যার ধর্ম তার কাছে রাষ্ট্রের কি বলার আছে

9

ফজলুল বারীঃ প্রনব রিচেল বেঁচে আছেন কিনা জানিনা। ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট স্কুলে পড়াতেন এই আদিবাসী গারো শিক্ষক। পায়ে হেঁটে বাংলাদেশ ঘোরার সময় প্রনব রিচেলের সংগে আমার দেখা হয়েছিল। কথায় কথায় স্যার বলেছিলেন, ফজলুল বারী, সংখ্যালঘুর কী কষ্ট তা আপনি বুঝবেননা। কারন বাংলাদেশে আপনি সংখ্যাগুরুর দলে। বাংলাদেশে আমি সংখ্যালঘু। এরজন্য আমি শুধু বাংলাদেশের সংখ্যালঘু না পৃথিবীর যে কোন প্রান্তের সংখ্যালঘুর কষ্ট অনুভব করতে পারি। তেমন রিপোর্ট দেখলেই পড়ি।
বাংলাদেশের সংখ্যালঘুর কষ্ট আমি আমার ‘নমস্কার বাংলাদেশ’ বইতে তুলে আনার চেষ্টা করেছিলাম। নানাকারনে বাংলাদেশের সংখ্যালঘু হিন্দুরা জন্মভূমি দেশ ছেড়ে ভারতে চলে যায়। কিন্তু ওখানে তারা ভালো নেই। বাংলাদেশেও আর ফিরতে পারেননা। দেশের জন্যে যখন মন পুড়ে বেশি তখন সীমান্তে এসে জন্মভূমি বাংলাদেশের দিকে তাকিয়ে নমস্কার করে চলে যায় 😞 ❤
এই সিডনিতে আমি বাংলাদেশি হিন্দু পরিবারের ছেলেদের বলি, এখানে অন্তত একটা বিষয় এনজয় করবে, নিজেকে কখনো সংখ্যালঘু ভাববেনা। এখানে তা কেউ ভাবেনা। কারন এই রাষ্ট্র, সমাজের প্রতিবেশীর ধর্মকর্ম নিয়ে আগ্রহ মনোযোগ কম। যার ধর্ম তার কাছে রাষ্ট্রের কি বলার আছে, এটি অস্ট্রেলিয়ায় সত্য। বাংলাদেশে না। বাংলাদেশের নামের রাষ্ট্রটি ধর্মীয় বিষয়ে মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের সংগে প্রতারনা করেছে।-লেখক: সিনিয়র সাংবাদিক।