নিউজিল্যান্ডে মসজিদে হামলায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৪৯

2

যুগবার্তা ডেস্কঃ নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চের মসজিদে সন্ত্রাসী হামলায় তিন বাংলাদেশীসসহ নিহতের সংখ্যা দাঁড়িয়ে ৪৯ জনে। আহতদের মধ্যে ২০ জনের অবস্থা আশংকা জনক রয়েেছে। অল্পের জন্য রক্ষা পেয়েছেন বাংলাদেশের জাতীয় ক্রিকেট খেলোয়াররা।

জানাগেছে, শুক্রবার দুপুরে মসজিদে মুসল্লিরা নামাজ আদায় করা অবস্থা বন্দুক দিয়ে এলোপাথাড়ি গুলি করে হত্যাকান্ড চালানো হয়।প্রথমে ক্রাইস্টচার্চের আল নুর মসজিদে ঢুলে গুলি চালায়। এই মসজিদেই ৪১ জনের মৃত্যু হয়। এর পরে পাশে লিনউড নামে আর এক মসজিদে হামলা চালায় সেখানে ৭ জন নিহত হয়।

এ হামলায় বাংলাদেশী ৩ জন মারা গেছে। আহত আরও ২ জনের অবস্থা গুরুত্বর।
বাংলাদেশী নিহতরা হলেন স্থানীয় লিঙ্কন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ড. আবদুস সামাদ, সানজিদা আকতার ও হোসনে আরা পারভীন।
নিহত সানজিদা আকতার ড. আবদুস সামাদের স্ত্রী।

এদিকে নিহত পারভীন একজন গৃহবধূ। তার বাবার বাড়ি সিলেটের গোলাপগঞ্জের জাঙ্গাল হাটা গ্রামে। আর তার স্বামী ফরিদ উদ্দিন আহমদের বাড়ি বিশ্বনাথ উপজেলার চকগ্রামে। এই দম্পতি নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চ এলাকায় বসবাস করতেন।
নিহত পারভীনের ভাগ্নে মাহফুজ চৌধুরী বলেন, ফরিদ উদ্দিনকে নিয়ে মসজিদে যান পারভীন। তার স্বামী প্যারালাইসিসের রোগী ছিলেন। ঘটনার দিন শুক্রবার হওয়ায় জুমার নামাজ ছিল। তাই নামাজের আধঘণ্টা আগে ফরিদ উদ্দিন আহমদকে নিয়ে মসজিদে যান তিনি। স্বামীকে মসজিদে রেখে নারীদের মসজিদে চলে যান পারভীন। এর কিছু পর পর পুরুষদের মসজিদে গুলির শব্দ শুনতে পান তিনি। দ্রুত স্বামীকে দেখতে ছুটে যান। কিন্তু এটাই তার জন্য হয়ে যায় মর্মান্তিক ঘটনা। কারণ এসময় অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী তাকে গুলি করে। ফলে ঘটনাস্থলেই মারা যান পারভীন।

এদিকে নিহত ড. আব্দুস সামাদের বাংলাদেশে বাড়ি কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী উপজেলায়। তিনি নাগেশ্বরী মধুরহাইল্যা গ্রামের জামাল উদ্দিন সরকারের বড় ছেলে।

হামলাকারী নিজেকে ব্রেনটন ট্যারেন্ট বলে পরিচয় দিয়েছেন। অস্ট্রেলিয়ার নাগরিক। ২৮ বছর বয়সী একজন শ্বেতাঙ্গ।

এ হামলা থেকে অল্পের জন্য রক্ষা পেয়েছে নিউজিল্যান্ডে খেলতে যাওয়া বাংলাদেশ জাতীয় দলের কয়েকজন খেলোয়ার। মসজিদের কাছেই খেলার মাঠ।সেখান থেকে তামিম, মুশফিক সহ কয়েকজন জুমার নামাজ আদায়ের জন্য গিয়েছিল। মসজিদের ভীতরে ঢোকার আগে এক আহত মহিলা ভীতরে গোলাগুলি কথা জানালে বড় বিপদ থেকে রক্ষা পায়।দ্রুত এ স্থান ত্যাগ করে নিরাপদ স্থানে পৌছে।

এ হামলার ঘটনায় সারা বিশ্ব নেতারা উদ্বেগ ও শোক জানিয়েছেন।