চকবাজার ট্রাজেডী, দুর্ঘটনা নয় হত্যাকান্ড–বাম ঐক্য ফ্রন্ট

2

যুগবার্তা ডেস্কঃ চকবাজারে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে প্রায় শত খানেক মানুষের নিহত হওয়ার ঘটনায়
গভীর শোক এবং শোক সন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা প্রকাশ করেছেন বাম ঐক্য ফ্রন্টের নেতৃবৃন্দ। তারা ওই অগ্নিকাণ্ডে নিহত হওয়ার ঘটনাকে হত্যাকাণ্ড হিসেবে অভিহিত করে এর সঠিক তদন্ত, দায়ীদের বিচারের আওতায় আনা এবং হতাহতের
পরিবারকে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার জোর দাবি জানান। নেতৃবৃন্দ এই হতাহতের ঘটনায় একদিনের রাষ্ট্রীয় শোক পালনেরও আহবান জানান।
বাম ঐক্য ফ্রন্টের সমন্বয়ক ও গণমুক্তি ইউনিয়ন এর আহবায়ক কমরেড নাসিরুদ্দিন আহমেদ নাসু, বাসদ এর কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য কমরেড শওকত
হোসেন আহমেদ, বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক পার্টির সাধারণ সম্পাদক সারওয়ার মুর্শেদ, কমিউনিস্ট ইউনিয়ন এর আহবায়ক ইমাম গাজ্জালী, গণমুক্তি ইউনিয়ন এর নেতা রেজাউল আলম, ও মোঃ রোকন এর নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল আজ সকাল সাড়ে ৯টায় ক্ষতিগ্রন্থ এলাকা পরিদর্শন করেন। এসময় নেতারা ক্ষতিগ্রস্থদের খোঁজ খবর নেন ও তাদের প্রতি সমবেদনা প্রকাশ করেন।

নেতৃবৃন্দ স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানতে পারেন, এই হত্যাকাণ্ডে ইতোমধ্যে প্রায় ৮৫ জন নিহত, শতাধিক আহত ও বড় অংকের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
চকবাজারের ছুড়িহাট্টা আবাসিক এলাকায় ৫তলা বাড়ির নীচে রাসায়নিক দ্রব্যে কারখানা থেকে এই অগ্নিকান্ডের সূত্রপাত হয়।
স্থানীয় বাসিন্দরা ক্ষোভের সাথে জানান কি করে প্রশাসনের নাকের ডগায় একটি আবাসিক এলাকায় রাসায়নিক দ্রব্যাদির গোডাউন ও কারখানা থাকতে পারে? এর আগেও ২০১০ সালের ৩ জুন রাজধানীর নিমতলীতে একই ধরণের দুর্ঘটনায় ১১৭ জন মানুষ
নিহত হয়েছিল, এ সত্ত্বেও কর্তৃপক্ষ আবাসিক এলাকায় রাসায়নিক কারখানা ও গুদাম বিষয়ে যথাযথ পদক্ষেপ নেয়নি। আইনত বিধি নিষেধ থাকা সত্তে¡ও আবাসিক এলাকায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ রাসায়ানিক দ্রব্যের গোডাউন ও কারখানার অনুমতি দিয়েছিল। উভয় পক্ষই এই অপরাধের জন্য দায়ী। কাজেই বাম ঐক্য ফ্রন্ট মনে করে এই অগ্রিকাণ্ড নিছক দূর্ঘটনা নয়, মূলতঃ হত্যাকান্ড।