বিসিবিতে পাকিভূত!

3

বিভুরঞ্জন সরকারঃবাংলাদেশে পাকিস্তানি ভূত আছে। আছে পাকিস্তানি মানসিকতার মানুষ। একাত্তরের গৌরবোজ্জ্বল মুক্তিযুদ্ধ আমরা পাকিস্তানকে হারিয়েছি। পরাজিত পাকিস্তানের পক্ষে কোনো বাঙালির অবস্থান হওয়ার কথা নয়। কারো মধ্যে পাকিস্তানপ্রীতি থাকার কথা নয়। থাকলে থাকার কথা পাকিস্তানভীতি। কারণ পাকিস্তানি বর্বররা তিরিশ লক্ষ বাঙালিকে হত্যা করেছে। কয়েক লাখ মা-বোনকে লাঞ্ছিত করেছে। কোটি মানুষকে বাধ্য করেছিলো উদ্বাস্তু জীবন যাপনে। কিন্তু না, বাঙালির মধ্যেও মিরজাফর আছে, আছে দাস মনোভাবের মানুষ। এরা পাকিস্তানের পরাজয়ে খুশি হয়নি। এরা বাংলাদেশের জল-হাওয়ায় বসবাস করে কিন্তু অন্তরে লালন করে ‘পিয়ারে পাকিস্তান’। এরা ঘাপটি মেরে থাকে। এরা আছে অনেক জায়াগায়। এমন কি সরকারি দপ্তরেও আছে। আছে বলেই পাকিস্তানি ভূতের দেখা আমরা মাঝে মাঝেই পাই। তারা আমাদের বিব্রত করে, লজ্জিত করে, ক্রুদ্ধ করে। আমরা এদের কোনো কোনো কাজে, আচরণে ক্ষুব্ধ হই কিন্তু এদের হাত থেকে নিস্তার পাই না। কারণ ভূত তাড়ানোর সরিষার মধ্যেও ভূতেরা আশ্রয় নিতে সক্ষম হয়।

পাকিস্তানি ভূতের সর্বশেষ দেখা পেলাম আমরা বিসিবিতে। আমাদের ক্রিকেট টিমের জার্সি বানানো হলো হুবহু পাকিস্তানি জার্সির অনুকরণে। বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক বিরূপ প্রতিক্রিয়ার পর জার্সি রঙ বদলের সিদ্ধান্ত হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাই এই পরিবর্তনের নির্দেশ দিয়েছেন। বাঙালির আবেগ ও ভালোবাসার রঙ লাল। নতুন জার্সিতে সবুজের সঙ্গে থাকছে লালও। আমরা খুশি। পাকিভূত পরাজিত হওয়ায়।

কিন্তু বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন এতে খুশি হতে পারেননি। পাকিস্তানি রঙে জার্সি না হওয়ায় যারা ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছন তাদের তিনি পাকিস্তান যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। তার এই প্রতিক্রিয়া দুঃখজনক। কোথায় তিনি ভুলের জন্য বিসিবির হয়ে ক্ষমা চাইবেন জাতির কাছে, তা না তিনি উল্টো আমাদের পাকিস্তান যাওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন। পাপন সাহেব বোধহয় ভুলে গেছেন যে, তার এই পরামর্শটা প্রধানমন্ত্রীর ওপরও বর্তায়। কারণ জার্সি বদলানোর নির্দেশ তিনি দিয়েছেন। রাগে বেসামাল হতে নেই। পাপন সাহেব হয়েছেন। এটা ভালো লক্ষণ নয়। পাবলিক রিঅ্যাকশন একটু হিসেবে না নিলে পস্তাতে হবে। পাকিস্তানি মন নিয়ে বাংলাদেশে কর্তৃত্ব ও নেতৃত্ব দেওয়ার আশা দুরাশায় পরিণত হবেই হবে।-লেখকঃ একজন সাংবাদিক।