সিদ্ধান্ত ছাড়াই বৈঠক শেষ

1

যুগবার্তা ডেস্কঃ জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের পরিধি বাড়ানোর আকাংখা থাকলেও কোন সিদ্ধান্ত ছাড়াই বৈঠক শেষ হয় আজ।বৈঠকে জোটের দুই শীর্ষ নেতা গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেন এবং নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না অনুপস্থিত ছিলেন।

আজ বিকালে রাজধানীর উত্তরায় জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল- জেএসডি সভাপতি আ স ম রবের বাসায় বৈঠক হয়।

ড. কামাল ও মান্নার অনুপস্থিতি নিয়ে বৈঠকের শুরুতেই প্রশ্ন তোলেন কৃষক শ্রমিক জনতা লীগ সভাপতি বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী।

দীর্ঘ আড়াই ঘণ্টার বৈঠক শেষে গণমাধ্যমকর্মীদের ব্রিফ করেন আসম আবদুর রব বলেন, ঐক্যফ্রন্টের ঐক্য থাকবে। প্রয়োজনে এই জোটের পরিধি আরও বাড়ানো হবে।

তিনি বলেন, নির্বাচনে রাষ্ট্রীয়ভাবে ভোট ডাকাতি হয়েছে, এর পরিপ্রেক্ষিতে আপনাদের প্রশ্ন থাকতে পারে, এই প্রশ্নের উত্তর আজকে আমরা দেব না। আমাদের নেতা ড. কামাল হোসেনের সঙ্গে বৈঠক করার পর এ প্রশ্নের উত্তর দেব।

এডভোকেট সুব্রত চৌধুরীর জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের ব্যানারে নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ নেয়ার বিষয়টি উত্থাপন করেন। তিনি বলেন, ‘শপথ নেয়া না নেয়া নিয়ে এত নাটকীয়তার প্রয়োজনীয়তা ছিল না। এতে আমাদের ভাবমুর্তি ক্ষুন্ন হয়েছে। আটজন জয়ী হল। শপথ নিল সাতজন। মির্জা ফখরুল ইসলাম কেনো শপথ নিলেন না। যদিও এটা তিনি ভালো বলতে পারবেন। তিনি হয়তো বলবেন দলের সিদ্ধান্তে শপথ নেননি। মানুষতো আর তা বুঝবে না। বুঝতে চাইবে না’।

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘আমাদের মধ্যে কিছুটা ভুল বোঝাবুঝি আছে, নানা কারণে এটা হয়েছে। নির্বাচনের পর আমাদের বসা উচিত ছিল। আরও আলাপ আলোচনা করা প্রয়োজন ছিল। আলাপ-আলোচনা যে হয়নি, তা কিন্তু নয়। তবে এটা ঠিক বৃহত্তর স্বার্থেই আমরা শপথ নিয়েছি। আর দলের সিদ্ধান্তেই আমি শপথ নেইনি। কেউ কেউ এ নিয়ে প্রশ্ন তুলতে পারেন। কিন্তু বিকল্প কী ছিল আমাদের হাতে? শপথ না নিলে সরকার আরও ফাঁকা মাঠে গোল দিত। আমাদের কিছুই করার থাকত না।

বঙ্গবীরকাদের সিদ্দিকী বলেন, এখানে মান অভিমান নয়। এখানে জনআস্থার বিষয়টি জড়িত। একেক সময় একেক কথা আর একেক রকম সিদ্ধান্ত নিলে মানুষের কাছে মুখ দেখানো যায় না।

তিনি বলেন, ‘আমি আমার কথা লিখিতভাবে জানিয়েছি। আমি সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা চাই। অস্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় রাজনীতি করা যায় না। এই রাজনীতি আমি করিও না। আমি সোজাসাপ্টা মানুষ। আমি কম বুঝি। আপনাদের মতো আমার এত বুদ্ধিও নাই’।

কাদের সিদ্দিকীর এই বক্তব্যের পর আ স ম আবদুর রব বলেন, ‘আমরা আবার বসব। প্রয়োজনে ড. কামাল হোসেনের উপস্থিতিতেই এ নিয়ে আরও আলোচনা করব। কিন্তু একটি বিষয় পরিষ্কার, দেশের মানুষ এই সরকারের বিরুদ্ধে। আমরা আমাদের রাজনীতি ঠিক করে এগুতে পারলে, ঠিকমতো মাঠে নামতে পারলে- সরকার বাধ্য হবে পিছু’ হটতে’।

গত ৩০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কারচুপির অভিযোগ তুলে নিজেদের এমপিদের শপথ না নেয়ার সিদ্ধান্ত নেয় জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট। এই সিদ্ধান্ত অমান্য করে প্রথমে গণফোরামের দুজন এমপি শপথ নেন। তখন এ দুইজনের কড়া সমালোচনা করেন বিএনপি নেতারা।

পরে শপথ নেওয়ার সময়সীমা শেষ হওয়ার আগ মুহূর্তে বিএনপি থেকে নির্বাচিত পাঁচজন সংসদ সদস্য শপথ নেন। এ ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে গত ৯ মে বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী জানিয়ে দেন জাতীয় ঐক্যফ্রন্টে সাতজনের শপথ গ্রহণের সঠিক ব্যাখ্যা দিতে না পারলে ৮ জুন ফ্রন্ট ছেড়ে দেবে তার দল।

সেদিনের সংবাদ সম্মেলনে কৃষক শ্রমিক জনতা লীগ সভাপতি বলেন, ‘আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি যে, আগামী এক মাসের মধ্যে যে যে অসঙ্গতি আছে, তা সঠিকভাবে নিরসন না হলে ৮ জুন কৃষক শ্রমিক জনতা লীগ জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট থেকে নিজেদের প্রত্যাহার করে নেবে’।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আবদুল মঈন খান, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল- জেএসডি সভাপতি আ স ম আবদুর রব, সহ-সভাপতি তানিয়া রব, সাধারণ সম্পাদক আবদুল মালেক রতন, জেএসডির কেন্দ্রীয় নেতা শহিদ উদ্দীন আল মাহমুদ স্বপন, কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী, সাধারণ সম্পাদক হাবীবুর রহমান তালুকদার, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ইকবাল সিদ্দিকী, গণফোরাম নির্বাহী সভাপতি অধ্যাপক আবু সাইয়্যিদ, অ্যাডভোকেট সুব্রত চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক ড. রেজা কিবরিয়া, গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের ট্রাস্টি ডা. জাফর উল্লাহ চৌধুরী, নাগরিক ঐক্যের কেন্দ্রীয় নেতা ডা. জাহেদ উর রহমান, মমিনুল ইসলাম, বিকল্প ধারার একাংশের সভাপতি অধ্যাপক নুরুল আমীন বেপারী, মহাসচিব অ্যাডভোকেট শাহ আহমেদ বাদল প্রমুখ।