নাটকেও কাজ হলো না…

7

হারুন উর রশীদ স্বপনঃ সোনাগাজী উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি রুহুলি আমীন অনেক নাটক করেছিলেন। ৬ এপ্রিল নুসরাতকে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে হত্যাচেষ্টার পরদিন আমি তাকে ফোন করেছিলাম। সেদিন তিনি নিজেকে বাঁচিয়ে তার সাঙ্গপাঙ্গদের দোষ দেন। আমাকে বলেন,‘ এর আগে ২৭ মার্চ নুসরাতকে যৌন নিপীড়ণের পর আমিই ওসি সাহেবকে ডেকে অধ্যক্ষ সিরাজ উদ দৌলাকে পুলিশে দিই। ওয়ার্ড কাউন্সিলর মাকসুদ পর দিন অধ্যক্ষের মুক্তির দাবীতে শিক্ষার্থীদের দিয়ে মিছিল বের করলে তাকে বকাবকি করি।’ তিনি আরো বলেন,‘ ভাই নুসরাতকে আগুনে পুড়িয়ে হত্যাচেষ্টার ঘটনা আমাকে অনেক কষ্ট দিয়েছে। আমি এর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।’
তাঁকে আরো অনেক প্রশ্ন করেছিলাম। কিন্তু প্রতিটি প্রশ্নের উত্তর তিনি এড়িয়ে যান। আর বলেন,‘ উপজেলা নির্বাচন নিয়ে ব্যস্ত থাকায় আমি অনেক কিছু খেয়ালে রাখতে পারি নাই। আমি ব্যস্ত না থাকলে এই ঘটনা ঘটতে পারত না।এখন আমার অনেক আফসোস হচ্ছে।’
রুহুল আমীন নুসরাতের মাদ্রাসার ম্যানেজিং কমিটির সহ সভাপতি। আর নুসরাত হত্যার নেপথ্য পরিকল্পনাকােরীদের অন্যতম সে। নুসরাতের শরীরে আগুন দেয়ার পর দুর্বৃত্তরা তাকেই প্রথম ফোন করে মিশন সাকসেস করার কথা জানায়।
সিরাজ উদ্দৌলার বড় খুঁটি ছিল এই রুহুল আমীন। বিনিময়ে মাদ্রাসার মার্কেটসহ বিভিন্ন খাত থেকে আয় হওয়া মাসে ১০ লাখ টাকার মোটা একটি অংশ পেতেন তিনি।
এত বড় অপরাধী এই আওয়ামী লীগ নেতা ভেবেছিলের নাটক আর ক্ষমতা তাকে রক্ষা করবে। কিন্তু শেষ রক্ষা হলোনা।
শেষ পর্যন্ত তাকে গ্রেপ্তার করা হলো। ক্ষমতা, নাটক আর অভিনয়ে কাজ হলোনা।
কারণ বড় ক্ষমতা তার ইমেজ রক্ষায় ছোট ক্ষমতাকে অনেক সময় ছুড়ে ফেলতে বাধ্য হয়।-লেখক: একজন সাংবাদিক।