খুব সাধারণের মাঝেই লুকিয়ে আছে কঠিন অসাধারণত্ব!!!

6

ইঞ্জিঃ সরদার মো: শাহীনঃ পত্রিকার সম্পাদকীয়তে সাধারণত খুব কঠিন কথা লেখা ঠিক না। কঠিন লেখা পাঠক পছন্দ করে না; পড়তেও চায় না। জমানা বদলেছে। তাই বিশেষ কোন শ্রেণীর পাঠক নয়; মোটামুটি সবশ্রেণীর পাঠকের ক্ষেত্রেই কথাটি প্রযোজ্য। এটা বোঝার পরেও মাঝে মাঝে আমাদের সম্পাদকীয় কলামটি কঠিন হয়ে যায়। কখনো ইচ্ছায় যায়, কখনো ইচ্ছার বাইরেও যায়। সিচুয়েশন ডিমান্ড করার কারণেই এমনটা হয়। তবে যে কারণেই হোক আমার লেখা পরপর দুটি সম্পাদকীয় একটু কঠিন হয়ে গেছে। বিষয়টি লেখার সময়ই বুঝতে পারছিলাম এবং বোঝার পরেও কী মনে করে যেন ছাপিয়েও ফেলেছিলাম।
তবে ছাপাবার আগে একটু ভয়তেও ছিলাম। খড়গ নামার ভয়। এই বুঝি খড়গ নামলো বলে হালকা পাতলা প্রহর গুণছিলাম। পা না কাঁপলেও বুকের বামপাশটা কেঁপেছে। দুকদুক করে কেঁপেছে। যেভাবে বাংলার রাজনীতির আকাশের বাঘাবাঘা বাঘের দল জীবন সায়াহ্নে এসে ভীমরতির নেশায় বেড়ালের মত মিউমিউ করছিলেন তাতে প্রহর না গুণে উপায়ও ছিল না। সে কী হাম্বিতাম্বি! খবর আছে, দেখে নেবো, খামোশ, পালাবার পথ পাবে না, আরো কত কি! ভাগ্যিস নামেনি। তাঁরা বাঘের মত যতই গর্জন করেছেন বেড়ালের মত ততই মিউমিউ শুনিয়েছে।
তবে খড়গ যে একেবারেই নামেনি সেটাও ঠিক নয়। নেমেছিল। কিন্তু যাদের কাছ থেকে নামার ভয় ছিল, তাদের কাছ থেকে নামেনি। নেমেছে আমার শোনিমের মত ছোট্ট ছোট্ট সোনামনিদের কাছ থেকে। আমার সবচেয়ে শক্তির জায়গা এই সোনামনিরা। আমাদের পত্রিকাটি দেখতে যেমনি ছোট্ট; তেমনি এর আছে ছোট্ট ছোট্ট পাঠক এবং পাঠিকাদের দল। লক্ষ্য করে দেখেছি, বড়রা সাপ্তাহিক সিমেক নিয়মিত না পড়লেও ছোটরা পড়ে। খুব মন দিয়েই খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে পড়ে।
বড়রা যে একেবারেই খুঁটিয়ে পড়ে না, সেটাও নয়। আমার এক বাল্যবন্ধু আছে। আমার ভাল বন্ধুদের মাঝে সেও অন্যতম। আর কেউ না পড়লেও সে খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে পড়বেই। পড়ার সময়ও আছে তার মেলা। সরকারী আমলা। হয়ত তাই সবকিছুতেই কিন্তু খোঁজে। লক্ষ্য করে দেখেছি, ওর এভাবে পড়ার উদ্দেশ্য যতনা লেখার গভীরে যাওয়া, তার চেয়ে ঢের বেশী জীবিত এই আমার পোস্টমর্টেম করা। খুব সাবধানে এবং কৌশলে লুকিয়ে রাখা আমার রাজনৈতিক দর্শন এবং বিশ্বাসকে যেভাবেই হোক বের করে এনে আমাকে নিয়ে ওর এতদিনকার বিশ্বাসকে বিশ্বাসযোগ্য করা।
বন্ধু আমাকে একবার পেয়েই বসলো। আমার কোন এক লেখায় ওর বিশ্বাসের ষোলকলা পূর্ণ হলো। ব্যাস! আর যাই কোথায়! “পাইছি তোমারে! এইবার চান্দু তুমি ধরা খাইছো!!” বলে সে কী হাম্বিতাম্বি। বন্ধুটি আমার এই রকমই। ধরো, মারো এবং শেষ করো। সেবার আমাকে শেষ করে য়েমুছে একেবারে সাফ করে দিল। ধামাধাম লেখার অনলাইন সাইটে কমেন্ট ছেড়ে দিল। জিনিস একটা এই অনলাইন। সবাই এখানেই পড়ে আছে। আমার বন্ধুটিও মেলা সময় অনলাইনে কমেন্টের উপরই থাকে। আর যেখানে যা ভাল কিছু পায় আমাকে ইনবক্স করে। খারাপ কিছু পেলেও পাঠাতে ভুল করে না।
ক’দিন আগে ঘুমুতে যাবার আগেও পাঠালো। পরে দেখবো ভেবে আড়চোখে কেবল টাইটেলটা দেখে রাখছিলাম। কিন্তু এভাবে দেখতে যেয়ে আধো ঘুম চোখে হলেও একেএকে পুরো লেখাটিই শেষ করে ফেলি। শেষ না করে উপায়ও ছিলনা। লেখাটি দারুণ; এবং বেশ ইন্টারেস্টিং। আমার কাছে খুব প্রেরণামূলক মনে হলো। মনে হলো বিষয়টি শেয়ার করা যায়। আর তাই পাঠকদের সাথে শেয়ার করার লোভও সামাল দিতে পারলাম না বিধায় আমার মত করে সাজিয়ে সম্পাদকীয়তে টেনে আনলাম।
একজন লোকের মাথায় গুনে গুনে আটটা চুল ছিল। একদিন তিনি সেলুনে গেলেন। কোন কারণে নাপিত মহাশয়ের তখন মেজাজ খারাপ। লোকটি চুলের দিকে ইঙ্গিত করতেই নাপিত জানতে চাইলেন, কী ভাই, কাটবো না গুনবো? লোকটি তখন হেসে উত্তর দিলেন, না ভাই ওসব না, চুলগুলো রাঙ্গিয়ে দিন প্লিজ। লোকটার সখের নমুনা দেখে নাপিত খিটখিট করে হেসে ফেলল। কিন্তু লোকটি না হেসেই বললো, এর মাঝে দুঃখ পাবার কিছু নেই। আবার হাসিরও কিছু নেই। আছে উপভোগের বিষয়। জীবনটা হলো পূরোপুরি উপভোগের। তাই যতটুকু আছে তা নিয়েই হাসিমুখে জীবনটা উপভোগ করতে হয়।
নাপিত বেটা চুপ। চুপ তো হবেই। কেননা কথাগুলো আসলেই ভাববার মত। “জীবন মানেই যন্ত্রনা” ভেবে ভেবে আমরা যারা প্রায় শেষ হয়ে যাচ্ছি তাদের জন্য ভাববার বিষয় তো বটেই। ক্ষুদ্র এই জীবনের সকল সুখ নষ্ট করে STRESSED নামক অতীব গুরুত্বপূর্ণ অথচ গুরুত্ব না পাওয়া এক ব্যাধি। এর মত ফাজিল ব্যাধি আর হয় না। এটা যে কিভাবে জীবনকে তিলে তিলে শেষ করে দেয় তা আমরা অনুমানও করতে পারিনা। তাই এটা নিয়ে ভাবার সময় হয়েছে।
যদি কখনো ঝঞজঊঝঝঊউ ফিল করেন তবে সবকিছু থেকে সাময়িক বিরতি নিন। এটার মোকাবেলা করার জন্যে তৈরী হন। কাজটি খুব জটিল নয়। STRESSED কে একটানে উল্টে ফেলুন; আনন্দ করুন, ফূর্তি করুন। হৈহৈ রৈরৈ করুন। মজা করার মাত্রাটা বাড়িয়ে দিন। দেখবেন সব কিছু আপনার অনুকুলে আসতে সময় লাগছে না। খাওয়া দাওয়া বাড়িয়ে দিন। ফালুদা, কোপতা কিংবা ফলফলাদিও খান। এসব কেন খাবেন? STRESSED শব্দটাকে জাস্ট উল্টো করে লিখে দেখুন; উত্তরটা পেয়ে যাবেন। STRESSED কে উল্টো করে লিখলে সেটা DESSERTS ই হয়।
ভারী আশ্চর্য্যরে এক অদ্ভুত বিষয়। অ™ু¢ত বিষয় আরো আছে। সারাক্ষণ আমরা ইংরেজী বর্ণমালা নিয়ে চলি। শব্দ বানাই, বাক্য বানাই। কিন্তু এসব নিয়ে ভাবি না। এখানেও মজার সব বিষয় আছে। জীবনের প্রতিটি মূহুর্তের জন্যে সংগী করে নিন ইংরেজী বর্ণমালার প্রতিটি অক্ষর। দেখবেন এখানেও মজার জিনিস, মজার পরামর্শ কিংবা নির্দেশনা লুকিয়ে আছে। চলুন বর্ণমালাগুলোকে একটু ভিন্নভাবে ঘুরিয়ে ফিরিয়ে দেখি;
A B C – Avoid Boring Company (বিরক্তিকর সহচার্য এড়িয়ে চলুন)
D E F – Don’t Entertain Fools (মূর্খদের গুরুত্ব দিবেন না)
G H I – Go for High Ideas (উচ্চ ধারণার খোঁজ করুন)
J K L M – Just Keep a friend Like Me (শুধু আমার মত একটি বন্ধু রাখুন)
N O P – Never Overlook the Poor (দরিদ্রদের কখনো অবজ্ঞা করবেন না।)
Q R S – Quit Reacting to Silly tales (অযথা বাজে কথায় প্রতিক্রিয়া দেখাবেন না)
T U V – Tune Urself for Victory (নিজেকে বিজয়ের জন্য প্রস্তুত করুন)
W X Y Z – We Xpect You to Zoom ahead in life (আমরা আশা করি তুমি জীবনে এগিয়ে যাবে)
দেখলেন তো! খুব ইন্টারেস্টিং না! বেশ ইন্টারেস্টিং। তবে এখানেই শেষ নয়। আরো আছে। জীবনকে সুন্দর করতে হলে লক্ষ্য স্থির করতে হবে। এবার লক্ষ্য স্থিরের পালা। জীবনের লক্ষ্য স্থিরের জন্যে দূরে কোথায়ও যেতে হবে না। আপনার আশেপাশেই আছে। একটু হাত বাড়িয়ে সাজিয়ে নিন মৌলিক সব সংখ্যাগুলোকে (৯৮৭৬৫৪৩২১০)। দেখবেন কত সুন্দর ভাবে এখানে লুকিয়ে আছে আপনার কাঙ্খিত পুরো জীবনের সমাধানের বার্তা।
৯ – খাওয়ার পানি প্রতিদিন ৯ গ্লাস করে খান।
৮ – প্রতিদিন ঘুমাবেন ৮ ঘন্টা
৭ – পরিবার নিয়ে ঘুরে আসুন বিশ্বসেরা ৭টি আশ্চর্য্য স্থান
৬ – মাসিক আয় রোজগার দরকার ৬ ডিজিটের
৫ – দরকার ৫ কর্ম দিবসের সপ্তাহ
৪ – চার হুইলের বাহন
৩ – তিন বেডরুমের ফ্ল্যাট
২ – দুটো ফুটফুটে বাচ্চা
১ – মনের মত একজন প্রেয়সী
০ – তাহলেই দুশ্চিন্তাহীন সুন্দর জীবন!
জানিনা কে মিলিয়েছেন এসব! জানি না কার অবচেতন মনে এভাবে নাড়া দিয়েছে। তবে বিষয়টি উড়িয়ে দেবার মত নয়। ভাববার মত উপকরণ আছে এতে। আমার বেশ মনে ধরেছে। হয়ত বিষয়টি খুবই সাধারণ। কিন্তু একটু লক্ষ্য করলেই দেখবেন, এই খুব সাধারণের মাঝেও লুকিয়ে আছে কঠিন এক অসাধারণত্ব!!! আমরা সব সময় এমনই সব অসাধারণত্ব নিয়েই বাস করি। কিন্তু এসব জানি না বলেই সবকিছুই খুবই সাধারণ মনে হয়।-লেখকঃ উপদেষ্টা সম্পাদক, যুগবাতা।