আইসিসি বিশ্বকাপ ফাইনালস

2

ইংল্যান্ড ওয়েলসে আগামী ৩০ মে শুরু হতে যাচ্ছে আইসিসি বিশ্বকাপের দ্বাদশ টুর্নামেন্ট। এ পর্যন্ত টুর্নামেন্টে মোট অংশগ্রহণকারী দলের সংখ্যা বিশ। তবে শিরোপা জিতেছে মাত্র পাঁচটি দল।
গত ১১টি বিশ্বকাপের ফাইনাল ম্যাচগুলো এবং ফাইনালের সেরা খেলোয়াড়দের দিকে চোখ বুলানো যাক।
সন আয়োজক/যৌথ আয়োজক ফাইনাল ভেন্যু বিজয়ী ফল,ব্যবধান রানার্স-আপ
১৯৭৫ ইংল্যান্ড লন্ডন ওয়েস্ট ইন্ডিজ ২৯১/৮(৬০ ওভার) ও:ইন্ডিজ ১৭ রানে জয়ী অস্ট্রেলিয়া ২৭৪/১০ (৫৮.৪ ওভার)
১৯৭৯ ইংল্যান্ড লন্ডন ওয়েস্ট ইন্ডিজ২৮৬/৯(৬০ ওভার) ও:ইন্ডিজ ৯২ রানে জয়ী ইংল্যান্ড ১৯৪/১০(৫১ ওভার)
১৯৮৩ ইংল্যান্ড লন্ডন ভারত ১৮৩/১০(৫৪.৪ ওভার) ভারত ৪৩ রানে জয়ী ও:ইন্ডিজ ১৪০/১০(৫২ ওভার)
১৯৮৭ ভারত, পাকিস্তান কোলকাতা অস্ট্রেলিয়া ২৫৩/৫(৫০ ওভার) অস্ট্রেলিয়া ৭ রানে জয়ী ইংল্যান্ড ২৪৬/৮(৫০ ওভার)
১৯৯২ অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড মেলবোর্ন পাকিস্তান ২৪৯/৬(৫০ ওভার) পাকিস্তান ২২ রানে জয়ী ইংল্যান্ড ২২৭/১০(৪৯.২ ওভার)
১৯৯৬ ভারত, পাকিস্তান, শ্রীলংকা লাহোর শ্রীলংকা ২৪৫/৩(৪৬.২ ওভার) শ্রীলংকা ৭ উইকেটে জয়ী অস্ট্রেলিয়া ২৪১/৭(৫০ ওভার)
১৯৯৯ ইংল্যান্ড, ওয়েলস লন্ডন অস্ট্রেলিয়া ১৩৩/২(২০.১ ওভার) অস্ট্রেলিয়া ৮ উইকেটে জয়ী পাকিস্তান ১৩২/১০(৩৯ ওভার)
২০০৩ দক্ষিণ আফ্রিকা জোহানেসবার্গ অস্ট্রেলিয়া ৩৫৯/২(৫০ ওভার) অস্ট্রেলিয়া ১২৫ রানে জয়ী ভারত ২৩৪/১০(৩৯.২ ওভার)
২০০৭ ওয়েস্ট ইন্ডিজ ব্রিজটাউন অস্ট্রেলিয়া ২৮১/৪(৫০ ওভার) অস্ট্রেলিয়া ৫৩ রানে জয়ী (বৃষ্টি আইনে) শ্রীলংকা ২১৫/৮(৩৬ ওভার)
২০১১ বাংলাদেশ, ভারত, শ্রীলংকা মুম্বাই ভারত ২৭৭/৪(৪৮.২ ওভার) ভারত ৬ উইকেটে জয়ী শ্রীলংকা ২৭৪/৬(৫০ ওভার)
২০১৫ অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড মেলবোর্ন অস্ট্রেলিয়া ১৮৬/৩(৩৩.১ ওভার) অস্ট্রেলিয়া ৭ উইকেটে জয়ী নিউজিল্যান্ড ১৮৩/১০(৪৫ ওভার)

কমপক্ষে একবার হলেও এ পর্যন্ত এগারটি আসরে মোট ২০টি দল ক্রিকেট বিশ্বকাপে অংশ নিয়েছে। যার মধ্যে সাতটি দল সব আসরেই অংশ গ্রহণ করেছে, পাঁচ দল শিরোপা জয় করেছে। প্রথম দুই আসরের শিরোপা জিতেছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। অস্ট্রেলিয়া সর্বাধিক পাঁচ বার, ভারত দুই বার এবং পাকিস্তান ও শ্রীলংকা একবার করে জিতেছে ক্রিকেটের সর্বোচ্চ এ শিরোপা। ওয়েস্ট ইন্ডিজ (১৯৭৫,১৯৭৯) এবং অস্ট্রেলিয়া (১৯৯৯, ২০০৩ এবং ২০০৭) একমাত্র দল যারা পরপর শিরোপা জয়ের রেকর্ড গড়েছে। এগার আসরের মধ্যে (১৯৭৫, ১৯৮৭, ১৯৯৬, ১৯৯৯, ২০০৩, ২০০৭ এবং ২০১৫) সাতবার ফাইনাল খেলেছে অস্ট্রেলিয়া। ইংল্যান্ড এখন পর্যন্ত শিরোপা জিততে না পারলেও (১৯৭৯, ১৯৮৭ এবং ১৯৯২) তিন বার রানার্স-আপ হয়েছে। টেস্ট খেলুড়ে দেশের বাইরের দল হিসেবে সেরা কৃতিত্ব দেখিয়েছে কেনিয়া ২০০৩ সালের সেমিফাইনাল খেলে। টেস্ট খেলুড়ে দেশের বাইরে প্রথমবার অংশ নিয়ে সেরা নৈপুণ্য রয়েছে আয়ারল্যান্ডের। অভিষেকে ২০০৭ আসরে সুপার আট পর্ব (দ্বিতীয় রাউন্ড) খেলেছে আইরিশরা।
আয়োজক হয়ে প্রথম দল হিসেবে শিরোপা জয় করা দল শ্রীলংকা। ১৯৯৬ আসরের যৌথ আয়োজক ছিল ভারত, পাকিস্তান এবং শ্রীলংকা। এ পর্বে পাকিস্তানে অনুষ্ঠিতব্য ফাইনালে অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়ে শিরোপা জিতেছিল লংকানরা। আয়োজক এবং নিজ মাঠে ফাইনাল খেলে ২০১১ বিশ্বকাপ শিরোপা জয় করে ভারত। ২০১৫ আসরে একই কৃতিত্ব দেখায় অস্ট্রেলিয়া। আয়োজক হিসেবে ১৯৮৯ ফাইনাল খেলা অপর দল ইংল্যান্ড। যৌথ আয়োজক হিসেবে বিশ্বকাপে সেরা ফল ফাইনাল খেলা অপর দল নিউজিল্যান্ড। ২০১৫ বিশ্বকাপের ফাইনাল খেলেছিল যৌথ আয়োজক দেশটি এ ছাড়া যৌথ আয়োজক হিসেবে ২০০৩ জিম্বাবুয়ে সুপার সিক্স, কেনিয়া সেমিফাইনাল খেলেছে। ১৯৯৭ যৌথ আয়োজক ভারত ও পাকিস্তান উভয় দলই সেমিফাইনাল খেলেছে।
যৌথ আয়োজক হলেও ১৯৯২ সালে অস্ট্রেলিয়া, ১৯৯৯ সালে ইংল্যান্ড, ২০০৩ সালে দক্ষিণ আফ্রিকা এবং ২০১১ সালে বাংলাদেশ টুর্নামেন্টের প্রথম রাউন্ড থেকেই বিদায় নেয়।
ফাইনালের সেরা খেলোয়াড়
১৯৯২ বিশ্বকাপের আগে টুর্নামেন্টের সেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কার ছিলনা। তবে ম্যাচ সেরা পুরস্কার সব সময়ই চালু ছিল। ফাইনালে ম্যাচ সেরা নির্বাচিত হওয়া মানে বিশ্বকাপ ফাইনালে সবচেয়ে বড় ভুমিকা পালন করেছে সে খেলোয়াড়। আজ পর্যন্ত ফাইনালে বিজয়ী দলের কোন খেলোয়াড়ই পেয়েছেন এ পুরস্কার।
এ পর্যন্ত যারা ফাইনালের সেরা খেলোয়াড় নির্বাচিত হয়েছেন:
সন খেলোয়াড়, দেশ পারফরমেন্স
১৯৭৫ ক্লাইভ লয়েড, ওয়েস্ট ইন্ডিজ ১০২ রান
১৯৭৯ ভিভ রিচার্ডস, ওয়েস্ট ইন্ডিজ ১৩৮* রান
১৯৮৩ মহিন্দার অমরনাথ,ভারত ৩/১২ এবং ২৬ রান
১৯৮৭ ডেভিড বুন, অস্ট্রেলিয়া ৭৫রান
১৯৯২ ওয়াসিম আকরাম, পাকিস্তান ৩৩ রান এবং ৩/৪৯
১৯৯৬ অরবিন্দ ডি সিলভা, শ্রীলংকা ১০৭* রান এবং ৩/৪২
১৯৯৯ শেন ওয়ার্ন, অস্ট্রেলিয়া ৪/৩৩
২০০৩ রিকি পন্টিং, অস্ট্রেলিয়া ১৪০*
২০০৭ এডাম গিলক্রিস্ট, অস্ট্রেলিয়া ১৪৯ রান
২০১১ মহেন্দ্র সিং ধোনি,ভারত ৯১* রান
২০১৫ জেমস ফকনার, অস্ট্রেলিয়া ৩/৩৬-বাসস