২০-২৬ মে দেশব্যাপী ‘কৃষক বাঁচাও সপ্তাহ’ পালন করুন–সিপিবি

2

সদ্য ঘরে তোলা বোরো ধানের দাম পাচ্ছে না কৃষকরা। উৎপাদন ব্যয়ের তুলনায় কম দামে বাজারে ছাড়তে হচ্ছে তাদের উৎপন্ন ধান। উৎপাদন ব্যয়ের দেড়গুণের সমান লাভজনক দামের জন্য সংগ্রামরত কৃষকরা দাম না পেয়ে জমিতেই পাকা ধান পুড়িয়ে দিচ্ছে। সরকার ১, হাজার ৪০ টাকা মণ দরে ধান ক্রয়ের সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেছে। ক্রয়কেন্দ্রের দূরত্ব ও কেন্দ্রের কর্মচারীদের দুর্নীতির কারণে বিক্রয়ে অনিশ্চিয়তা এবং ধান সংরক্ষণের অপর্যাপ্ততার কারণে কৃষকরা নিকটবর্তী হাটে মধ্যস্বত্ত্বভোগী ফড়িয়াদের কাছে উৎপাদন ব্যয়ের কম দামে বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছে।
কৃষকদের এ দূরাবস্থায়, প্রতিটি ইউনিয়নে ‘সরকারি ক্রয় কেন্দ্র’ চালু করে খোদ কৃষকের কাছ থেকে ১ হাজার ৪০ টাকা মণ দরে ধান ক্রয় করার দাবিতে আগামী ২০-২৬ মে দেশব্যাপী ‘কৃষক বাঁচাও সপ্তাহ’ পালন করবে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি)।
বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি)’র সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম ও সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ শাহ আলম আজ এক বিবৃতিতে বলেন, বাংলাদেশের বর্তমান অগ্রগতির অন্যতম কারিগর হচ্ছে বাংলার কৃষক। তারা দেশকে খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ করেছে। কিন্তু তারা উৎপাদিত ফসলের ন্যায্য দাম না পেয়ে সর্বশান্ত হচ্ছে। তারা মুনাফালোভী ‘রাইস মিল মালিক’ ও ‘ধান-চাল সিন্ডিকেট’ এর প্রতারণার ফলে উৎপাদন ব্যয়ের অর্ধেক দামে ধান বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছে।
নেতৃবৃন্দ বলেন, কৃষকদের এ দূরাবস্থা থেকে রক্ষা করতে দেশব্যাপী কৃষক সংগ্রাম গড়ে তোলা জরুরি। তাঁরা আগামী ২০-২৬ মে দেশব্যাপী ‘কৃষক বাঁচাও সপ্তাহ’র ডাক দেন।
তাঁরা ইউনিয়ন পর্যায়ে ক্রয় কেন্দ্র চালু, সরকার নির্ধারিত দামে খোদ কৃষকের কাছ থেকে ধান ক্রয়ে সরকারি ক্রয় কেন্দ্রের কর্মচারীদের বাধ্য করতে দেশব্যাপী ক্রয় কেন্দ্রসমূহের সামনে বিক্ষোভ সমাবেশ, অবস্থান ধর্মঘট, গণ দরখাস্তর মাধ্যমে আন্দোলন গড়ে তুলতে কৃষক-খেতমজুরদের প্রতি আহবান জানান।