ক্ষেতমজুরের শরীরের শ্রমই তাঁর বেঁচে থাকার মূল অবলম্বন

5

বাংলাদেশ ক্ষেগমজুর সমিতির সভাপতি অ্যাড. সোহেল আহমদ ও ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক অর্ণব সরকার আজ শুক্রবার এক বিবৃতিতে বলেন, বর্তমানে ধান কাটার মৌসুমে বিভিন্ন গণমাধ্যমে ‘১ মণ ধানের দামেও ক্ষেতমজুরের মজুরি হয় না’, ‘সময়মত কামলা মিলছে না’ ইত্যাদি নানা ধরণের বক্তব্য প্রচার করা হচ্ছে। যা আমাদের দৃষ্টিগোচর হয়েছে।

বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ বলেন, ক্ষেতমজুর কেন পাওয়া যাচ্ছে না বা মজুরি কেন ১মণ ধানের দামের বেশী সেসবের দিকে নজর না দিয়ে একপ্রকার এই শ্রমজীবী মানুষদের প্রতি বিরুদ্ধতার সুরেই কথা বলা হচ্ছে।

বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ আরো বলেন, গ্রামাঞ্চলে বছরে ক্ষেতে তিন মাসের অধিক কাজ থাকে না। ফলে বাকি নয় মাস তাকে বেঁচে থাকার আশায় অন্য পেশা বেছে নিতে হয়।

বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ বলেন, বাঁচার আশায় ক্ষেতমজুররা পরিবার-পরিজন, বাড়িঘর ফেলে আবার কখনও পরিবার নিয়ে কাজের সন্ধানে দেশের বিভিন্ন স্থানে ছুটে যায় এবং বস্তিতে মানবেতর জীবনযাপন করে। এই কাজ খুঁজতে গিয়ে শহরে সে অন্য পেশার সাথে যুক্ত হয়ে যায় অথবা গ্রামেই যখন যা পায় (যেমন রিক্সা, ভ্যান, অটো ইত্যাদি চালানো, ইটভাটার কাজ) সে কাজ করে। এবং বর্তমানে সে যে পেশায় যুক্ত আছে দেখা যাচ্ছে তা ধান কাটার মজুরির চাইতে বেশী, ফলে ধান কাটার প্রতি আগ্রহ কম। আবার তীব্র রোদে সেই ভোর থেকে খেয়ে না খেয়ে সন্ধ্যা পর্যন্ত ধান কাটার যে কষ্ট তা সহ্য করাও তার পক্ষে কঠিন হয়ে পড়েছে। আবার প্রাকৃতিক দুর্যোগ যেমন বজ্রপাতে মৃত্যুর ভয় তো আছেই।

বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ কৃষকের ধানসহ ফসলের লাভজনক দাম নিশ্চিতের দাবি জানিয়ে আরও বলেন, কৃষিতে আধুনিক যন্ত্রপাতির ব্যবহার সারাবিশ্ব জুড়ে চলছে। আমাদের দেশেও এখন চাষাবাদ, ধান মাড়াই, সেচ ইত্যাদিতে যন্ত্রের ব্যবহার চলছে। কিন্তু ধান কাটার সময় আদিম পদ্ধতিই এখন বহাল আছে। ফলে ধান কাটার সময় প্রতিবছরই ক্ষেমজুরের সংকট ও বেশী মজুরির প্রশ্নটি সবার সামনে চলে আসে। কিন্তু বাস্তবতা হলো, একজন ক্ষেতমজুরের শরীরের শ্রমই তাঁর বেঁচে থাকার মূল অবলম্বন। কিন্তু সে যা আয় করে তা দিয়ে চাল, ডাল কিনতে পারলেও নিজের ও পরিবারের সদস্যদের জন্য পুষ্টিকর খাদ্য এবং সন্তানের লেখাপড়া, চিকিৎসা ও অন্যান্য চাহিদা মেটাতে পারছে না। নেতৃবৃন্দ ধান কাটার যন্ত্র গ্রাম পর্যায়ে সরকারি উদ্যোগে সরবরাহ করে এ সমস্যা সমাধানের দাবি জানান এবং কৃষকের দাবির পাশাপাশি গ্রামীণ এই ৬ কোটি শ্রমজীবী মানুষের স্বার্থের প্রতিও সবমহলের গুরুত্ব আশা করেন।