছে এবং এখনও উন্নয়নকে অগ্রাধিকার দেয়। এটা ঠিক যে উন্নয়নের জন্য মূল্য দিতে হয়। তবে উন্নয়ন হতে হবে সমদর্শি কোন ভবে এক দেশদর্শি নয়। সাধারণ মানুষ একাই এই মূল্য বহন করবে সেটা হতে পারে না। উন্নয়ন যেমন জনগণের আর্থিক সক্ষমতা বাড়িয়েছে সেখানে মুষ্টিমেয় লোকের স্বার্থে গৃহীত ব্যবস্থা তার ঐ আর্থির সক্ষমতারই হ্রাস ঘটায়। সবক্ষেত্রে গ্যাসের এই মূল্য বৃদ্ধি জনগণের এক বড় অংশকেই দরিদ্র করবে কেবল নয় শিল্পায়ন, কৃষির যান্ত্রিকীকরণ, সাশ্রয়ী পরিবহন, কর্মসংস্থান ও সর্বোপরি সামগ্রিক উনśয়ন প্রক্রিয়াকেই ক্ষতিগ্রস্থ করবে। ওয়ার্কার্স পার্টি আশা করে সামগ্রীক দিক বিবেচনা করে গ্যাসের এই মূল্যবৃদ্ধি পুর্নবিবেচনা করা হবে।