ব্যাটিংয়ের পর বোলিংয়েও ব্যর্থ

8

ব্যাটসম্যানরা রান করতে ব্যর্থ, বোলাররা ব্যর্থ উইকেট নিতে। ফলে যা হওয়ার, তা-ই হলো।
নেপিয়ারে প্রথম ওয়ানডেতে নিউজিল্যান্ডের কাছে অসহায় আত্মসমর্পণ বাংলাদেশের। টসে জিতে আগে ব্যাটিং করার পর ২৩৩ রানে অল আউট, এরপর সেই রান প্রতিপক্ষ তুলেছে বলতে গেলে বিনা বাধায়! মার্টিন গাপটিলের শতরানের সঙ্গে হেনরি নিকোলসের অর্ধশত আর রস টেলরের অপরাজিত ৪৫ রানে ৩৩ বল ও ৮ উইকেট হাতে রেখেই জিতিয়েছে ব্ল্যাকক্যাপদের।

মাস পাঁচেক আগে, এশিয়া কাপের ফাইনালে ২২২ রানের পুঁজি নিয়েও দারুণ লড়ে শেষ বল পর্যন্ত নাটকীয়তা ধরে রেখেছিল বাংলাদেশ। নেপিয়ারে, ১১টি রান বেশি নিয়েও মাশরাফি বিন মর্তুজার দল হেরেছে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায়। যদিও টসটা জিতে সফরের শুরুটা হয়েছিল আশা জাগানিয়া। ম্যাট হেনরির করা ম্যাচের প্রথম বলটাকেই লেগ সাইড দিয়ে সীমানার বাইরে পাঠিয়েছিলেন তামিম ইকবাল। কিন্তু পরের দুটি বলেই বোঝা গেছে অস্বস্তিটা।

বিপিএলে সবশেষ ম্যাচে শতরান করে নিউজিল্যান্ডে পাড়ি জমালেও স্বল্প প্রস্তুতিতে যে নিউজিল্যান্ডের গতিশীল ও বাউন্সি উইকেটে বোলারদের সামলাতে সমস্যা হচ্ছিল তামিম ও লিটন দাশের। ম্যাচের দ্বিতীয় ওভারে ট্রেন্ট বোল্টের দ্বিতীয় বলেই উইকেটের পেছনে ক্যাচ দেন তামিম। তাঁর বিদায়ে সৌম্য এসে সাহসী শট খেলতে শুরু করলেও বেশিক্ষণ চলেনি তর্জন-গর্জন। হেনরির বলে উড়িয়ে মারতে গিয়ে সোজা আকাশে তুলে দেন, ক্যাচটাও ধরেন বোলারই। এর আগে অবশ্য মুশফিকুর রহিম প্লেইড অন হয়ে গেছেন আর ব্যাট ও প্যাডের মাঝে বিশাল ফাঁকা রেখে খেলতে গিয়ে বোল্ড হয়েছেন লিটন দাশ। ৪২ রানে ৪ উইকেট পতনের পর সেই পুরনো আশঙ্কাই উঁকিঝুঁকি মারতে শুরু করে। মাহমুদ উল্লাহকে মাঠের আম্পায়ার আউট দিলে যেটা আরো দানা বাঁধে। রিভিউতে বেঁচেছেন মাহমুদ; বাউন্সারে বল লেগেছিল তাঁর কাঁধে, গ্লাভসে নয়।

জীবন পেয়েও বেশি দূর এগোতে পারেননি মাহমুদ। নানা বিতর্কের মুখে দলে ফেরা সাব্বির রহমানও ওয়াইড বল তাড়া করতে গিয়ে পা ফসকে স্টাম্পিংয়ের শিকার। মান বাঁচিয়েছেন মোহাম্মদ মিঠুন আর সাইফউদ্দিন। নবম উইকেটে এই দুজনের ৮৪ রানের জুটিতেই দুই শ পার করে বাংলাদেশ। মিঠুন করেন ৬২ রান আর সাইফউদ্দিন আউট হন ৪১ রানে। মেহেদী মিরাজের ২৬ রানের অবদানও কম নয়। ৪৮.৫ ওভারে ২৩২ রানে অল আউট বাংলাদেশ। শুরুর ধাক্কাটা দিয়েছেন বোল্ট ও হেনরি আর শেষটা করেছেন লোকি ফার্গুসন ও মিচেল স্যান্টনার। তাঁরাই ভাগাভাগি করেছেন বাংলাদেশের ১০ উইকেট।

যে উইকেটে বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানরা রানের জন্য মাথাকুটে মরেছেন, সেখানেই কিনা গাপটিল আর হেনরি নিকোলস মিলে এমন গেঁড়ে বসলেন যে তাঁদের আলাদাই করা যাচ্ছিল না! গাপটিলকে শেষ পর্যন্ত আউটই করা যায়নি, ১১৬ বলে অপরাজিত ছিলেন ১১৭ রানে। ৮টি বাউন্ডারির সঙ্গে নিউজিল্যান্ডের ইনিংসের ৪টা ছক্কাই এসেছে গাপটিলের ব্যাট থেকে। নিকোলসকে ব্যক্তিগত ৫৩ রানে যখন বোল্ড করেন মিরাজ, ততক্ষণে দুই উদ্বোধনী ব্যাটসম্যানের শতরানের জুটি হয়ে গেছে। খানিক বাদে কেন উইলিয়ামসনকে মাহমুদ এলবিডাব্লিউর ফাঁদে ফেললে খানিকটা স্বস্তির ফুলকি জ্বলে বাংলাদেশ শিবিরে। কিন্তু সেটা আর আলোর মশাল হয়ে ওঠেনি রস টেলরের ব্যাটের দৃঢ়তায়। অভিজ্ঞ এই ব্যাটসম্যান আর কোনো বিপদ ঘনাতে দেননি। ৪৯ বলে ৪৫ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলে সেঞ্চুরিয়ান গাপটিলকে দিয়েছেন যোগ্য সংগত। ৪৫তম ওভারের দ্বিতীয় বলে, মাশরাফির বলে ছক্বা মেরে দুই দলের রান সমান করেন গাপটিল, পরের বলে এক রান নিয়ে নিশ্চিত করেন নিউজিল্যান্ডের জয়।

দেশে থাকতেই কোচ স্টিভ রোডস বলেছিলেন, ‘বিপিএল কোনোভাবেই নিউজিল্যান্ড সফরের আদর্শ প্রস্তুতি নয়।’ মাঠের খেলাতেও সেই ছাপ স্পষ্ট। পেস বোলিংয়ের বিপক্ষে ব্যাটসম্যানদের যেমন দুর্বলতা স্পষ্ট হয়ে ফুটে উঠেছে, তেমনি বোলিংটাও দেখিয়েছে ভোঁতা। সাকিব আল হাসানের অবর্তমানে উইকেট নেওয়ার মতো বোলার যে নেই দলে, সেটা স্পষ্ট হলো আরো একবার। এমন কন্ডিশনে রুবেল হোসেনকে বসিয়ে রাখার সিদ্ধান্তটাও যৌক্তিক নয়, একই সঙ্গে অনেক কাটখড় পুড়িয়ে ফেরা সাব্বিরও নিজের পক্ষে তুলে ধরতে পারলেন না জোরালো যুক্তি।

মাশরাফি শুধু বললেন কন্ডিশনই গড়ে দিয়েছে পার্থক্য, ‘এ রকম কন্ডিশনে মানিয়ে নিতে অন্তত এক সপ্তাহ সময় দরকার। কোনো অজুহাত দিতে চাই না। ব্যাটিং নিয়ে অনেক কাজ করতে হবে।’

১৬ ফেব্রুয়ারি পরের ওয়ানডে ক্রাইস্টচার্চে, যে ম্যাচটি হারলে সিরিজটাই হবে হাতছাড়া।-কালেরকন্ঠ