রাজধানীতে প্রি-পেইড মিটারে গ্রাহকের ৫ দুর্ভোগ

2

হামিদ-উজ-জামানঃ রাজধানীতে বিদ্যুৎ বিল পরিশোধে প্রি-পেইড (প্রি-পেমেন্ট) মিটারিং কার্যক্রমে সুফল মিললেও গ্রাহকদের স্বস্তি নেই।

অতিরিক্ত বিল আসা, রিচার্জ বুথে দীর্ঘ লাইন, শুক্র ও শনিবার রিচার্জের ব্যবস্থা না থাকাসহ পাঁচ ধরনের দুর্ভোগ গ্রাহকদের পোহাতে হচ্ছে।

‘প্রি-পেমেন্ট মিটারিং প্রজেক্ট ফর ৫ এনওসিএস ডিভিশন আন্ডার ডিপিডিসি’ শীর্ষক প্রকল্পের প্রভাব মূল্যায়নে এমন চিত্র উঠে এসেছে।

সম্প্রতি দ্বিতীয় খসড়া প্রতিবেদন উপস্থাপন করেছে আইএমইডির নিয়োগ করা সংস্থা ভেনাস কনসাল্টিং প্রাইভেট লিমিটেড।

রাজধানীর খিলগাঁও, তেজগাঁও, কাজলা, স্বামীবাগ ও রাজারবাগে ২০১৮ সালের জুনে প্রি-পেমেন্ট মিটারিং স্থাপনের কাজ শেষ হয়।

এ বছরের মে মাসে এসব এলাকার গ্রাহকদের কাছ থেকে নানা ধরনের অভিযোগ পেয়েছে বাস্তবায়ন, পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগ (আইএমইডি)।

মিটার লক হয়ে যাওয়া বা নষ্ট হয়ে যাওয়ার দায় চাপিয়ে দেয়া এবং মিটার মেরামতে ৫০০-১০০০ টাকা দাবি করারও অভিযোগ ওঠে।

এসব সমস্যার পরিপ্রেক্ষিতে বিকাশ, রকেট বা ক্রেডিট কার্ডের মাধ্যমে রিচার্জের ব্যবস্থা করাসহ আটটি সুপারিশ এসেছে গ্রাহকদের পক্ষ থেকে।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে আইএমইডি’র সচিব আবুল মনসুর মো. ফয়েজউল্লাহ বলেন, আমরা প্রভাব মূল্যায়ন করেছি। এ মাসের শেষদিকে প্রতিবেদনটি চূড়ান্ত করা হবে। এরপর গ্রাহক দুর্ভোগ কমানোসহ বিভিন্ন সুপারিশ দিয়ে প্রতিবেদন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়ে দেব। সেখান থেকে এসব সমস্যা সমাধানে কার্যকর উদ্যোগ নেয়া হবে বলে আশা করছি।

খসড়া প্রতিবেদনে বলা হয়, শতভাগ রাজস্ব আদায়, গ্রাহকদের নির্ভরযোগ্য, উন্নত ও ঝামেলামুক্ত বাণিজ্যিক সেবা প্রদান এবং গ্রাহক পর্যায়ে ওভারলোড প্রতিরোধ করে ডিমান্ড সাইড লোড ব্যবস্থাপনা বাস্তবায়নের জন্য ‘প্রি-পেমেন্ট মিটারিং প্রজেক্ট ফর ৫ এনওসিএস ডিভিশন আন্ডার ডিপিডিসি’ প্রকল্পটি গ্রহণ করা হয়।

২০১৫ সালের জানুয়ারি থেকে ২০১৮ সালের জুনে এটি বাস্তবায়ন করে ঢাকা পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড (ডিপিডিসি)। প্রকল্পটি বাস্তবায়নে ২২৪ কোটি ৪২ লাখ টাকা ব্যয় ধরা হয়। পরবর্তী সময় সংশোধন করে ব্যয় কমিয়ে ১০৬ কোটি ৫৯ লাখ টাকা ধরা হয়।

তবে শেষ পর্যন্ত ১০৫ কোটি ৭০ লাখ ৬১ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। প্রি-প্রেমেন্ট মিটার স্থাপনে সিস্টেম লস হ্রাস পেয়েছে। তেজগাঁও জোনে যেখানে সিস্টেম লস ছিল ১৮ শতাংশ। সেখানে এখন সিস্টেম লস নেই বললেই চলে।

বেশকিছু গ্রাহক একত্রে ৪-৫ মাসের প্রয়োজনীয় বিদ্যুৎ অগ্রিম কিনছে। ফলে সিস্টেম লস যেমন কমছে তেমনি অধিক রাজস্ব আদায় হচ্ছে।

গ্রাহকরা সঠিক ব্যবহারের ওপর বিল দিতে পারছে। বিল অনাদায়ী ও বকেয়া আদায়ের কারণে সংযোগ বিচ্ছিন্নকরণের প্রয়োজন হচ্ছে না।

ফলে কোম্পানির অর্থ ও কর্মঘণ্টা সাশ্রয় হচ্ছে। অসাধু মিটার রিডার, লেজার কিপার ইত্যাদি কর্মচারীদের দুর্নীতি বন্ধ হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়- ২৫২ জন গ্রাহকের মধ্যে ৮৯ জন গ্রাহক বা জরিপে অংশ নেয়াদের ৩৫ দশমিক ৩ শতাংশ বলেছে প্রি-পেমেন্ট মিটারে ব্যয় বেশি হয়। আর ৭৬ জন গ্রাহক বা ৩০ দশমিক ৫ শতাংশ মনে করে আগের চেয়ে খরচ কম হয়। ১৮০ জন গ্রাহক বলেছে কার্ড তাড়াতাড়ি শেষ হয়ে যায়। ২৩০ জন গ্রাহক বলেছে প্রধান অসুবিধা হল অতিরিক্ত ভ্যাট দিতে হয়। উত্তরদাতা গ্রাহকরা জানায়, মিটার লক বা নষ্ট হলে তার দায় গ্রাহককে নিতে হয়। অনেক সময় মেরামতে দেরি হয়। ফলে অনেক অসুবিধায় পড়তে হয়। ১৮ দশমিক ৭ শতাংশ গ্রাহক জানায়, কার্ড রিচার্জে অনেক ঝামেলা হয়। ১৩ দশমিক ২ শতাংশ গ্রাহক জানায়, রিচার্জে অধিক সময় লাগে।

এসব দুর্ভোগ বিষয়ে জানতে চাইলে বিদ্যুৎ বিভাগের যুগ্ম সচিব-উন্নয়ন শেখ ফয়েজুল আমীন বলেন, নতুন একটি বিষয় বাস্তবায়ন করতে গেলে প্রথম পর্যায়ে অনেক সমস্যা থাকে। অভিজ্ঞতার আলোকে পরবর্তী সময়ে সেসব সমাধান করা যায়। আইএমইডির সুপারিশসহ প্রতিবেদন পেলে আমরা গ্রাহকদের দুর্ভোগ কমানোর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করব। কেননা আমাদের কাজই হল গ্রাহকদের সর্বোচ্চ সেবা নিশ্চিত করা।

প্রতিবেদনে বলা হয়, জরিপে প্রাপ্ত সুপারিশগুলো হল- বুথের সংখ্যা বৃদ্ধি করা; ছুটির দিনগুলোতে রিচার্জের ব্যবস্থা করা; বিকাশ-রকেট-ক্রেডিট কার্ডের মাধ্যমে রিচার্জের সুবিধা দেয়া; রিচার্জে অতিরিক্ত ফি নেয়া বন্ধ করা; মিটার মেরামত বা পরিবর্তনে গ্রাহকদের কাছ থেকে চার্জ না নেয়া; ব্যবহারকারীদের প্রশিক্ষণ দেয়া এবং প্রি-প্রেমেন্ট সার্ভিসিংয়ের ব্যবস্থা করা এবং প্রতিদিন ২৪ ঘণ্টা কার্ড রিচার্জের ব্যবস্থা রাখা।

আইএমইডির সুপারিশে বলা হয়েছে- প্রি-পেমেন্ট মিটার, ভেন্ডিং স্টেশন ও কার্ড যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণ করতে হবে। গ্রাহক পর্যায়ে সাত দিন ২৪ ঘণ্টা সেবা পেতে পারে সেই ব্যবস্থা করতে হবে।

স্থাপিত মিটারগুলো ক্রুটিমুক্ত রাখতে হবে। পরবর্তী সময়ে মোবাইল ফোন, এজেন্ট বা ব্যাংক থেকে ২৪ ঘণ্টা গ্রাহকরা প্রি-পেমেন্ট মিটারের রিচার্জ করতে পারেন সেই পদক্ষেপ নিতে হবে।-যুগান্তর