রুদ্র’র কবিতা সাম্যবাদ মুক্তিযুদ্ধ ও অসাম্প্রদায়িকতাবোধে উত্তা

23

মোঃ নূর আলমঃ তারুণ্য ও সংগ্রামের দীপ্ত প্রতীক কবি রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ’র ২৮তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে শুক্রবার কবির নিজগ্রাম মোংলার মিঠেখালি দিনব্যাপী রুদ্র স্মৃতি সংসদের আয়োজনে নানা কর্মসুচি পালন করা হয়। এছাড়া বিভিন্ন সংগঠনের পক্ষ থেকে রুদ্রের সমাধিতে শ্রদ্ধাঞ্জলি অর্পণ করা হয়।
কবির মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে শুক্রবার সকাল ৯টায় রুদ্র স্মৃতি সংসদ, সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট, সিপিবি, অন্তর বাজাও, রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ বিদ্যাপীঠ, শিরিয়া বেগম মাধ্যমিক বিদ্যালয়সহ বিভিন্ন সংগঠনের নানা শ্রেণী পেশার মানুষ র‌্যালী সহকারে কবির গ্রামের বাড়ি মোংলার মিঠেখালিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। এছাড়া দোয়া মোনাজাত ও মিলাদ মাহফিল এবং সন্ধ্যায় রুদ্র সংসদ কার্যালয়ে স্মরণ সভার অনুষ্ঠিত হয়। স্মরণসভা শেষে রুদ্রের কবিতা আবৃত্তি ও রুদ্রের গান পরিবেশিত হয়।

র‌্যালী শুরুর আগে মিঠেখালি বাজারে অনুষ্ঠিত এক সমাবেশে সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের নেতৃবৃন্দ বলেন অকালপ্রয়াত এই কবি নিজেকে মিলিয়ে নিয়েছিলেন আপামর নির্যাতিত মানুষের আত্মার সঙ্গে। সাম্যবাদ, মুক্তিযুদ্ধ, ঐতিহ্যচেতনা ও অসাম্প্রদায়িকবোধে উত্তাল তার কবিতা। ‘জাতির পতাকা আজ খামচে ধরেছে সেই পুরোনো শকুন’ এই নির্মম সত্য অবলোকনের পাশাপাশি উচ্চারণ করেছেন অবিনাশী স্বপ্ন ‘দিন আসবেই দিন সমতার’। যাবতীয় অসাম্য, শোষণ ও ধর্মান্ধতার বিরুদ্ধে অনমনীয় অবস্থান তাকে পরিণত করেছে ‘তারুণ্যের দীপ্র প্রতীক’-এ। একই সঙ্গে তাঁর কাব্যের আরেক প্রান্তর জুড়ে রয়েছে স্বপ্ন, প্রেম ও সুন্দরের মগ্নতা। বাংলাদেশের কবিতায় অবিস্মরণীয় এই কবির শিল্পমগ্ন উচ্চারণ তাকে দিয়েছে সত্তরের অন্যতম কবি-স্বীকৃতি।

সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন রুদ্র সংসদের সভাপতি সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের অন্যতম নেতা সুমেল শারাফাত। সমাবেশে বক্তব্য রাখেন রুদ্র সংসদের উপদেষ্টা মাহমুদ হাসান ছোটমনি, সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের আহবায়ক মোঃ নূর আলম শেখ, অবসরপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আফজাল হোসেন, প্রধান শিক্ষক ওবায়দুল ইসলাম, রুদ্র বিদ্যাপীঠের প্রধান শিক্ষক রেজাউল ইসলাম, সাংস্কৃতিক সংগঠক নাজমুল হক, আসাদুজ্জামান টিটো প্রমূখ।

উল্লেখ্য, ১৯৯১ সালের ২১ জুন মাত্র ৩৫ বছর বয়সে কবি রুদ্র শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।