আজ থেকে এক টাকাও খেলাপি ঋণ বাড়বে না–অর্থমন্ত্রী

19

যুগবার্তা ডেস্কঃ আজ থেকে আর এক টাকারও খেলাপি ঋণ বাড়বেনা। এবং এখন পর্যন্ত যে পরিমান খেলাপী ঋণ রয়েছে তাও ধীরে ধীরে কমিয়ে আনা হবে। বৈঠকে বসার আগেই আমার শর্ত ছিল একটা। কোন কিছু আলাপ করার আগে আমার এক দফা। আজকের পর থেকে খেলাপি ঋণ এক টাকাও বাড়তে পারবে না। আপনারা কিভাবে বন্ধ করবেন, কিভাবে টেককেয়ার করবেন, কিভাবে ম্যানেজ করবেন আপনাদের ব্যাপার। তারা আমাকে আশ^স্ত করেছেন। তাই বলেছি আজকের পর থেকে খেলাপি ঋণ বাড়বে না ইনশাল্লাহ। ব্যাংকিং খাত নিয়ে আলোচনা করেছি। তারাই ব্যাংকের মালিক। সবাই প্রায় এসেছেন। তাদের সঙ্গে যেসব আলোচনা হয়েছে তার মধ্যে অন্যতম হচ্ছে, আপনাদের কাছ থেকে ব্যাংকিং খাতের যেসব তথ্য পাওয়া গেছে সেগুলো ভেরিভফাই করবো, এভালুয়েট করবো, মূল্যায়ন করবো। এ জন্য দায়িত্ব দেয়া হয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক এবং আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগকে। এই মূল্যায়ন শেষ হলে আমরা একটি ব্যবস্থায় যাব। মাননীয় অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল  আজ রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে অর্থমন্ত্রীর দপ্তরে ব্যাংকার্স এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের নেতাদের সঙ্গে বৈঠক শেষে এসব কথা বলেন।

বৈঠকে এসোসিয়েশনের সভাপতি নজরুল ইসলাম মজুমদার, আইএফআইসি ব্যাংকের চেয়ারম্যান  সালমান এফ রহমান, প্রিমিয়ার ব্যাংকের চেয়ারম্যান এইচ বি এম ইকবালসহ ব্যাংক মালিকরা উপস্থিত ছিলেন।

মাননীয়মন্ত্রী আরো বলেন, আমরা একটি জায়গায় ঐক্যমতে পৌছেছি, মূল যে এলাকা  মূল যে চিন্তা সেটি হচ্ছে ননপারফরমিং লোন। এটি আপনাদের উৎকন্ঠা, জাতির উৎকণ্ঠা, আমাদের উৎকন্ঠা এবং আমার উৎকন্ঠা, তবে আমার উৎকন্ঠা কিছুটা কম। কেননা এরই মাঝে আমি দেখেছি যেভাবে যে পরিমান  পত্রপত্রিকায় লেখা হয়, সেপরিমান ননপারফরমিং লোন না। দেশে ননপারফরমিং লোনের হার ১১ থেকে ১২ শতাংশ। এর চেয়ে অন্যান্য দেশে আরো বেশী। আমাদের পাশের দেশ ভারতেও আরো বেশী। ননপারফরমিং লোন কমলে বাংক সুদের হার কমে যাবে, সুতরাং এটা কোনভাবেই বাড়তে দেওয়া হবেনা। ননপারফরমিং লোন এখনো ম্যানেজেবল। আর এই ম্যানেজেবল লোন আর বাড়তে পারবে না। এখানে যারা এসেছেন তারা নিশ্চিত করেছেন খেলাপি ঋণ আর বাড়বে না বরং যা আছে সেটিও ধীরে ধীরে কমাবেন। কিভাবে কমাবেন সেটি পরবর্তী মিটিং এ বসে সিদ্ধান্ত নেব। এটিই আলোচনার মূল বিষয়ছিল। যেহেতু খেলাপি ঋণ হয়েই গেছে। সে বিষয়ে তারাই আমাকেও তথ্য দেবেন  কি পরিমান, কোন ব্যাংকের কতটা খেলাপি ঋণ আছে। কার কাছে কতটা পাওয়া যাবে, এর মধ্যে কতটা আসল কতটা সুদ কোন অবস্থায় আছে। ঋণের বিপরীতে তাদের সমপাশি^ক অবস্থাও পরীক্ষা করে দেখা হবে।
তাদের তথ্য আমাদের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সঙ্গে মিলিয়ে দেখে সঠিক কাজটি শুরু করতে পরবো, যথাযথভাবে করতে পারবো।
সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে মাননীয়মন্ত্রী বলেন, যারা ব্যবসা করে বাংলাদেশে তারা সবাই প্রভাবশালী। পৃথিবীতে যারা ব্যবসা বাণিজ্য করেন সবাই প্রভাবশালী। প্রভাবশালী দুরকম যারা রাজীতি করেন তারাও প্রভাবশালী, যারা ক্রিকেট ভাল খেলে তারাও প্রভাবশালী, ব্যবসা বাণিজ্য যারা করে তারাও প্রভাবশালী। ব্যবসায়ীরা যদি প্রভাবশালী না হয় তাহলে বিনিযোগ কিভাবে আসবে। কোথা থেকে  কর্মসংস্থান হবে, কিভাবে হবে, দারিদ্র্য কিভাবে কমবে। প্রভাবশালী যারা যারা ব্যবসাবাণিজ্য করে তারা অর্থনীতির ৮২ শতাংশ। এদেরকে বাদ দিয়ে ১৮ শতাংশ নিয়ে অর্থনীতি সাজানো সম্ভব নয়। এটা করতে চাওয়াটাও একটা অবাস্তব চিন্তা। তাদেরকে ব্যবসা করতে সকল সুযোগ সুবিধা প্রদান করা হবে ঋণখেলাপি না হয়ে।