উজিরপুরে রসালো আমের বাগানে ক্রেতাদের ভিড়

24

আঃ রহিম সরদারঃ বরিশালের উজিরপুরে ফল, মৎস, খামার ও সবজী চাষে স্বাবলম্বী কৃষক শ্যামল ব্যানার্জী। ফরমালিন ও ক্যামিকাল মুক্ত বিভিন্ন প্রজাতির রসালো আম পেতে প্রতিদিন বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মানুষ ভির জমাচ্ছে তার ফল বাগানে।

উপজেলার শিকারপুর গ্রামের মৃত দিপক কুমার ব্যানার্জির ছেলে গুরুদাস ব্যানার্জি ওরফে শ্যামল ব্যানার্জি (৪৫) তিনি এস.এস.সি পাস করে বিভিন্ন ব্যবসা ও চাকুরি করে সফলতা অর্যন করতে না পেরে অবমেষে ২০০৪ সালে সামান্য পুজি নিয়ে পিতার ১ একর জমিতে একটি মাছের ঘের ˆতৈরি করে তার চারিপাশে ৫৫ টি বিভিন্ন প্রজাতির আমের চাড়া রোপন করেন। ঘেরে পানি শুকিয়ে গেলে ধান চাষ এবং গাছের ফাঁকে ফাঁকে শাক সবজির চাষ করেন। তখন থেকে তিনি রাসায়নিক সারের পরিবর্তে ˆজৈব সার এবং রোগ-বালাই দমনের জন্য ফেরমেন ফাঁদ ব্যবহার করেন। উৎপাদিত ফসল তার পরিবারের চাহিদায় মিটিয়ে নিকটতম বাজারে বিক্রি করতে শুরু করেন । তার উৎপাদিত ফসল ভালো হওয়ায় ক্রেতারা একটু বেশি দামে ক্রয় করতে দ্বিধাবোধ করতো না। ২০০৯ সাল থেকে তার আমের ফলন শুরু হয়। মধুমাসে তার বাগানে ঝুলে আছে সারি সারি রসালো আম। দেখে চোখ জুড়িয়ে যায়। বেশ কয়েকদিন যাবৎ শ্যামল ব্যানার্জীর ইচলাদী বাসস্ট্যান্ডে আম রাখার একটি দোকানে আম কিনতে দেখা গেল উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা জাকির হোসেন তালুকদার, উজিরপুর মডেল থানার ওসি শিশির কুমার পাল, প্রেসক্লাব সভাপতি আঃ রহিম সরদার সহ অনেকেই।

প্রতিদিন বিভিন্ন এলাকা থেকে তার ফল বাগান এক নজর দেখার জন্য ভির জমাচ্ছে। বর্তমানে বারী আম-৫(আমরুপালী), বারী আম-৪, হারিভাঙা, গোপালভোগ, ফজলি, ব্যানানা মাংগো, কিউজাই ও বারমাসি প্রজাতির আম রয়েছে। ইতিমধ্যে ৩০ শতক জমিতে মাল্টা বাগান, ২০ শতক জমিতে ভিয়েদ নামে নারিকেল গাছ, ৩০ শতক জমিতে আমড়া চাষ, কলা বাগান, গরুর খামার, মুরগীর ফার্ম রয়েছে। তিনি কালোজিরা, সাদাজিরা, পিয়াজ, রসুন, ধনিয়া, মাদ্রাজি ওল, ঢেরস, ফুলকপি, টমেটো, ডাটাশাক, লালশাক, পুইশাক সহ বিভিন্ন সব্জি চাষ করছেন। আর তার এসব বাগান পরিদর্শন করেন বাংলাদেশ কৃষি অধিদপ্তরের অতিরিক্ত পরিচালক, কৃষি গবেষনা কেন্দ্রের মুখ্য ˆবৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা, প্রকল্প পরিচালক সহ বিভিন্ন কর্মকর্তারা। তিনি ইতিমধ্যে ২০০২ ও ২০০৮ সালে উপজেলা শ্রেষ্ঠ মৎস্য চাষী সনদ, রাসায়নিক মুক্ত মৎস্য চাষের সনদ, কৃষি সম্প্রসারনে সমন্বিত খামার ব্যবস্থাপনা কম্পনেট এর প্রশিক্ষন সনদ, হাঁস মুরগী পালন, একটি বাড়ী একটি খামার প্রকল্প, কৃষি মেলা প্রদর্শনী সনদ, শস্য বহুমুখি প্রকল্প সহ বিভিন্ন সনদে ভূষিত হয়েছেন।

এ ব্যাপারে শ্যামল ব্যানার্জী জানান, বর্তমানে আমার সকল কাজে সহযোগীতা করে আসছেন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোঃ জাকির হোসেন তালুকদার ও রহমতপুর কৃষি গবেষনা কেন্দ্র। আমি একটি বাগান থেকে ৫০ থেকে ৬০ মন আম বিক্রি করতে পারছি। তবে শ্রমিক সংকট প্রকট। দুজন শ্রমিক নিয়ে প্রতিনিয়ত আমি এবং আমার পরিবারের লোকজন অক্লান্ত পরিশ্রম করে ফসল উৎপাদন করছি। যে পরিমান পুঁজি দরকার সেই পরিমান সরকারিভাবে সহযোগীতা বা লোন পাচ্ছি না। বর্তমানে আধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে হাতে চালিত লাঙল ব্যবহার ও আধুনিক সেচ প্রক্রিয়া ব্যবহার করতে পারলে কিছুটা সাশ্রয়ী হতো। সবচেয়ে বড় সমস্যা হচ্ছে বানরের উৎপাত। উজিরপুর বানরের অভায়শ্রম। কিন্তু কখনও সরকারিভাবে তাদের কোন খাদ্যের জোগান দেওয়া হয়না বিধায় তারা ফসলের বিনষ্ট করছে।

তিনি আরো জানান, প্রতিটি গ্রামে কম হলেও একটি দুটি করে এভাবে খামার ˆতৈরী করতে পারলে বিশ মুক্ত ফরমালিন ও ক্যামিক্যাল মুক্ত খাবার খেতে পারবে এলাকাবাসী।