পাঁচ বছর পর বাজেট অধিবেশনে বিএনপি

4

পাঁচ বছর পর জাতীয় সংসদের বাজেট অধিবেশনে যোগ দিল বিএনপি। বৃহস্পতিবার ২০১৯-২০ সালের প্রস্তাবিত বাজেট ঘোষণার দিন সংসদে ছিলেন দলটির নির্বাচিত সংসদ সদস্যরা।

সংখ্যার দিক থেকে কম হলেও গঠনমূলক আলোচনায় অংশগ্রহণ করতে পুরো বাজেট অধিবেশনে থাকার ইচ্ছা রয়েছে তাদের। বাজেটে জনস্বার্থবিরোধী কিছু থাকলে তা বাদ দেয়ার জোরালো দাবি জানাবেন তারা।

আজ (শুক্রবার) আনুষ্ঠানিকভাবে বাজেট প্রতিক্রিয়া জানাবে বিএনপি। দলটির চেয়ারপারসনের প্রেস উইংয়ের সদস্য শায়রুল কবির খান জানিয়েছেন গুলশান কার্যালয়ে বিকাল ৪টায় সংবাদ সম্মেলনে এ বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানানো হবে।

২০১৩ সালের ৭ জুন বাজেট ঘোষণার দিন সংসদে ছিলেন বিএনপির সংসদ সদস্যরা। ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচন বয়কট করে বিএনপি। যে কারণে ওই সংসদে দলটির কোনো প্রতিনিধি ছিল না। এবার মাত্র ৬ জন সংসদ সদস্য থাকলেও এ সংসদেই কার্যকর ভূমিকা রাখতে চান তারা।

জাতীয় সংসদের চলতি বাজেট অধিবেশনের প্রথম দিন মঙ্গলবারই সংসদে যোগ দেয় বিএনপি। এদিন সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানার বক্তব্যে অনেকদিন পর সংসদে কিছুটা উত্তাপ ছড়িয়েছিল।

জানতে চাইলে বিএনপির সিনিয়র সংসদ সদস্য হারুনুর রশীদ বলেন, একাদশ জাতীয় সংসদের তৃতীয় (বাজেট) অধিবেশনে আমাদের করণীয় সম্পর্কে সিনিয়র নেতাদের সঙ্গে পরামর্শ বৈঠক হয়েছে। দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানও আমাদের নির্দেশনা দিয়েছেন। আমাদের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তি এবং নতুন জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দাবিতে আমরা সরব থাকব।

তিনি বলেন, দেশে দুর্নীতির মহা তাণ্ডব চলছে। বালিশ নিয়ে মানুষ আন্দোলন করছে। বিভিন্ন এলাকায় সরকারি বরাদ্দের টাকা লুটপাট হচ্ছে। গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধির পাঁয়তারা চলছে। জনগণের পক্ষে এসব বিষয় সংসদে তুলে ধরব। তবে কতটা পারব জানি না। এক্ষেত্রে স্পিকার আমাদের কতটা সহযোগিতা করে সেটা দেখতে হবে।

হারুন বলেন, ‘চলতি অধিবেশন খুব গুরুত্বপূর্ণ। এটা বাজেট অধিবেশন। বাজেটে জনস্বার্থবিরোধী কিছু থাকলে তা জোরালোভাবে প্রতিবাদ জানানো হবে। বাজেট যাতে জনস্বার্থে হয় সেদিকে গুরুত্ব দেয়া হবে।’

জাতীয় সংসদের বাজেট অধিবেশনে বিএনপির সংসদ সদস্যদের জোরালো ভূমিকা রাখার নির্দেশনা দিয়েছেন দলটির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ও স্থায়ী কমিটির সদস্যরা। সোমবার সন্ধ্যা ৭টার পর গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে আয়োজিত এক জরুরি বৈঠকে স্কাইপের মাধ্যমে এ নির্দেশনা দেন তারেক রহমান।

এ সময় বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ কয়েকজন সিনিয়র নেতার সঙ্গে বৈঠকে বসেন সংসদ সদস্যরা। বৈঠকে সংসদ সদস্যদের পরামর্শ দিতে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে প্রধান করে একটি ‘ছায়া সংসদীয় কমিটি’ গঠন করেছে বিএনপি।

মির্জা ফখরুল ছাড়াও কমিটিতে আছেন স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার, ড. আবদুল মঈন খান, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী ও যুগ্ম-মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল।

জানতে চাইলে আলাল বলেন, বিএনপি সংসদে থাকবে। সংসদীয় রীতি-নীতি মেনে বক্তব্য রাখবে। জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে প্রতিবাদও জানাবে। কিন্তু এমন কিছু করবে না যাতে সংসদের পরিবেশ নষ্ট হয়।-যুগান্তর