চাষযোগ্য জমি রক্ষায় মাস্টার প্ল্যান করুন

1

যত্রতত্র ভবন, রাস্তা ও অন্যান্য অবকাঠামো নির্মাণ রোধ এবং কৃষিজমি রক্ষার লক্ষ্যে সব উপজেলাকে সুনির্দিষ্ট উন্নয়ন পরিকল্পনার আওতায় নিয়ে আসার জন্য একটি মাস্টারপ্ল্যান প্রণয়নে এলজিআরডি মন্ত্রণালয়কে নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেছেন, ‘জনগণের অর্থ সাশ্রয় ও কৃষিজমি রক্ষায় উপজেলাগুলোতে অপরিকল্পিত উন্নয়ন অবশ্যই নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। রাস্তা ও চলাচলে পরিকল্পিত হতে হবে।’

গতকাল রবিবার সচিবালয়ে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয় পরিদর্শনকালে প্রধানমন্ত্রী এ নির্দেশ দেন। তিনি বলেন, ‘মাস্টারপ্ল্যানের লে-আউটে আবাসন, হাসপাতাল, মার্কেট, স্কুল-কলেজ, খেলার মাঠ, কৃষি খামার, শিল্প-কারখানা এবং অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা থাকতে হবে। আমরা যদি যথাযথভাবে এটি করতে পারি, তাহলে জনগণ এটি গ্রহণ করবে।’

৬০টি জেলা গঠনে বঙ্গবন্ধুর উদ্যোগের কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘উন্নয়ন কার্যক্রম ছড়িয়ে দিতে বঙ্গবন্ধু প্রতিটি জেলাকে একটি প্রশাসনিক ইউনিট হিসেবে তৈরি করেন। যাতে তৃণমূল পর্যায় থেকে আমরা উন্নয়ন নিশ্চিত করতে পারি।’

শেখ হাসিনা বলেন, জনগণের দোরগোড়ায় সেবা পৌঁছে দিতে এবং সরকারি অর্থের সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করে স্থানীয় জনগণের চাহিদা পূরণে সরকার পৃথকভাবে প্রতিটি জেলা-উপজেলায় বার্ষিক বাজেট প্রণয়ন করছে।

এতে প্রতিটি উপজেলার আকার, জনসংখ্যা এবং ভৌগোলিক সম্ভাবনা বিবেচনায় রাখা হচ্ছে। দেশের উন্নয়নে এলজিআরডি মন্ত্রণালয়ের গুরুত্ব তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলো শক্তিশালীকরণ, তাদের স্থানীয় সরকার উন্নয়ন উদ্যোগে সম্পৃক্ত করা এবং সব উন্নয়নকে টেকসই করার লক্ষ্যে তাঁর সরকার প্রশাসনের বিকেন্দ্রীকরণ করতে চায়। তিনি বলেন, ‘আমরা সর্বোচ্চ বরাদ্দ দিয়েছি এলজিআরডি মন্ত্রণালয়কে। এলজিআরডি মন্ত্রণালয় যদি যথাযথভাবে কাজ করে, তাহলে আমরা ব্যাপক আকারে দারিদ্র্য নিরসন করতে সক্ষম হব। দেশকে যদি আমরা দারিদ্র্যমুক্ত করতে পারি, তাহলে দেশ দ্রুত এগিয়ে যাবে।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, তাঁর সরকার শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা ও অন্যান্য খাতে উন্নয়নের সার্বিক পরিকল্পনা গ্রহণ করছে। তবে গ্রাম ও শহরে বসবাসকারী মানুষের মৌলিক চাহিদা বিবেচনা করে পরিকল্পনা নিতে হবে।

শেখ হাসিনা বলেন, চাষযোগ্য সব জমি যেন চাষের আওতায় আসে এবং পল্লীর মানুষের আয় বাড়াতে তারা যেন সমবায় ব্যবস্থায় তাদের পণ্য বিক্রি করতে পারে—এ লক্ষ্যে একটি বাড়ি একটি খামার প্রকল্প নেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, সামরিক শাসকরা বিজয়ী জাতি হিসেবে জনগণের আত্মশক্তি ধ্বংস করে দিয়েছে। এ জন্য তারা তাদের নিজ অবস্থান থেকে দেশের জন্য কাজ করতে উৎসাহী ছিল না। এর ফলে বাংলাদেশ সারা বিশ্বে নেতিবাচকভাবে চিত্রায়িত হয়েছে।

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান দেশের মানুষের মুখে হাসি ফোটাতে দেশ স্বাধীন করেছেন। কিন্তু তিনি এই স্বপ্ন বাস্তবায়ন করে যেতে পারেননি। এ জন্য দেশকে সমৃদ্ধির দিকে এগিয়ে নিতে হলে আমাদের পল্লী এবং দেশের তৃণমূল পর্যায়ের মানুষের উন্নয়নে গুরুত্ব দিতে হবে।

এলজিআরডি ও সমবায় মন্ত্রী মো. তাজুল ইসলাম অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন। প্রতিমন্ত্রী স্বপন ভট্টাচার্য, সচিব এস এম গোলাম ফারুক এবং মন্ত্রণালয় ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সিনিয়র কর্মকর্তারা এ সময় উপস্থিত ছিলেন।-কালেরকন্ঠ