জাহাঙ্গীরনগরে ইবি হ্যান্ডবল টিমকে ব্যাপক মারধর

1

জাবি প্রতিনিধিঃ ‘বঙ্গবন্ধু আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় স্পোর্টস চ্যাম্পিয়নশীপ-২০১৯’ এর হ্যান্ডবল টুর্নামেন্টের সেমিফাইনাল ম্যাচ খেলতে এসে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে ব্যাপক মারধোরের শিকার হয়েছে কুষ্টিয়া ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) হ্যান্ডবল টিম। এতে ১২জন খেলোয়াড়সহ কোচ, ম্যানেজার ও তিনজন শিক্ষক আহত হয়েছেন।

প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায় যে, বুধবার বিকেল পৌনে ৫টার দিকে কেন্দ্রীয় খেলার মাঠে অনুষ্ঠিত জাবি বনাম ইবি সেমিফাইনাল ম্যাচে খেলা শেষ হওয়ার ১২ মিনিট আগ পর্যন্ত ইবি দল তিন পয়েন্টে এগিয়ে ছিল। এ সময়ে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল শিক্ষার্থী মাঠে প্রবেশ করে মারধর করতে শুরু করে। এসময় তারা স্ট্যাম্প ও লাঠিসোঁটা ব্যবহার করে।

খোজ নিয়ে জানা যায়, খেলার দ্বিতীয়ার্ধের ১১ মিনিট যাওয়ার পর খেলার স্কোর যখন জাবি-১০, ইবি ১৩। এমন সময় ইবির খেলোয়ার আশিক জাবির খেলোয়ার অন্তরকে ঘাড় ধরে আঘাত করলে রেফারি ফাউল সিদ্ধান্ত দিয়ে ইবির খেলোয়ারকে দুই মিনিটের জন্য মাঠ থেকে বহিষ্কার করেন। এ সময় উত্তেজিত দর্শকরা খেলার মাঠে ঢুকে ইবির খেলোয়ারদের মারধর শুরু করে।’ এতে ইবির খেলোয়ার রাব্বি, ইমন, সিকদার, আশিক, শিমুল, দিপন, তামিম, শারীরিক শিক্ষা বিভাগের পরিচালক মোহাম্মাদ সোহেল ও কর্মকর্তা শাহ আলম কচি আহত হন।

এসময় জাবির হ্যান্ডবল দলের খেলোয়ার ও খেলা পরিচালনা কমিটির সদস্যরা উত্তেজিত দর্শকদের সরিয়ে দেন। এই সময় ইবির খেলোয়াড়দেরকে বাঁচাতে গিয়ে জাবির কয়েকজন খেলোয়াড়ও আহত হন। আহতদেরকে উদ্ধার করে সাভারের একটি বেসরকারী হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

এসময় শিক্ষক পরিচয় দিয়েও ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক প্রক্টর ড. মাহবুবুর রহমান মারধর থেকে রক্ষা পাইনি বলে জানান তিনি। এবং এর মধ্যে শারীরিক শিক্ষা বিভাগের পরিচালক ড সোহেল এর নাকে আঘাত করে। এতে তার নাক ফেটে রক্ত পড়তে দেখা গেছে।

এবিষয়ে জাবির প্রক্টর আ স ম ফিরোজ-উল- হাসান বলেন, ‘এমন অনাকাঙ্খিত ঘটনার জন্য আমরা আন্তরিকভাবে দুঃখ প্রকাশ করছি। আমরা আহতদের সুচিকিৎসা ব্যবস্থা ও চিকিৎসা ব্যয় বহন করবো। এ ঘটনায় তদন্ত কমিটি গঠন করে দোষীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

এর আগে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের কিছু শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে ইবি হ্যান্ডবল টিমকে বন্ধুক দেখিয়ে হুমকি দেওয়ার অভিযোগ আছে। ফলে পূর্ব নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী গত রবিবার (৭ এপ্রিল) বিকাল ৪টায় জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় খেলার মাঠে সেমিফাইনাল খেলা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা থাকলেও খেলার পূর্ব মুহূর্তে ইবি টিম দুপুর ৩টায় মাঠে উপস্থিত হয়ে অনুশীলন করেও খেলা প্রত্যাহার করে চলে যায়।

এবিষয়ে ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয় হ্যান্ডবল দলের অধিনায়ক আশিক বলেন, আমরা যাতে ভালভাবে খেলতে না পারি সেজন্য তিনবার আমাদেরকে হুমকি দেওয়া হয়। প্রথমবার এম এইচ হলের দোকানের পাশে। তারপর মাঠে আসলে ১৫-২০ জনের মত আবার আমাদেরকে হুমকি দেয়। পরে একপর্যায়ে দুজন এসে বন্দুক দেখিয়ে বলে মাথার খুলি ওড়িয়ে দিবে। এমন হুমকি দেওয়ার পর আমরা মাঠ ছেড়ে চলে আসি।