দেহ সর্বস্ব প্রাণী

211

নারী;
সকলের কাছে মা,মেয়ে,প্রেয়সী ইত্যাদি নানা সম্বোধনে আড়ষ্ট এক দেহ সর্বস্ব প্রাণী।
ধর্মে যে সম্মানিত, সাহিত্যে ও সে তুমুল আলোচিত। তবে বাস্তবে কেন জানি তার সেই গতানুগতিক নিপীড়নের কথাই কানে আসে।

আচ্ছা শোষিত কি কেবল মানবজাতির এই অংশই????
সহজাত উত্তর- অবশ্যই না! শোষিত সৃষ্টির সকলেই।

তবুও নারীকূলটা একটু বেশিই যেন! তাদের অভিধানে স্বপ্নের পরিধিটা বড্ড মাপা!
“না” শব্দটা যাদের বড্ড চেনা! জন্মের পর থেকে মৃত্যুর আগ পর্যন্ত করবার মত সকল কাজের একটা ফর্দ সমাজ থেকে এদের পাওয়া!

প্রতিবদ্ধকতা সবার জীবনেই থাকে। পুরুষকূল যে বিশাল সুখি এমন ও না! দায়িত্ব নেবার সংস্কৃতিতে তারাও ক্লান্ত জীব! তবুও আসলে তাদের জগৎটা বড়! সুযোগ কম বেশি যাই হোক, সমাজ থেকে পাওয়া বঞ্চনা কম।

পুরুষ চেঁচালে হয় বাদশাহ, নারী চেঁচালে বেশ্যা।
এই যে “চরিত্র” শব্দটা। এটা রক্ষার চাপে নারীদের কখনো মানুষ হবার সাধ নেয়া হয় না!
আমি বলছি না, স্বাধীনতা মানে অবাধ মাদকসেবন কিংবা শরীরবৃত্তি! সমাজ মেনে চলাই উত্তম।
আসলে “নারী” নামক এই প্রাণীদের সাধ কেবল “মেয়েমানুষ” না হয়ে শুধুমাত্র মানুষের মত খোলা আকাশটা দেখবার!!! কোন প্রিয়তম বা অভিভাবকের ছায়াতলে না। নারীরা নিজের যোগ্যতা অর্জনের সঠিক সুযোগ পেয়ে যেই আকাশ দেখবে!

যেখানে থাকবে না স্বার্বক্ষনিক ” ইজ্জত ” রক্ষার গুরুভার! থাকবেনা যেখানে সকল অর্জনকে দেহ সর্বস্ব প্রাণী হবার ” সুবিধা ” শোনানোর কলরব।

আমার মতো এই ক্ষুদ্র জীবের আশা যে, নারী ; পুরুষদের প্রতিদ্বন্দ্বী কিংবা অধীনস্হ জীব নয়, যেন হয় পুরুষের মতো অসাধারণ উৎকৃষ্ট অর্ধেক মনুষ্যকূলের সহচর!

জানি এ বাস্তবে হবার না!!! তাও!!! বিশ্বাস করতে ক্ষতি কোথায়? আজ না হোক! হয়তো আরও সহস্র বছর পর হলেও এই “দেহ সর্বস্ব” প্রানিদের একদিন মিলবে মানুষ হবার সুযোগ! -লেখকঃ রেনেকা আহমেদ অন্তু , নৃবিজ্ঞান বিভাগ , জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়।