সরকার কৃষক-ক্ষেতমজুরদের ঠকিয়ে উন্নয়নের ফানুস উড়াচ্ছে

1

যুগবার্তা ডেস্কঃ বাংলাদেশের উন্নতি সমৃদ্ধির ভিত্তি ভূমি এদেশের কৃষক ও ক্ষেতমজুরদেরকে রাষ্ট্র সিদ্ধান্ত নিয়ে দশকের পর দশক ঠকিয়েই চলেছে। তারা উৎপাদন করে আমাদের বাঁচিয়ে রেখেছে কিন্তু প্রতিদানে তাদেরকে উৎপাদিত ফসলের উৎপাদন খরচ দেয়া হচ্ছে না, সামান্য ঋণের টাকা আদায়ে সার্টিফিকেট মামলা দিয়ে তাড়িয়ে বেড়ানো হচ্ছে, খাসজমি তাদের সাংবিধানিক অধিকার হওয়ার পরেও সেই জমি দিয়ে দেয়া হচ্ছে শিল্পায়নের নামে শহরের ধনী শিল্পপতিদের, দলীয় নেতাকর্মীদের। আজ সকালে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে কৃষক-ক্ষেতমজুরদের সমাবেশে বক্তারা এ কথা বলেন।

৯ দফা দাবিতে সমাবেশ শেষে একটি মিছিল পল্টন-জিপিও-গুলিস্তান হয়ে একটি প্রতিনিধি দল সচিবালয়ে গিয়ে অর্থমন্ত্রীর কাছে স্মারকলিপি প্রদান করে। এর আগের অনুষ্ঠিত সমাবেশ থেকে আগামী ২৯ এপ্রিল উপজেলায় উপজেলায় ধানের লাভজনক দাম ও প্রতি ইউনিয়নে সরকারি উদ্যোগে ক্রয়কেন্দ্র চালুর দাবিতে উপজেলা খাদ্য কর্মকর্তার কার্যালয়ের সামনে বিক্ষোভ সমাবেশ ও স্মারকলিপির কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়।
কৃষক-ক্ষেতমজুর সংগ্রাম পরিষদের সমন্বয়ক ও কৃষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক কাজী সাজ্জাদ জহির চন্দনের সভাপতিত্বে ও সমাজতান্ত্রিক কৃষক ক্ষেতমজুর ফ্রন্টের সাধারণ সম্পাদক বজলুর রশীদ ফিরোজের পরিচালনায় সমাবেশে বক্তব্য রাখেন কৃষক সমিতির সভাপতি অ্যাড. এসএমএ সবুর, ক্ষেতমজুর ইউনিয়নের সভাপতি সাইফুল হক, ক্ষেতমজুর সমিতির সাধারণ সম্পাদক অ্যাড. আনোয়ার হোসেন রেজা, কৃষক-ক্ষেতমজুর সমিতির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক আব্দুস সাত্তার, সমাজতান্ত্রিক কৃষক ক্ষেতমজুর ফ্রন্টের সাধারণ সম্পাদক মনজুর আলম মিঠু, বিপ্লবী কৃষক সংহতির আনসার আলী দুলাল, কৃষক ফোরামের লিয়াকত আলী, কৃষক ক্ষেতমজুর সংহতির আহবায়ক দেওয়ান আব্দুর রশিদ মিলু প্রমুখ।

সমাবেশে আরও উপস্থিত ছিলেন সমাজতান্ত্রিক কৃষক-ক্ষপতমজুর ফ্রন্টের শুভ্রাংশু চক্রবর্তী, সমাজতান্ত্রিক কৃষক-ক্ষেতমজুর ফ্রন্টের অধ্যক্ষ ওয়াজেদ পারভেজ, কৃষক-ক্ষেতমজুর সমিতির সভাপতি রণজিৎ চ্যাটার্জি, ক্ষেতমজুর সমিতির সহকারী সাধারণ সম্পাদক অর্ণব সরকার।

সমাবেশে সংহতি জানিয়ে বাম গণতান্ত্রিক জোটের শীর্ষ নেতা বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি)’র সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম, বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল বাসদের সাধারণ সম্পাদক খালেকুজ্জামান, ইউনাইটেড কমিউনিস্ট লীগের সাধারণ সম্পাদক মোশাররফ হোসেন নান্নু উপস্থিত ছিলেন।
সমাবেশে বক্তারা বলেন, বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির জন্য অবদান রাখা প্রধান তিনটি খাতের একটি কৃষি। দেশের মোট শ্রমশক্তির ৪২.৭ ভাগই কৃষিতে নিয়োজিত। অর্থনৈতিক সমৃদ্ধিতে অপার সম্ভাবনা ও বিপুল পরিমাণ কর্মসংস্থান থাকার পরও শাসকরা দেশের কৃষি-কৃষক ও ক্ষেতমজুরসহ গ্রামীণ মজুরদের উপেক্ষা করে আসছে।