বুরকিনা ফাসোর ক্যাথলিক চার্চে বন্দুক হামলায় নিহত ৬

2

বুরকিনা ফাসোর উত্তরাঞ্চলে দাবলো এলাকায় রোববার একটি ক্যাথলিক চার্চে প্রার্থনা চলাকালে বন্দুকধারীদের হামলায় একজন যাজকসহ ছয়জন নিহত হয়েছে।
দাবলোর মেয়র ওসমান জোঙ্গো বার্তা সংস্থা এএফপি’কে বলেন, ‘সকাল ৯টার দিকে প্রার্থনা চলাকালে সশস্ত্র দল ক্যাথলিক চার্চে হামলা করে।’ তিনি আরো বলেন, ‘পুণ্যার্থীরা পালানোর চেষ্টা করলে তারা গুলিবর্ষণ শুরু করে।’
নিরাপত্তা সূত্র জানায়, হামলাকারীদের বয়স ২০ বছর থেকে ৩০ বছরের মধ্যে। তারা কয়েকজন পুণ্যার্থীকে ফাঁদে ফেলতে সক্ষম হয়।
জোঙ্গো বলেন, ‘তারা পাঁচ জনকে হত্যা করেছে। এই হামলায় যাজকও নিহত হন।’
হামলার পর বন্দুকধারীরা চার্চ, কয়েকটি দোকান ও একটি ছোট ক্যাফেতে আগুন ধরিয়ে দেয়। এরপর তারা একটি স্থানীয় স্বাস্থ্য কেন্দ্রে গিয়ে লুটপাট চালায় ও প্রধান নার্সের গাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয়।
জোঙ্গো আরো বলেন, ‘শহরে আতঙ্ক বিরাজ করছে।’ মেয়র আরো বলেন, ‘মানুষ বাড়ি থেকে বের হচ্ছেনা। জীবনযাত্রা থমকে গেছে। দোকানপাট বন্ধ রয়েছে। এটি একটি ভুতুড়ে শহরে পরিণত হয়েছে।’
নিরাপত্তা সূত্র জানিয়েছে, দাবলো থেকে প্রায় ৪৫ কিলোমিটার দক্ষিণে অবস্থিত বারসালোগো থেকে নিরাপত্তা সদস্যদের পাঠানো হয়েছে। এলাকাটিতে চিরুনি অভিযান চলছে। দালবো এলাকাটি সানমাতেঙ্গা প্রদেশে অবস্থিত।
এই ঘটনাকে ‘বর্বরোচিত ও কাপুরুষোচিত হামলা’ হিসেবে অভিহিত করে সরকার এর তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। সরকার এই হামলায় এক যাজকসহ ছয় জনের নিহত হওয়ার সত্যতা নিশ্চিত করেছে।
দেশের উত্তরাঞ্চলে রাতের আঁধারে অভিযান চালিয়ে ফ্রেঞ্চ স্পেশাল ফোর্স চার জন বিদেশী জিম্মিকে মুক্ত করার দুই দিন পর এ হামলা চালানো হল। ওই ঘটনায় দুই সৈন্য নিহত হয়।
ফরাসি জিম্মি প্যাট্রিক পিক ও লরাঁ লাসিমুইলাকে উদ্ধার করতে এ অভিযানের নির্দেশ দেয়া হয়।
১ মে বেনিনের পেন্ডজারি ন্যাশনাল পার্কে ছুটি কাটানোর সময় তারা নিখোঁজ হন।
উদ্ধারকারী দলটি এ সময় অপর দুই নারী জিম্মিকে উদ্ধার করে। এদের একজন মার্কিন ও অপরজন দক্ষিণ কোরীয় নাগরিক।