গ্রাম আদালতের বিচারিক প্রক্রিয়া কোনভাবেই ব্যাহত করা যাবে না

12

বিশেষ প্রতিনিধি: আজ সকালে চাঁদপুর জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে গ্রাম আদালতে মামলার অগ্রগতি ও চ্যালেন্জ মোকাবেলা নিয়ে ২য় বারের মত ভিডিও কনফারেন্স অনুষ্ঠিত হয়। স্থানীয় সরকার উপপরিচালক মোহাম্মদ শওকত ওসমানের সভাপতিত্বে ভিডিও কনফারেন্সে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসক মোঃ মাজেদুর রহমান খান। এতে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ জামান। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন গ্রাম আদালতের ডিস্ট্রিক্ট ফ্যাসিলিটেটর (ডিএফ) নিকোলাস বিশ্বাস। প্রসঙ্গতঃ চলতি বছরের ২০ ফেব্রুয়ারিতে ১ম বারের মত জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষ থেকে জেলা প্রশাসক মহোদয় একযোগে জেলার উপজেলাগুলোর সাথে সরাসরি এ ধরণের ভিডিও কনফারেন্স করেছিলেন।

জেলা প্রশাসক মোঃ মাজেদুর রহমান খান বলেন, এলাকার মানুষের বিচারপ্রাপ্তী নিশ্চিতকরণের জন্য গ্রাম আদালতের বিচারিক কার্যক্রম কোনভাবেই ব্যাহত করা যাবে না। এভাবে গ্রাম আদালতের মাধ্যমে সমাজের সকল অনাচার প্রতিহত করা হবে। মামলার শুনানী নিয়মিতকরণের মাধ্যমে জনগণের আস্থা অর্জন করতে হবে এবং এলাকার মানুষদের গ্রাম আদালতমূখী করতে হবে। এ ব্যাপারে ইউপি চেয়ারম্যান ও সচিবদের মূখ্য ভূমিকা নিতে হবে।

তিনি আরো বলেন, ইউপি চেয়ারম্যানগণ বিভিন্ন কাজে এলাকার বাইরে থাকতে পারেন অথবা ব্যবসায়িক কাজে ব্যস্ত থাকতে পারেন। এটা খুবই স্বাভাবিক। এজন্যই গ্রাম আদালত বিধিমালা ২০১৬ -এর ৫ নং বিধিতে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে যে, ইউপি চেয়ারম্যানের অনুপস্থিতিতে প্যানেল চেয়ারম্যান ১, অথবা ২, অথবা ৩ -কে দিয়ে আদালতের কাজ অব্যাহত রাখতে হবে যাতে কোনভাবেই বিচারপ্রার্থী জনসাধারণ অযথা কাল-ক্ষেপন ও হয়রাণীর শিকার না হয়।

১ম ভিডিও কনফারেন্স আয়োজনের পর প্রকল্পাধীন প্রায় সকল ইউনিয়নে গ্রাম আদালতের প্রতি মানুষের আস্থা বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে মানুষ দিন-দিন গ্রাম আদালতমূখী হচ্ছেন। জুলাই-২০১৭ হতে গ্রাম আদালতে মামলা গ্রহণের হিসেব শুরু হয়। ১ম ভিডিও কনফারেন্সের আগ পর্যন্ত চাঁদপুরে প্রতি ইউনিয়নে প্রতি মাসে গড়ে মাত্র ৩.৫ টি মামলা ছিল কিন্তু উক্ত ভিডিও কনফারেন্সের পর গত চার মাসে এর গড় দাড়িয়েছে দ্বিগুণেরও বেশী অর্থ্যাৎ ৭.৩ টি মামলা।

গ্রাম আদালতের অগ্রগতি ও চ্যালেন্জ শীর্ষক এই ২য় ভিডিও কনফারেন্সে নিজ নিজ উপজেলার সম্মেলন কক্ষে নেতৃত্ব দেন মতলব-দক্ষিণের ইউএনও মোঃ শাহিদুল ইসলাম, শাহরাস্তির ইউএনও শিরিন আক্তার, কচুয়ার সহকারী কমিশনার (ভূমি) রুমন দে, মতলব-উত্তরের সহকারী কমিশনার (ভূমি) শুভাষিস ঘোষ, হাজিগন্জের সহকারী কমিশনার (ভূমি) জিয়াউল ইসলাম চৌধুরী এবং ফরিদগঞ্জের সহকারী কমিশনার (ভূমি) মমতা আফরিন।

এতে আরো অংশগ্রহণ করেন হাজিগন্জ উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান গাজি মাইনুদ্দীন, কচুয়া উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান শাজাহান শিশির, শাহরাস্তি উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মোঃ ফরিদ উল্লাহ চৌধুরী, মেয়র মোঃ আব্দুল লতিফ, সহকারী কমিশনার (ভূমি) উম্মে হাবীবা মীরা ও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোঃ শাহ্ আলম।

এ সময় নিজ নিজ উপজেলার সম্মেলন কক্ষে উপস্থিত থেকে জেলার সকল ইউনিয়নের ইউপি চেয়ারম্যান, সচিব এবং প্রকল্পাধীন গ্রাম আদালত সহকারীবৃন্দ জেলা প্রশাসকের সাথে সরাসরি ভিডিও কনফারেন্সে অংশগ্রহণ করেন এবং বিভিন্ন মতামত দেন। ভিডিও কনফারেন্সে আরো অংশগ্রহণ করেন গ্রাম আদালত সক্রিয়করণ প্রকল্পের সহযোগী সংস্থা তথা ‘ব্লাস্টে’র জেলা সমন্বয়কারী মোঃ আমিনুর রহমান সহ সংশ্লিষ্ট উপজেলা সমন্বয়কারীবৃন্দ।।