আমার গণরুমের হল-জীবন

30

উন্মেশ রায়ঃ হলে বোধহয় উঠি ২০০৯র এপ্রিল-মে নাগাদ। এলাকার এক বড়ভাই হলে গণরুমে তুলে দিলো। গিয়ে দেখি রুমে পাশাপাশি লাগানো ১২-১৪টা বেড। সন্ধ্যায় আমার বেড ও বালিশ রেখে এসে ৮টায় ফিরে দেখি বিছানা বালিশ কে যেন রুমের কোণায় ছুঁড়ে ফেলেছে।রুমে একজন ছিলো তাকে জিজ্ঞেস করতেই বললো,সবার নাকি খুব রাগ,যারা এই রুমে থাকে। এমনভাবে শুরু হলো গণরুমে থাকা,সাড়ে৩বছর ছিলাম। আরেক বড়ভাই ছাত্রলীগের এক গ্রুপে যোগাযোগ করে দিলো। আমি যেহেতু ঐ সংগঠন করবো না তাই আর গেলাম না। এরপর ছাত্রমৈত্রীতে যুক্ত হই। তাদের রুম দেওয়ার যোগ্যতা ছিলো না।যে দুটো ছিলো তাতে আঞ্চলিক প্রীতি করে বরিশালের লোকজন থাকতো। এই রুমে থাকা কেউই সংগঠন ভালোভাবে করে নি। আমি রুমে থাকার বিনিময়ে রাজনীতি করায় বিশ্বাসী ছিলাম না। তাই নেতাদের এহেন আচরণে দুঃখ পেলেও কষ্ট পেতাম না। হলে অন্যান্য বাম সংগঠনের কর্মীরা অধিকাংশই সংশ্লিষ্ট রুমে থাকার সুবাদে রাজনীতি করতো। হল জীবনে কোন বড়ভাই, বন্ধু এই অবস্থা থেকে উত্তরণে সহায়তা করে নি। তবে হলের প্রভোস্টের কাছে যেতাম,আশ্বাস পেতাম, দাবি পূরণ হতো না। অবশেষে যখন ফোর্থ ইয়ারের এক সেমিস্টার শেষ করার পর হলে নতুন বিল্ডিং উঠলো। সিঙ্গেল বেড পেলাম। আরও মজার বিষয় ছিলো স্নানের অভ্যাস হয়ে গেলো সন্ধ্যাবেলা। কারণ যে গণরুমে থাকতাম তার নিচে দুটো খাওয়ার মেস ছিলো। ১২.৩০-২.৩০ পর্যন্ত খেতে আসা হলের ছোটভাই,বন্ধু,বড়ভাইদের অতিক্রম করে মেইন বিল্ডিংয়ের ওয়াশরুমে স্নান করতে যেতে আমার খুব লজ্জা লাগতো। এই গণরুম সিস্টেমটার জন্য আজও আমার লজ্জা লাগে।-লেখকঃ বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক।