খবরঅলার বাঁকা চোখে

3

সৈয়দ শাখওয়াত জামানঃ চিৎকার আর্তনাদে কেঁপে উঠে যৌন্যপল্লীর খুপরি ঘরগুলো। বশ না হওয়া যৌন্য কর্মীদের উলঙ্গ করে তালা মেরে রাখে। এভাবে রাখার কারন হলো নির্যাতিত যৌন্যকর্মী যেন পালিয়ে যেতে কিম্বা আত্বহত্যা করতে না পারে । এটা কোন গল্প নয় বাস্তব কাহিনী।
যৌন্য কর্মীদের দাসত্ব জীবনের এমন ঘটনা প্রতিনিয়ত ঘটছে রানীগঞ্জসহ দেশের বিভিন্ন পতিতালয়ে।

গার্মেন্টসসহ নানা লোভনীয় কাজের প্রলোভন দেখিয়ে দালালরা পতিতালয়ের নারী ব্যবসায়ী সর্দারনীদের কাছে বিক্রি করছে। কেউবা মিথ্যা প্রেমের প্রতারনায় পড়ে প্রেমিকের হাত ধরে ঘর বাঁধার বদলে হচ্ছেন অন্ধকার গলির বাসিন্দা। রাস্তাঘাটে দালালদের খপ্পরে পড়েও ঢুকছে অবাধে। সমাজ পতিতা বানিয়ে ঠেলে দিচ্ছে পতিতাপল্লীতে। ফাঁদে আটকে যাচ্ছে শিশুরাও।
পতিতালয়ে আসা নতুন অপ্রাপ্ত বয়স্ক মেয়েদের মোটা ও হওয়ার বিশেষ বড়ি খাওয়ানো শুরু করে। তাদেরকে পতিতালয়ের বাড়ী মালিক বা সর্দারনীদের বাওড়াদের(বিশেষ স্বামী) শহরের বাইরের বাড়ীতে নিয়ে যায়। এই বিশেষ বাড়ীই হলো ট্রেনিং সেন্টার বলতে পারেন টর্চার সেলও। সেখানে শহরের প্রভাবশালীদের দাওয়াত করে নিয়ে মোটা অংকের অর্থের বিনিময়ে ওই নতুন মেয়েকে ধর্ষন করায়। কর্তা ব্যক্তিদের জন্য উপঢৌকন। নিজেকে সপে দিতে রাজি না হলে দিনরাত চলে টর্চার। অত্যচার নির্যাতনের এক পর্যায়ে দুর্বল হয়ে বাধ্য হয় দেহদানে। সেখানে কিছুদিন রাখার পর নোটারী পাবলিকের মাধ্যমে বয়স ও নতুন নাম পরিচয়ে এফিডেফিট করিয়ে স্থান হয় পতিতালয়ে। এদেরকে বেছে বেছে খদ্দের দেয় সর্দারনীরা। রেটও অনেক বেশী। ঘরে খদ্দের গেলে বেশীক্ষন অবস্থান করতে দেয়না। থাকে বিশেষ নজরদারী। খদ্দেরের মাধ্যমে বাইরে খবর যেন না যায়। দিনের বেলায় নজরদারী রাতের বেলায় নতুন মেয়েদের উলঙ্গ করে তালা মেরে রাখে। শুধুকি খদ্দের আশপাশের৷ পুরনো যৌন্য কর্মীদের সাথে কথা বলতে দেয়না। এত নজরদারীর মধ্যেও অনেক খদ্দেরের কাছে বন্দি জীবনের কাহিনী খুলে বলে হাত-পা ধরে নির্যাতিতা নারী ও নাবালক কন্যা শিশুরা। খদ্দেরের মাধ্যমে বাইরে খবর ফাঁস হয়ে পতিতালয় থেকে বন্দি নারী উদ্ধারের ঘটনাও রয়েছে অনেক।
সারাদিন যা আয় হয় তা সর্দারনীকে দিতে হয়। একটি টাকা এদিক সেদিক হলে মারধর মানে পান থেকে চুন খসলেই নেমে আসে নির্যাতন। কন্ট্রোলে রাখার জন্য ছয়মাস এক বছর নির্যাতনের মুখে রাখে। অনেকের ক্ষেত্রে এর চেয়েও বেশী সময়। একটা পর্যায়ে বশ হয়ে গেলে একটু একটু পতিতালয়ের অভ্যন্তরে বের হওয়ার অনুমতি মেলে বন্দী যৌন কর্মীদের। একেকটা মেয়ের একেক রকম করুন জীবন কাহিনী নাটক সিনেমাকেও হাড় মানাবে। যৌন্যকর্মীদের বন্দী দাসত্বজীবন থেকে মুক্তি মিলবে কবে? জামালপুরের রানীগঞ্জসহ দেশের পতিতালয় গুলোতে মুক্তির প্রতিক্ষায় চেয়ে আছে হাজার হাজার যৌন্যকর্মী। করবে কে? শিকল ভাঙার গান যারা গাইবে টাকার গোলাম হয়ে নিজেকে অাত্বসমর্পন করেছে নারী ব্যবসায়ী বা সর্দারনীর পায়ের তলে। প্রিয় পাঠক আমার বাঁকা চোখের লেখা ভাল লাগলে পরের লেখা পড়ার রইলো নিমন্ত্রন। পরের পর্বে আসছে গৃহকর্মীর দাসত্ব জীবন। বেঁচে থাকলে এই বিষয়টি নিয়ে হাজির হবো, শুধু একটু অপেক্ষা।-লেখক: পান্থ পথিক, কানাগলি থেকে(ফেইসবুক)