সাকিবের বিশ্বকাপ প্রস্তুতি নিয়ে দুর্ভাবনা

0

তাঁর আইপিএল যাত্রার আগে কত সতর্কতা! ইনজুরি নিয়ে সতর্ক থাকতে হবে, বিসিবি চিকিৎসকদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখতে হবে—এমন অনেক নির্দেশনা। কিন্তু বাস্তবে তো সেসবের প্রয়োজনই পড়েনি খুব একটা।

সানরাইজার্স হায়দরাবাদের হয়ে প্রথম ম্যাচ খেলার পর থেকেই যে একাদশের বাইরে সাকিব আল হাসান!
তাতে আবার যোগ হয়েছে নতুন আশঙ্কা। ইনজুরির কারণে দীর্ঘদিন মাঠের বাইরে থাকার পর আরো অনেক দিন ম্যাচ খেলতে না পারায় সাকিবের বিশ্বকাপ প্রস্তুতি কি যথাযথ হচ্ছে?

৮ ফেব্রুয়ারি বিপিএল ফাইনাল খেলার সময় বাঁ হাতের কনিষ্ঠ আঙুলে ব্যথা পান সাকিব। সে কারণে জাতীয় দলের সঙ্গে নিউজিল্যান্ড সফরে যেতে পারেননি। আইপিএলে সানরাইজার্স হায়দরাবাদের হয়ে খেলার জন্য দেশ ছাড়েন ২২ মার্চ। দুই দিন পর দলের প্রথম ম্যাচে খেলেছেনও। কলকাতা নাইট রাইডার্সের বিপক্ষে ব্যাটিংয়ে সুযোগ পাননি সাকিব; বোলিংয়ে ৩.৪ ওভারে ৪২ রান দিয়ে নেন ১ উইকেট। এরপর সেই যে একাদশ থেকে ছিটকে পড়েন, ফেরেননি এখনো। ইনজুরিতে পড়া থেকে শুরু করে ধরলে সর্বশেষ প্রায় আড়াই মাসে ওই একটি মাত্র ম্যাচই খেলেছেন সাকিব। বিশ্বকাপ সামনে রেখে এই অলরাউন্ডারকে ঘিরে বাংলাদেশের উদ্বেগটা তাই অমূলক না।

প্রধান নির্বাচক মিনহাজুল আবেদীনের কণ্ঠে তাই অনুমেয় শঙ্কা, ‘সাকিবের না খেলাটা অবশ্যই উদ্বেগের। কারণ বড় একটি ইনজুরি থেকে উঠেছে ও। সামনে আরো অনেক খেলা আছে। এ অবস্থায় পূর্ণ ম্যাচ ফিটনেসের জন্য খেলার বিকল্প নেই। আইপিএলে গিয়ে সাকিবের ম্যাচ খেলতে না পারাটা তাই আমাদের অবশ্যই ভাবিয়ে তুলেছে। ’ ক্রিকেট অপারেশন্স চেয়ারম্যান আকরাম খান এটিকে দুঃসংবাদ মানলেও বিশ্বকাপে পুরো ছন্দের সাকিবকে পাওয়া নিয়ে আশাবাদী, ‘সাকিবের না খেলাটা আমাদের জন্য দুঃসংবাদ অবশ্যই। তবে এ নিয়ে আমি খুব চিন্তিত না। আয়ারল্যান্ডে ত্রিদেশীয় সিরিজ খেলবে, বিশ্বকাপের আগে অফিশিয়াল দুটি প্রস্তুতিমূলক ম্যাচ খেলবে। তাতে বিশ্বকাপে পুরো ছন্দের সাকিবকে পাব বলেই আমাদের বিশ্বাস। ’

আইপিএলে অনেক বছর ধরেই নিয়মিত খেলছেন সাকিব। একাদশে থাকাটাও একরকম অবধারিত। এবারের মতো ব্রাত্য ছিলেন না কোনোবার। সানরাইজার্স হায়দরাবাদের তাঁকে না খেলানোটা তাই চমক হয়ে এসেছে আকরামের কাছে, ‘ওকে যে খেলাবে না, সেটি তো আর আমরা বুঝিনি। আমি নিশ্চিত যে, সাকিব নিজেও বোঝেনি। তবে ম্যাচ না খেললেও অনুশীলনের মধ্যে তো রয়েছে। আর সাকিবের মতো অভিজ্ঞ ক্রিকেটারের জন্য পরিস্থিতির সঙ্গে মানিয়ে নেওয়াটা বড় চ্যালেঞ্জ না। আমি নিশ্চিত যে, ম্যাচ না খেলার সমস্যা ও কাটিয়ে উঠতে পারবে। ’ আইপিএলে খেলতে না গিয়ে ঢাকা লিগে খেললে ম্যাচের মধ্যে অন্তত থাকতেন সাকিব—এমন আলোচনাও এখন বাংলাদেশের ক্রিকেটমহলে। কিন্তু আগের বাস্তবতা ভিন্ন ছিল বলেই মনে করিয়ে দিয়েছেন প্রধান নির্বাচক মিনহাজুল, ‘দেখুন, আইপিএল আন্তর্জাতিক মানের টুর্নামেন্ট। বিশ্বের সেরা সব ক্রিকেটার সেখানে খেলে। সাকিব যে ওখানে খেলবে, তা আগে থেকেই ঠিক হয়ে আছে। আর তখন আমরা কিভাবে জানব যে ওর ফ্র্যাঞ্চাইজি সাকিবকে খেলাবে না! আইপিএল না খেলে ঢাকা লিগ খেললে ভালো হতো—সেটি এখনকার বাস্তবতায় হয়তো বলতে পারেন। তবে তখন এ সিদ্ধান্ত নেওয়ার উপায় ছিল না। ’

আইপিএলে ম্যাচ খেলার সুযোগ হচ্ছে না। নিজের ব্যক্তিগত প্রস্তুতির জন্য কাল নিজের কৈশোরের কোচ মোহাম্মদ সালাউদ্দিনকে ভারতে উড়িয়ে নিয়েছেন সাকিব। আর আইপিএলে যদি না-ই খেলেন, তাহলে ২২ এপ্রিল থেকে শুরু বাংলাদেশের বিশ্বকাপ প্রস্তুতির আগেই এই অলরাউন্ডারকে দেশে ডেকে পাঠানো হতে পারে। তবে ক্রিকেট অপারেশন্স চেয়ারম্যান আকরাম সে জন্য সাকিবের সঙ্গে কথা বলতে চান আগে, ‘সাকিবের সঙ্গে কথা বলে সিদ্ধান্ত নেব। এখানে কয়েকটি ব্যাপার মাথায় রাখতে হবে। সানরাইজার্স হায়দরাবাদ ওকে এখন খেলাচ্ছে না। কিন্তু পরের ম্যাচে যে খেলাবে না, সে নিশ্চয়তা কোথায়! সেই ম্যাচ খেলাটা সাকিবকে নিঃসন্দেহে সাহায্য করবে। আবার খেলাবে না ধরে নিয়ে সাকিবকে ঢাকায় ফিরিয়েই-বা কী করব! এখন তো আর ঢাকা লিগের কোনো দলে ওকে দেওয়া যাবে না। সেটি সম্ভব না। তাহলে ম্যাচ অনুশীলনের জন্য সেই আইপিএলের দিকেই তাকিয়ে থাকতে হবে। ’

সেখানে সাকিব খেলার সুযোগ পেলে ভালো। নইলে আয়ারল্যান্ডের ত্রিদেশীয় সিরিজে স্বাগতিক ও ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে অন্তত চারটি ম্যাচ খেলবেন; ফাইনালে উঠলে সংখ্যাটি হবে পাঁচ। এরপর পাকিস্তান ও ভারতের বিপক্ষে বিশ্বকাপের অফিশিয়াল দুটি প্রস্তুতি ম্যাচ। দীর্ঘদিন খেলার বাইরে থাকার মরিচা ঝেড়ে ফেলার জন্য যথেষ্ট ম্যাচই থাকবে সাকিবের সামনে।-কালেরকন্ঠ