ভিন্নধারার ৬ ওয়েব ব্রাউজার

6

মাহবুব শরীফঃ বিভিন্ন কাজের জন্য আমরা ওয়েব ব্রাউজ করে থাকি। তবে, সবাই একই ধরনের কাজের জন্য ব্রাউজ করি না। কেউ হয়তো গেম খেলার জন্য আবার কেউ মাল্টিমিডিয়ার কাজে আবার কেউ নিরাপত্তা অক্ষুন্ন রেখে ব্রাউজ করেন। অনেকেই হয়তো জানেন না যে, আলাদা আলাদা কাজের জন্য আলাদা আলাদা ব্রাউজার ব্যবহার করলে ভালো ফলাফল পাওয়া যেতে পারে। অর্থাত্ এমন কিছু ব্রাউজার রয়েছে যাদের আলাদা আলাদা বৈশিষ্ট্য রয়েছে। এবারের লেখায় এমন কয়েকটি ব্রাউজারের সম্পর্কে তথ্য তুলে ধরা হয়েছে যেগুলোর আলাদা বৈশিষ্ট্য রয়েছে।

কমোডো আইসড্রাগন (Comodo IceDragon)

নিরাপত্তার বিষয়ে যারা অধিক চিন্তিত তারার এই ব্রাউজারটি ব্যবহার করতে পারেন। এটির বিশেষত্ব হলো—নিরাপত্তা নিশ্চিত কার। প্রযুক্তি নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠান কমোডোর তৈরি আইনড্রাগন ব্রাউজারে মূলতই মনোযোগ দেওয়া হয়েছে নিরাপত্তার দিকে। ভাইরাস বা ম্যালওয়্যার স্ক্যানিং থেকে শুরু করে তথ্যের সুরক্ষার জন্যও কাজ করবে আইসড্রাগন ব্রাউজারটি। কমোডোর সিকিউর ডিএনএস সার্ভার ব্যবহার করে এটি ম্যালওয়্যারের পাশাপাশি ফিশিং এবং স্পাইওয়্যার ওয়েবসাইটগুলো থেকেও সুরক্ষিত রাখবে ব্যবহারকারীকে। ওয়েব কনটেন্ট শেয়ারিং এবং সার্চ করার জন্য এটিও ড্র্যাগ অ্যান্ড ড্রপ ফিচার সমর্থন করে। সবমিলিয়ে অনলাইন সুরক্ষা নিয়ে যারা চিন্তিত, তাদের জন্য আইনড্রাগন হতে পারে আদর্শ একটি পছন্দ। http://goo.gl/v12pjc লিংক থেকে ডাউনলোড করা যাবে এই ব্রাউজার।

কোউন (coowon)

গেমারদের জন্য জনপ্রিয় ব্রাউজার হালো কোউন। মূলত গেমারদের কথা মাথায় রেখে তৈরি করা হয়েছে কোউন ব্রাউজারটি। ব্যালিস্টিক থেকে শুরু করে ফার্মভিল ২—ওয়েবে খেলা যায় এমন প্রায় সব ধরনের গেম খেলার জন্যই বিশেষ সুবিধা পাওয়া যাবে ক্রোমিয়াম ইঞ্জিনে ডিজাইন করা কোউনে। এসব সুবিধার মধ্যে প্রথমেই বলতে হবে এই ব্রাউজারের বিশেষ সাইডবারের কথা। এখান থেকে গেমের প্রতিটি মুহূর্তের মাউসের ক্লিকগুলোও রেকর্ড করে রাখা যায়। কোউনে রয়েছে বিল্ট-ইন স্ক্রিনশট টুলস যা দিয়ে গেমের যেকোনো সময়ের স্ক্রিনশট ধারণ করা যাবে। খুব সহজেই কিবোর্ড এবং গেমপ্যাড কন্ট্রোলের মধ্যে সুইচ করার জন্য রয়েছে বিশেষ আইকন। http://coowon.com ঠিকানা থেকে উইন্ডোজ এবং ম্যাকের জন্য ডাউনলোড করা যাবে কোউন ব্রাউজার।

টর্চ (torch)

মাল্টিমিডিয়া নিয়ে যারা কাজ করতে আগ্রহী অথবা যারা মাল্টিমিডিয়া নিয়ে কাজ করছেন তারা এই ব্রাউজারটি ব্যবহার করলে ভালো ফলাফল পাবেন। বিশেষ করে মিউজিক এবং গেমিংয়ের জন্য এটি বেশ উপযোগী। এতে রয়েছে টর্চ মিউজিক নামে ইউটিউব-নির্ভর একটি স্ট্রিমিং সেবা। ওয়েবে খেলার উপযোগী সব গেমকে এক স্ক্রিনে নিয়ে আসতে রয়েছে টর্চ গেমস। বিভিন্ন কাজের জন্য ড্র্যাগ অ্যান্ড ড্রপ সুবিধাও রয়েছে ক্রোমিয়াম ইঞ্জিনে ডিজাইন করা টর্চে। যেমন—কোনো ওয়েব কনটেন্টকে এই ব্রাউজারের বাম দিকে ড্র্যাগ করে ছেড়ে দিলে ওই কনটেন্টটি সামাজিক যোগাযোগের বিভিন্ন সাইটে শেয়ার করার অপশন চলে আসবে। আবার ডান দিকে কোনো কনটেন্ট নিয়ে ছেড়ে দিলে ওই কনটেন্টের সংশ্লিষ্ট তথ্য সার্চ করার সুবিধা মিলবে। ইউটিউব বা ভিমিও থেকে যেকোনো ভিডিও ডাউনলোডের জন্য বিল্ট-ইন টুলস কিংবা বিল্ট-ইন টরেন্ট ক্লায়েন্ট থাকায় এটি মাল্টিমিডিয়া কনটেন্ট ডাউনলোডের জন্যও আদর্শ। www.torchbrowser.com সাইটে গিয়ে ডাউনলোড করা যাবে টর্চ ব্রাউজার।

সিমাংকি (seamonkey)

যারা ব্রাউজারে বিভিন্ন কাজ করে থাকেন বা যারা কোনো নিদৃষ্ট কাজ করেন না ব্রাউজার দিয়ে তাদের জন্য উপযোগী হলো সি মাংকি ব্রাউজার। সব ধরনের কাজ প্রায় দশ বছর ধরে বাজারে রয়েছে সি মাংকি ওয়েব ব্রাউজারটি। তবে এর মূলমন্ত্রটি এরা ধরে রেখেছে। একটি ব্রাউজার খুলেই যেন সব ধরনের কাজ করা যায়, সেটি নিশ্চিত করতেই কাজ করে যাচ্ছে সি মাংকি। একে অনেকটাই অল-ইন-ওয়ান ব্রাউজিং প্যাকেজ বলা যায়। এতে রয়েছে ইমেইল ক্লায়েন্ট, আরএসএস নিউজগ্রুপ ক্লায়েন্ট, এইচটিএমএল এডিটর, আইআরসি ক্লায়েন্টের মতো সব বিশেষ বিশেষ সব সেবা। শুধু তাই নয়, অ্যাড-অনের মাধ্যমে টরেন্ট ক্লায়েন্টও গিকো ইঞ্জিনে ডিজাইন করা এই ব্রাউজারেই যুক্ত করে নেওয়ার সুবিধা রয়েছে। www.seamonkey-project.org সাইট থেকে ডাউনলোড করা যাবে সি মাংকি ব্রাউজারটি।

ম্যাক্সথন (maxthon)

মাল্টি-ডিভাইস বা সোশ্যাল নেটওয়ার্কিং নিয়ে যারা কাজ করেন তারা ম্যাক্সথন ব্রাউজারটি বেছে নিতে পারেন। এটি একটি ক্লাউড ভিত্তিক ব্রাউজার। ম্যাক্সথনে রয়েছে ‘পাসপোর্ট’ নামে ক্লাউড অ্যাকাউন্ট যা সব ধরনের ডিভাইসে আপনার ব্রাউজিংয়ের সকল তথ্য সিনক্রোনাইজ করে রাখবে। বিকল্প ব্রাউজারগুলোর মধ্যে ম্যাক্সথনেই এটি রয়েছে কার্যকরীভাবে। এই ব্রাউজার দিয়েই কনটেন্ট শেয়ার করা যায় ইমেইল বা টেক্সট মেসেজের মাধ্যমে। আরএসএস ফিড রিডার, নোট প্যাড, অ্যাডব্লক প্লাস প্রভৃতি ফিচার এর কার্যকারিতাকে বাড়িয়ে দিয়েছে। রয়েছে ম্যাক্সথনের নিজস্ব গেমস সাইট। ট্রাইডেন্ট ও ওয়েবকিট ইঞ্জিনে ডিজাইন করা এই ব্রাউজারে কেবল ওয়েব টেক্সট পড়ার জন্য আলাদা ‘রিডার মোড’ও রয়েছে। ম্যাক্সথন ডাউনলোড করতে চাইলে ভিজিট করুন www.maxthon.com।

এপিক প্রাইভেসি ব্রাউজার (epi privacy cbrowser)

গোপনীয়তা এই ব্রাউজারটির অন্যতম বৈশিষ্ট্য। ওয়েব ব্রাউজিংয়ের তথ্য নিয়ে যারা একটু শংকিত তারা বেছে নিতে পারেন এপিক প্রাইভেসি ব্রাউজার।

গুগল ক্রোমের মতো এটি ক্রোমিয়ার ইঞ্জিনে তৈরি হলেও এতে ব্রাউজিংয়ের তথ্যকে সুরক্ষিত রাখতে যুক্ত করা হয়েছে বিভিন্ন ধরনের ফিচার। বিল্ট-ইন প্রক্সি, সবসময় প্রাইভেট ব্রাউজিংয়ের সুবিধা, থার্ড-পার্টি কুকি ও ট্র্যাকার থেকে সুরক্ষিত থাকতে বিল্ট-ইন ব্লকার প্রভৃতি একে বেশ নিরাপদ করে তুলেছে। তবে যারা গুগলের অ্যাকাউন্টের সকল তথ্য সিনক্রোনাইজ করে নিতে চান, তারা এটি ব্যবহার করবেন না। কারণ এটি গুগল অ্যাকাউন্ট ইন্টিগ্রেশন সমর্থন করে না। www.epicbrowser.com সাইট থেকে ডাউনলোড করা যাবে এপিক প্রাইভেসি ব্রাউজার।-ইত্তেফাক