আইএসডিবির প্রেসিডেন্ট ও মরক্কোর অর্থমন্ত্রীর সাথে বাংলাদেশের অর্থমন্ত্রীর বৈঠক

2

যুগবার্তা ডেস্কঃ গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল ৫-৬ এপ্রিল মরক্কোর মারাক্কাসে অনুষ্ঠিত ইসলামী উন্নয়ন ব্যাংকের (আইএসডিবি) ৪৪তম বার্ষিক সভায় যোগদান করেছেন। মরক্কো সরকারের পৃষ্ঠপোষকতায় অনুষ্ঠিত এবারের বার্ষিক এ সভার প্রতিপাদ্য হচ্ছে “ট্রান্সফর্মিং ইন এ ফাস্ট চেঞ্জিং ওয়ার্ল্ড: এ রোড টু এসডিজি’স”। সভায় ২০৩০ সালের মধ্যে আইএসডিবির সদস্য রাষ্ট্রসমূহ যাতে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে পারে তার উপর গুরুত্বারোপ কর হয়।

মাননীয় অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল ৫ এপ্রিল সন্ধ্যায় আইএসডিবির প্রেসিডেন্ট বান্দার এম এইচ হাজ্জার সাথে বৈঠকে মিলিত হন। আইএসডিবির প্রেসিডেন্ট অতি সম্প্রতি বাংলাদেশ সফর করে এক অবিশ্বাস্য গতিময় অর্থনীতেতে সফল দেশ দেখে এসেছেন বলে উল্লেখ করেন। প্রেসিডেন্ট বান্দার এম এইচ হাজ্জার মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বের ভূয়সী প্রশংসা করেন।

তিনি এও স্পষ্ট করে বলেন যে বাংলাদেশ একটি ট্রান্সফরমেশনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। তার মতে বাংলাদেশে অর্থনীতি এক স্তর হতে উন্নতর আর এক স্তরে পৌছাচ্ছে। সে কারনে বাংলাদেশর আরও বেশি সম্পদের প্রয়োজন যা হতে পারে আর্থিক ও প্রাতিষ্ঠানিক। প্রেসিডেন্ট বাংলাদেশের এ ট্রান্সফরমেশনে আইএসডিবির জোরালো ভূমিকা অব্যাহত থাকবে বলে প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন। তিনি বাংলাদেশর রেলওয়ে নেটওয়ার্কসহ আরো কয়েকটি ভৌত অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের প্রস্তাব পরীক্ষাধীন অবস্থায় আছে বলে জানান। পরীক্ষা নিরীক্ষা শেষে এ সকল প্রকল্পের বিষয়ে পরবর্তী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা প্রহণ করবেন মর্মে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

বোর্ড অব গভর্ণরস সভায় ও বিভিন্ন সেসনে আনুষ্ঠানিক যোগদানের পাশাপাশি অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল, এবারের বার্ষিক সভার চেয়ার ও মরক্কোর অর্থমন্ত্রী মোহাম্মদ বেঞ্চাবোনের সাথে এক বৈঠকে মিলিত হন। বৈঠকে দুদেশের অর্থমন্ত্রী পারস্পারিক অর্থনৈতিক ও বানিজ্যিক সহযোগিতার বিষয়ে আলোচনা করেন। বাংলাদেশের অর্থমন্ত্রী বিগত ১০ বছরে দেশের সকল অর্থনৈতিক সূচকে প্রভূত উন্নয়নের বিষয়ে মরক্কোর অর্থমন্ত্রীকে অবহিত করেন। তিনি দেশে একশটি বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠার কথা উল্লেখ করে বলেন, সরকারি ও বেসরকারি খাতে বিনিয়োগকে টেকসই করার জন্যই সরকার এই শিল্পাঞ্চলগুলো গড়ে তুলেছে। তিনি এসকল বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলসমূহে পিপিপি পদ্ধতিতে তৈরি পোষাক শিল্প, ফার্মাসিউটিক্যালস, ইলেকট্রনিক্স, চামড়াজাত পন্য উৎপাদনে বিনিয়োগের জন্য মরক্কোর প্রতি তিনি অনুরোধ জানান। এসকল পন্য মরক্কোর বাজারে শুল্কমুক্তভাবে প্রবেশিধিকারের বিষয়েও অনুরোধ করেন। রক্কোর অর্থমন্ত্রীকে বাংলাদেশের অর্থমন্ত্রী বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানালে, মোহাম্মদ বেঞ্চাবোন বলেন, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে এগিয়ে যাওয়া অবিশ্বাস্য সফলতা দেখার জন্য তিনি শীঘ্রই বাংলাদেশ সফর করবেন। বাংলাদেশের সাথে অর্থনৈতিক ও বানিজ্যিক সহযোগিতা ভভিষ্যতে আরো বৃদ্ধি পাবে বলে দুদেশের অর্থমন্ত্রী আশাব্যক্ত করেন।

উক্ত বৈঠকদুটির সময় ইআরডি সচিব মনোয়ার আহমেদসহ অন্যান্য কর্মকর্তাগন উপস্থিত ছিলেন।