তৃতীয় শ্রেণি পর্যন্ত থাকবে না পরীক্ষা

2

আগামী বছর থেকে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণি পর্যন্ত পরীক্ষা পদ্ধতি বাতিল করে বিকল্প মূল্যায়ন পদ্ধতি চূড়ান্ত করতে ১০ সদস্যের কমিটি গঠন করেছে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়। কমিটিকে অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনা করে আগামী ১৫ কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।

জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি) করা বিকল্প মূল্যায়ন পদ্ধতির ধারণাপত্র নিয়ে গত বুধবার সচিবালয়ে প্রথম সভা অনুষ্ঠিত হয়। সেখানেই এই কমিটি গঠন করা হয়। এই কমিটির প্রধান করা হয়েছে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (প্রশাসন) জি এম হাসিবুল আলমকে। কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন—প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা একাডেমি (নেপ) এর মহাপরিচালক, এনসিটিবির সদস্য (প্রাথমিক) প্রমুখ।

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা সচিব মো. আকরাম-আল-হোসেন বলেন, কমিটি মাঠপর্যায়ের অংশীজনদের সঙ্গে বসবে। এছাড়াও যাদের প্রয়োজন মনে করেন তাদের মতামত নিবেন। এরপর একটা বিকল্প মূল্যায়ন পদ্ধতি চূড়ান্ত করে মন্ত্রণালয়ে জমা দিবেন। বিকল্প সেই মূল্যায়ন পদ্ধতি নিয়ে আমরা শিক্ষাবিদদের সঙ্গে বসবো। এরপর তৃতীয় শ্রেণি পর্যন্ত পরীক্ষা তুলে দেওয়ার ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

সভা সূত্রে জানা যায়, শিক্ষার্থীদের শোনা, বলা, পড়া ও লেখা এই চারটি বিষয়ের ওপর মূল্যায়ন করে পরবর্তী ক্লাসে উন্নীত করার ব্যাপারে সভার সকলেই একমত হন। তবে এই চারটি বিষয়ে কীভাবে মূল্যায়ন হবে তা চূড়ান্ত করবে ১০ সদস্যের কমিটি। তবে শিক্ষার্থীদের কোনো নম্বর দেওয়া হবে না বলে সকলে মত দেন।

জানা যায়, শোনার ক্ষেত্রে শিশুদের আদেশ বা নির্দেশ দিয়ে তা পালন করানো, গল্প বা গল্পের অংশ শুনিয়ে প্রশ্ন করে তার উত্তর বলতে ও লিখতে দেওয়া হবে। এক্ষেত্রে রেকর্ডারও ব্যবহার করা হতে পারে। বলার ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীদের স্পষ্টতা, শুদ্ধতা, প্রমিত উচ্চারণ, শ্রবণযোগ্যতা, সঠিক ছন্দে কথোপকথন, প্রশ্ন করা, অনুভূতি ব্যক্ত করা, বর্ণনা করা ও বাচনভঙ্গিও ওপর মূল্যায়ন করা হবে।

লেখার ক্ষেত্রে স্পষ্ট ও সঠিক আকৃতিতে লেখা, শূন্যস্থান পূরণ, এলোমেলো শব্দ বা বাক্য সাজিয়ে লেখাসহ নানাদিক দেখা হবে। তবে সুন্দর হাতের লেখার প্রতি বিশেষ জোর দেওয়া হবে। পড়ার ক্ষেত্রে সময় উচ্চারণ, সাবলীলতা, গতি পরিমাপ করা, শুদ্ধতা, শ্রবণযোগ্যতা যাচাই করা হবে।-ইত্তেফাক